সাংবাদিক পরিচয়ে নতুন কৌশলে চলছে মানবপাচার

প্রকাশিত: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৯

পাবলিক ভয়েস: দেশে চলছে নতুন পরিচয়ে মানবপাচার। এবার সাংবাদিক পরিচয়েও টুরিস্ট ভিসায় মানবপাচার ধরা পড়ল।মূলত দেশের বিমানবন্দর পার করতে ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের এমন পরিচয় দেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করে পাচারকারীরা। যদিও সংবাদপত্রের সঙ্গে ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা কখনোই থাকে না। আর এ কাজে কিছু ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে ‘আন্ডারগ্রাউন্ডের’ কিছু পত্রিকার সাংবাদিকও জড়িত। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ৮ অক্টোবর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিক পরিচয়ে ইস্তানবুল হয়ে গ্রিসে পাচারের সময় দুজনকে আটক করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সদস্যরা।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর মো. দুলাল খান ও মো. শাহাদাত হোসেনকে ডিপারচার চেক ইন কাউন্টার থেকে আটক করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থা। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আইন শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা।

আটক দুজনের নাম মো. দুলাল খান ও মো. শাহাদাত হোসেন। তাদের কাছে পাওয়া যায় ‘দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি’ নামের একটি সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র। বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে মূলধারার বাইরের এই পত্রিকাটির সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে গিয়েই উল্টো গোয়েন্দাদের নজরে পড়ে তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজন স্বীকার করেন, ভিজিট ভিসায় তারা বাংলাদেশ থেকে ইস্তানবুল যাচ্ছেন, পরে সেখান থেকে গ্রিসে যাবেন। দুজনেরই গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। জিজ্ঞাসাবাদে মো. শাহদাত হোসেন জানান, গ্রিসে যাওয়ার জন্য আ. রহিম নামের এক দালালের সঙ্গে ১০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে তার। প্রথমে দালাল রহিমকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন তিনি। এরপর আবার সাড়ে তিন লাখ টাকা দালাল রহিমকে দেন শাহাদাত। তখন দালাল রহিম তাকে এমএম ওহি ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এর মালিক ওসমানের কাছে নিয়ে যান।

ওসমান তাকে নয়া পল্টনে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকার নয়া পল্টনের ৮৫/১ ভবনের ৫ম তলার অফিসে নিয়ে যান। শাহাদাতের বর্ণনা অনুযায়ী, পত্রিকাটির সম্পাদক এমজি কিবরিয়া চৌধুরী তাকে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকার অফিস অ্যাসিন্ট্যান্ট এর আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড বানিয়ে দেয়।

দেখা গেছে, কখনও সংগীতশিল্পী, কখনও কবি, সাংবাদিকসহ নানা পরিচয়ে পাচারের কৌশল নেয় পাচারকারীরা। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, ভ্রমণসহ নানা কারণ দেখিয়ে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে যায়। আর ফিরে আসে না।

আই.এ/

মন্তব্য করুন