অচিরেই চীন-ভারতের সামরিক সংঘাতের বলি হবে বাংলাদেশ : ড. তুহিন মালিক

প্রকাশিত: ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০১৯

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বেশ কিছু চুক্তির মধ্যে অন্যতম হলো ভারতকে বাংলাদেশের উপকূলে নজরদারির জন্য ২০টি রাডার স্থাপনে অনুমোদন দেওয়া। এর ফলে পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সামরিক সংঘাতের মাঝে পড়ে বাংলাদেশ এখন চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক নষ্টের দারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. তুহিন মালিক।

তিনি বলেন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত এই চুক্তির পর খোদ ভারতীয় মিডিয়াই বলছে, ‘এ অঞ্চলে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের উপস্থিতির কারণে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ অনেকদিন ধরেই ভারতের জন্য বড় দুঃশ্চিন্তার কারন ছিল, ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড ইনিশিয়েটিভের’ সঙ্গে যুক্ত চীনের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো। কারণ, ‘ওয়ান বেল্ট ওয়াল রোড ইনিশিয়েটিভ’ অতিক্রম করেছে পকিস্তান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার মধ্য দিয়ে। যা আঞ্চলিক পর্যায়ে ভারতের প্রভাবের বিরুদ্ধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আর আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে চুক্তি করে এমন এক নিশ্চয়তা দিলেন, যাতে এখন থেকে ভারত তার প্রতিবেশী চীনের সমুদ্র অঞ্চলে গভীর পর্যবেক্ষণ চালাতে পারবে। অথচ গত কয়েক দশক ধরেই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির যুদ্ধজাহাজ সেখানে মোতায়েন করা আছে।

ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর নিশ্চিতভাবেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে জটিলতা সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশে চীনের বিশাল বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের উন্নয়নের অবকাঠামোয় চীনের অংশগ্রহন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিল্প, বানিজ্য, প্রযুক্তি, ঋণ, নিরাপত্তা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, সামরিক সহযোগিতাসহ সকল ক্ষেত্রে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে চীন। তবে সবচাইতে বড় আশংকার বিষয় হবে, চীন-ভারতের মধ্যে যে আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত বিদ্যমান। তার মধ্যে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হয়ে ভয়াবহ এক সামরিক সংঘাতের বলির শিকারে পরিনত হতে পারে।

কারন, গত মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিমান ভারত মহাসাগরের আশপাশে চাইনিজ লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএএন) সাতটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে বলে সনাক্ত করে। গত বছর ভারত মহাসাগরে পিএলএএনের টাইপ ০৩৯এ ইউয়ান ক্লাসের একটি সাবমেরিন সনাক্ত করে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভূটানের পশ্চিমাঞ্চলের বিতর্কিত ডোকলাম সীমান্তে ২০১৭ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভারত এবং চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হয়।ওই সময় দুই দেশের সামরিক বাহিনী ডোকলামে মুখোমুখি অবস্থানে যায়। এ ঘটনার পর প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরে পিএলএএনের সাবমেরিন সনাক্ত করে ভারত। সেই সময় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মাঝে ৭২ দিনের অচলাবস্থা দেখা দেয়। এই সময় পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনী ১৪টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখে।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ভারতের আশপাশে চীন কৌশলগত স্ট্রিং অব পার্লস সম্পদ গড়ে তোলায় ভারত যে ভয়াবহ বিপদে পড়েছিল, আজ শেখ হাসিনা এই চুক্তি করে ভারতকে সেই টেনশনমুক্ত করে দিলেন। কিন্তু মাঝখানে পড়ে বাংলাদেশ দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সামরিক দ্বন্দ্বের মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের বলির শিকারে পরিনত হবার টেনশন মাথায় তুলে নিলো! এই চুক্তিতে নিরাপদ হলো ভারত, আর আঞ্চলিক সংঘাতের বলির শিকারে পরিনত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন