বুয়েটে ইশা ছাত্র আন্দোলনের কর্মীর উপরও নির্যাতনের চালিয়েছে ছাত্রলীগ

প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের কিছু বিপথগামী কর্মীরা নৃশংসভাবে খুন করার পর সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের ওপর তাদের নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। খোদ বুয়েটেই আবরার ছাড়াও অনেক ছাত্রদের উপর ছাত্রলীগের নির্যাতনের বর্ণনা উঠে এসেছে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এরই মধ্যে অসহিংস ও সুস্থ ছাত্র রাজনীতি করে প্রসংশিত সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এহতেশামুল হক পাঠানের ফেসবুক পোস্টে উঠে এসেছে তাদের এক কর্মীর উপর ছাত্রলীগের নির্যাতনের চিত্র।

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়, রাত ১০ টার দিকে হঠাৎ অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোনকল। কান্নাভেজা কন্ঠে এক ছাত্র বললো, ভাই আমি রিয়াদ বলছি। ছাত্রলীগের নেতারা টেবিলে ইশা ছাত্র আন্দোলনের পরিচিতি, সদস্য ফরম, রশিদ বই পেয়ে আমাকে পিটিয়ে জংগী বলে পুলিশ দিয়ে চকবাজার থানায় আটকে রেখেছে! আমি যেই হলে, আমি যেই স্যারের গাইডে থাকি ওনার নাম্বারটি লিখে রাখেন। আপনারা স্যারের সাথে যোগাযোগ করুন।

উল্লেখ্য আতিকুর রহমান রিয়াদ আমার সভাপতির প্রথম সেশনে নগরে স্কুল কলেজ বি.সম্পাদকের দায়িত্বে ছিল। সে একজন মোবাল্লীগ প্রত্যশী ছিল। মেক্যানিকেল ডিপার্টমেন্টের সবে মাত্র সেকেন্ড সেমিস্টারে পড়তো। তার ফোন পেয়ে আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে থানায় গেলেও ওর সাথে সাক্ষাৎ মেলেনি। পরবর্তীতে সে কোনরকম ছাড়া পেলেও ওকে সেই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। আর বুয়েটের হলে সে কোনদিন থাকতে পারবে না বলে ছাত্রলীগের চাপে বুয়েট প্রসাশন কর্তৃক সিদ্ধান্ত হয়।

বহিষ্কারের পর ফ্যামিলির চাপে পড়ে। এরপর নগরের মাসিক বৈঠকে এসে রশিদ বই জমা দেয়। গ্রাজুয়েশন শেষ করে আবার যোগাযোগ করবে আর ছাত্র আন্দোলনের প্রতি ওর ভালবাসা আজীবন থাকবে বলে বিদায় নেয়। ইলিয়াস ভাই বলল ওকে ওর মত ছেড়ে দেন। সংগঠনের কারণে ওর ক্যারিয়ারের ক্ষতি হোক এটি ছাত্র আন্দোলন চায় না। এখনও চোখের সামনে ভাসে ওর সাথে বুয়েটের কেন্টিনে প্রথম সাক্ষাৎ, অতপর সদস্য বানানো, ক্যাম্পাসে গিয়ে ওকে কর্মী সিলিবাসের বই পড়ানো। বিষয়ভিত্তিক আয়াত হাদিসগুলো খুব কষ্ট করে করে পড়তো। সম্ভাবনাময়ী অত্যন্ত ভদ্র আর উত্তম চরিত্রের এই মজলুম যেখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ তাকে দীনের জন্য কবুল করুন।

মন্তব্য করুন