ইবিতে মধ্যরাতে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি: ছাত্রীদের আন্দোলন

প্রকাশিত: ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাত ১০টা থেকে হলের প্রধান ফটকে আন্দোলন করে তারা।

হলের ছাত্রীদের প্রতি প্রভোস্টের খারাপ ব্যবহার, হুমকি, প্রভোস্টের স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজনৈতিক হয়রানির কারণে বাধ্য হয়ে আন্দোলন করেছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এবং প্রক্টররের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যর সঙ্গে কথা বলতে চায়। রাত সোয়া ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী হলে আসেন। তবে হল প্রভোস্ট বা হলের কোনো সহকারী প্রভোস্ট ঘটনাস্থলে আসেননি বলে জানা যায়।

হল প্রাধ্যক্ষের অসদাচরণ, ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রভোস্টের রুম নির্মাণ–সেখানে ঢুকার অনুমতি নেই ছাত্রীদের, সিট বরাদ্দের অনিয়ম তথা একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ছাত্রীদের সিট দেয়া, মার্স্টাসে পড়ুয়া মেয়েদের ডাবলিং থাকা, ছাত্রলীগ নেত্রীদের দিয়ে হুমকি এবং অবশেষে সিট কেটে দেয়ার হুমকির প্রতিবাদে এই আন্দোলন করেন ছাত্রীরা। এসময় ছাত্রীরা “স্বেচ্ছাচারী প্রভোস্টের পতন চাই, দায়িত্বে অবহেলা আর মানবো না” ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন আন্দোলন প্রত্যাহার করে হলে ফিরে যেতে ছাত্রীদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করেন। কিন্তু ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হলের অভ্যন্তরীণ গেটে তালা দিয়ে দেয়।

আন্দোলনে ছাত্রীরা

ছাত্র উপদেষ্টা বাধ্য হয়ে ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীকে হল গেটে নিয়ে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এ সময় ট্রেজারর ও প্রক্টর সঙ্গে ছিলেন। আন্দোলনরত ছাত্রীরা জানায়, প্রভোস্ট ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

তিনি কথায় কথায় বলেন, হল কি তোমার বাবার? আমরা তার বিরুদ্ধে ভিসির কাছে অভিযোগ করায় তিনি আমাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া হলে ছিট পেতে হলের ছাত্রলীগ নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বোস রাখি কর্তৃক রাজনৈতিক হয়রানিরও শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা। ছাত্রীরা বলেন- প্রিয়াঙ্কা ছাত্রীদের বলেন, হলে ছিট পেতে হলে ছাত্রলীগ করতে হবে।

ছাত্রলীগ করলে হলে থাকতে পাবি, না করলে হল থেকে বের করে দেয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, আমরা ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এ বিষয়ে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ছাত্রীদের কথা শুনেছি। এ সময় ট্রেজারার মহোদয়ও ছিলেন। ছাত্রীরা রুমে ফিরে গেছে। তারা প্রভোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমরা আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্তে আসব বলে আশা করছি।

মুহসিন/

মন্তব্য করুন