অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, আপনার প্রতি ভালোবাসা চির অমলিন

প্রকাশিত: ৯:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৯

শুরু কথা : এমন বর্ণীল রাজনৈতিক জীবন যে কোন ইসলামী রাজনৈতিকের জন্য গর্ব ও অহংকারের এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। তিনি একজন সংগঠক ছিলেন না কেবল তিনি ছিলেন ইসলামী রাজনীতির একটি মজবুত খুটি। যার দারাজ কন্ঠে বারবার উচ্চারিত হয়েছে দেশপ্রেম, ইসলামের প্রতি অমলিন ভালোবাসা এবং সময়ের সর্বোচ্চ সাহসী উচ্চারণ। রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলামকে দেখতে তিনি আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন সারাটা জীবন। বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিতে এমন অনবদ্য অবদান খুব কম মানুষেরই ছিলো এ কথা সবাই মেনে নেবে।

দীর্ঘ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকদিন ধরে। তাঁর রাজপথে ফেরার আশায় নিস্পলক তাঁকিয়ে ছিলো লাখো সংখ্যার কর্মী সমর্থক ও তাকে ভালোবাসা মানুষগুলো। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও তিনি এদেশের ইসলামপন্থীদের সকলের চোখের মণি ছিলেন। অভিবক্ত ঢাকার রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার এক মহান অভিপ্রায় নিয়ে। কিন্তু দুচোখে ক্ষুধা নিয়ে এক অসম্পূর্ণ বিপ্লবের যাত্রা সাথে করে তিনি চলে গেলেন পরপারে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে আসন দেবেন এ আশা করছি প্রভুর দরবারে।

আন্দোলন সংগ্রামে এক নির্ভিক নেতা ছিলেন তিনি। ৯০ এর দশকের ছবি।

অধ্যাপক এটি এম হেমায়েত উদ্দিন ছিলেন সবার চোখে এক অনন্য মানুষ। রাজনীতিতে থেকেও এমন ভালোবাসা আদায় করতে পারা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। ভিন্ন মতের, ভিন্ন পথের সকল রাজনৈতিকরাও তাকে সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে রাখতেন। সকলের সাথে সমন্বিত রাজনৈতিক পথযাত্রায় তার ছিলো অগ্রনী ভূমিকা। বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলমানের জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি ছিলেন আপোষহীন। ৮০-র দশকের শুরুর দিকে মাদরাসা ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন আন্দোলন করে ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড’কে একটি স্বায়ত্বস্বাসিত বোর্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠায় তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছারছিনা মাদরাসা সংকটাপন্ন হলে তৎকালীন সময়ে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এ‌ সংকট সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর সাথে যুবকদের নিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করেছেন নিরলসভাবে। ভারতে মুসলিম নিধন বন্ধ এবং বাবরী মসজিদ যথাস্থানে নির্মানের দাবীতে আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে বন্দী জীবন পার করেছেন তিনি। এছাড়াও রাজপথে তার বলিষ্ট কন্ঠস্বর সবাইকে বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। তার জীবনকর্ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য এখানে প্রকাশ করা হলো।

জন্ম ও শিক্ষা জীবন : অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দীন বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জের সন্তান। ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল আলী। তিনি ছিলেন বৃটিশ আমলের টাইটেল পাশ। তিনি ১৯৪৭ সালে বাড়িতেই প্রতিষ্ঠা করেন একটি আলিয়া মাদ্রাসা। তারা ১১ ভাই এবং ৫ বোন। এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের লেখাপড়ার শুরু তার বাবার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানেই। তারপর খুলনা শিরোমনি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পবিত্র কুরআন হেফজ করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে ঢাকায় আসেন পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিদে তারাবি পড়াতে। পরে ঐ মসজিদে ইমামতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ঢাকা আলিয়ায় লেখাপড়া করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অধ্যয়ন করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে পশ্চিম রাজাবাজার হেফজখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আবুজর গিফারি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। কিছুদিন তার পিতার প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি রামপুরা একরামুন্নেছা ডিগ্রি কলেজ, ঢাকায় অধ্যাপনা করছেন।

একটি সংগ্রামমূখর জীবন : এদেশের ইসলামী রাজনীতির ডায়েরীতে ইতিহাস রচনার যোগ্য অংশীদার আপোষহীন লড়াকু সৈনিক এই দেশপ্রেমিক মানুষটি। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯২৯ সালে (ব্রিটিশ আমলের) প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছাত্র সংগঠন ‘জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া’র তিন সেশনের (১৯৮১-৮৩) কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। কেন্দ্রীয় সভাপতি হয়েই মাদরাসা ছাত্রদের ১৭ দফা দাবী আদায়ে ১৯৮১ সনে বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার উদ্যোগে জাতীয় সংসদ ঘেরাও কর্মসূচী ঘোষণা করেন তিনি এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সফলও করেন কর্মসূচি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এর স্বায়ত্বশাসনের দাবী পূর্ণ করেন। মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড স্বায়ত্বশাসনের দাবী বাস্তবায়নের পর জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার উদ্যোগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সংবর্ধনা সভা। সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্বায়ত্বশাসিত মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান জনাব বাকিবিল্লাহ খান।

পুলিশী বাধা উপেক্ষা করেও রাজপথে তার অবস্থান ছিলো সব সময়

৮০-র দশকে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর সাথে যুবকদের নিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে থেকেই হাফেজ্জী হুজুরের (রহ.) সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অটুট। যখন খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠা হয় তখন হাফেজ্জী হুজুরের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো থাকার কারণে একদম শুরু থেকেই তিনি খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন এবং সেখানে তার সঙ্গে কাজ করেন। হাফিজ্জী হুজুরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ঝাপিয়ে পড়েন সর্বস্ব দিয়ে। খেলাফতের স্বপ্ন পূরণে ত্যাগ আর কুরবানীর নযরানা পেশ করেন। হাফিজ্জী হুজুরের মৃত্যুর পর খেলাফত আন্দোলন দূর্বল হয়ে গেলেও দমে জাননি তিনি। খেলাফতের স্বপ্ন আবার দেখেন নতুন করে হাফিজ্জী হুজুরের শীষ্য সৈয়দ ফজলুল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ) এর নেতৃত্বে।

সময়ের পরিক্রমায় তিনি যুক্ত হন এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া তৎকালীন ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’র সঙ্গে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন শ্লোগান “শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই” প্রবর্তক সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিভার ডানা মেলে এটিএম হেমায়েত উদ্দীনের। ১৯৮৭ সালে ১৩ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হওয়া সেই ক্ষুদ্র রাজনৈতিক শক্তিটি আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম ইসলামী শক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। দলটির আজকের এই অবস্থানের পেছনে যতজন লড়াকু ও নিবেদিত কর্মীর অবদান রয়েছে, তার মাঝে এটিএম হেমায়েত উদ্দীনের অবদান অনস্বীকার্য৷ তিনি ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে ছিলেন, মনে হতো তাঁর জীবনের লক্ষ্য ও পেশাই ইসলামী আন্দোলন। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি আজ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব।

১৯৯১ ও ৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতিকে বাগেরহাট ৪ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। ২০০১ সালে ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বাগেরহাট ৩-৪ আসনে নির্বাচন করেছেন। তিনি মসজিদের নগরী অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০০২ এ মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ঢাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রথম সারির এক বীরের নাম এটিএম হেমায়েত ‌উদ্দীন। আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিল মিটিংয়ে পুলিশের টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে পল্টনের রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকতেন সাহসের প্রতীক হিসেবে। সভা, সমাবেশ, সেমিনার, মিছিল-মিটিং প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। তাঁর রক্তে প্রতিবাদের বারুদ এতটাই জাগ্রত ছিল, অন্যায় বিরোধী শ্লোগানে সর্বাগ্রে দেখা যেত তাকে। সারাটা জীবন জাতির কল্যাণে ব্যয় করেছেন। পীর সাহেব চরমেনাই রহ. এর ডানহাত হয়ে ইসলামী রাজনীতিতে জীবন বিলিয়েছেন লাভ লোকসানের হিসেব মিলানো ছাড়াই। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদ করে জেল খেটেছেন দীর্ঘ সময়। নাস্তিক মুর্তাদ বিরোধী আন্দোলন, বাবরি মসজিদ রক্ষার আন্দোলন, ফতোয়া বিরোধী আন্দোলনসহ এমন কোন আন্দোলন সংগ্রাম নেই যেখানে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি। রাজপথ থেকে যতবার গ্রেফতার হয়েছেন ততবারই দ্বিগুণ আগ্রহ নিয়ে ফিরে এসেছেন আবারও রাজপথে। রাজনীতিতে ভয় বলে কোন শব্দ ছিল না তার জীবনে। বহুবার মিছিলের ব্যানার ছিনেয়ে এনেছেন পুলিশের হাত থেকে।

বাবরী মসজিদ রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গিয়েছিলেন তিনি

অসুস্থতা ও ইন্তেকাল : রাজপথ কাঁপানো এই মহান নেতা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বর্তমান আমীর সৈয়দ রেজাউল ও নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীমসহ দলের সকল নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তার খোঁজ খবর রাখতেন নিয়মিত। সর্বশেষ তিনি ইন্ডিয়া থেকে মাসখানেক আগে কেমোথেরাপী দিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিলো কিন্তু মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ১১ অক্টোবর ২০১৯ সালের পবিত্র দিন শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। (ইন্নালিল্লাহী ও ইন্না ইলাইহী রজিয়ুন) তার বিয়োগ বেদনায় কেঁদেছে হাজারো নেতাকর্মীরা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে। শোক প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গরা।

তিনি তার প্রতিটি বক্তব্যের শেষে বলতেন, আবার দেখা হবে আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রতিবাদ আর রাজপথে; কথা হবে সভা, সেমিনার সমাবেশ আর মিছিলে। কিন্তু তার সাথে আর দেখা হবে না ভাবতেই দুচোখে জুড়ে কান্নারা ভিড় করছে। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু এই একজন এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির আকাশে জ্বলজ্বলে তারা হয়ে থাকবেন।

ঢাকার ফার্মগেটের জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব-দক্ষিণ কর্ণারে টিএণ্ডটি মাঠে বাদ আসর হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে শায়খে চরমোনাই সৈয়দ ফয়জুল করীমের ইমামতিতে নামাজে জানাযা পড়ানো হয়েছে বিপ্লবী জীবনের এই মহান সাধক অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের। অশ্রুসজল চোখে তাকে বিদায় জানিয়েছেন তার সন্তানতূল্য নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

এটিএম হেমায়েত উদ্দীনের জানাযা

তার জানাযা নামাজে দেশের প্রথম সারীর অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল।

অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের মৃত্যুতে বিশিষ্ট লেখক ও বিশ্লেষক মাওলানা শরিফ মুহাম্মাদের স্মৃতিচারণ :  হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনকে আমরা ‘হেমায়েত ভাই’ বলেই ডাকতাম। দীর্ঘকাল ধরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, পরে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাকে বেশিরভাগ সময়ই কোনো দলের মানুষ বলে মনে হতো না। ইসলামী রাজনীতি ও ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ও সোচ্চারকণ্ঠ মানুষটি ছিলেন ইসলামের পক্ষের সব রকম দলমতের মানুষদের জন্যই সমন্বয়কারী ও ঐক্যপ্রয়াসী একজন নেতা। বক্তব্যের কন্ঠে অত্যন্ত বলিষ্ঠ এই ব্যক্তিত্ব আচরণ ও আলাপচারিতায় ছিলেন খুবই সদাচারী ও নিচুকন্ঠ মানুষ। ১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.-এর নেতৃত্বে গঠিত সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের মিছিল-মিটিংয়ে তাকে প্রথম দেখি। ‘জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া’ নামের একটি সংগঠনের প্রধান ছিলেন তিনি। ওই সংগঠনটি সংগ্রাম পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি তখন একজন উদ্দীপনাপ্রাণ যুবক। পাঞ্জাবী, ‍প্যান্ট, মাথায় জিন্নাহ টুপি। রাজপথে তার স্লোগান ও বক্তব্যের সময় মাইকের প্রয়োজন হতো না। আশির দশকের শেষ ‍দিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রথম যখন একটি জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তখন তিনি তার দল নিয়ে সে জোটে অংশগ্রহণ করেন। সেই জোটে মরহুম ব্যারিস্টার কোরবান আলীর সাহেবও একটি দলের প্রধান ছিলেন। পরিবর্তি সময়ে জোটটি দলে পরিনত হলে এটিএম হেমায়েত ভাই মূল দলে সক্রিয় হন। দীর্ঘকাল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর সভাপতি ছিলেন। বহুবার বহু মিটিং মিছিলে তাকে দেখিছি। ঘরোয়া মজমায়, চলার পথে, রাতে বাসায় ফেরার সময় লোকাল বাসে তার সাথে দেখা হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। দলীয় গন্ডির বাইরে সর্বদলীয় একটি ‍উদ্বেগ ও কন্ঠ তার মধ্যে লক্ষ করেছি সব সময়। দল বা সংগঠনের চেয়ে দেশ ও ইসলামের জন্যই কথা বলতেন বেশি। আমার কাছে মাঝে মাঝেই মনে হতো তিনি একটি দলীয় প্লাটফরমে আছেন। কিন্তু ইসলামের জন্য রাজনৈতিক ময়দানে কিছু করার জন্য সর্বদলীয় মেজাজটা পুরোপুরি লালন করেন। সমন্বয়কারী ও ঐক্যপ্রয়াসী এই হাসিখুশি মানুষটির সঙ্গে গভীর পরিচয় ছিল দল-মত পর্যায়ের বহু মানুষের। কিছুদিন ধরেই তার অসুস্থতার খবর সামাজিক মাধ্যমে আসছিল। আসছিলো কিছু সুস্থতার কথাও। মাঝে দলীয় কার্যালয়ে ঘুরে এসেছেন, সে খবরও এসেছে। ধরে নিয়েছিলাম, কেমোথেরাপিতে তার স্বাস্থের উন্নতি হচ্ছে। শিগগিরিই কোনো একদিন পল্টনে দেখা হয়ে যাবে। সেই দেখা আর হলো না। তিনি আল্লাহ ত’আলার কাছে চলে গেলেন। হেমায়েত ভাই আল্লাহ তা’আলা আপনার ঠিকানা জান্নাতে বানিয়ে দিন।

বিশিষ্টজনদের সাথে এটিএম হেমায়েত উদ্দীন

তথ্যসূত্র : শহিদুল ইসলাম কবির, শামস আল ইসলামের কলাম, পাবলিক ভয়েস, ইসলাম টাইমস।

মন্তব্য করুন