আবরার ফাহাদ খুনের অন্যতম আসামী ইসকন সদস্য অমিত সাহা আটক

প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক ও ইসকন সদস্য অমিত সাহাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হওয়া সত্ত্বেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৯ জনের তালিকায় তার নাম না থাকা নিয়ে চলছিল ব্যাপক সমালোচনা।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সবুজবাগ থেকে বেলা ১১টার পর তাকে আটক করা হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম। ফাহাদকে যে কক্ষে খুন করা হয় সেই ২০১১ কক্ষের বাসিন্দা অমিত। হত্যাকাণ্ডের আগে ১৭তম ব্যাচের (ফাহাদের সহপাঠী) এক শিক্ষার্থীকে অমিত সাহা ম্যাসেঞ্জারে জিজ্ঞেস করেন, আবরার ফাহাদ কি হলে আছে? এ ধরনের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থী নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তারই এক সিনিয়র এ বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করেন।

এর আগে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েট ক্যাম্পাসে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন অমিত সাহা। সব ছাত্রছাত্রীর মুখে মুখে ছিল তার নাম। তার বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদকে হত্যার অভিযোগ থাকলেও মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি এমনকি তিনি কোথায়, তা বলতে পারছিলেন না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ। অথচ আবরারকে তার কক্ষেই হত্যা করা হয়। আবরার হত্যাকাণ্ডে অমিত সাহা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, তিনি ওইদিন হলে ছিলেন না। সাড়ে ৭টার দিকে তিনি হল থেকে বেরিয়ে যান।

চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব হোসেন বলেছিলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে, কেবল তাদের নামেই মামলা হয়েছে। এর পরও তদন্ত হবে। তদন্তে যদি অমিতের সংশ্নিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ মঙ্গলবার বুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হেলালউদ্দিন বলেন, ‘২০১১ নম্বর কক্ষটি অমিত সাহার। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মারধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সদস্য অমিত সাহা। ইসকনের ব্যানারে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ ছিলো। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া ছিলো। শেষ পর্যন্ত আজকে তাকে গ্রেফতার করা হলো।

মন্তব্য করুন