প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা সাবেক ইবি ছাত্রলীগ নেতার

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইউজিসির নির্দেশ অনুসারে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর-২০১৯ অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শিশির ইসলাম বাবু।

গত ২বছর আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শিশির ইসলাম বাবু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সভা কক্ষে বুধবার সকালে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে অনুমতি না নিয়ে দলবল নিয়ে প্রবেশ করে উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির করেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বুধবার প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে ডীন, ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও অফিসারদের সাথে এপিএ টিমের আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এর সভাপতিত্বে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম তোহা। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার ভারপ্রাপ্ত এস এম আব্দুল লতিফ।

জানা যায়, ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীদলের নেতারা ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে বহিষ্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে গণস্বাক্ষর ও বিক্ষোভমিছিল করে।

পরে তাকে বহিষ্কারের কার্যকরী পদক্ষেপ প্রশাসন নিয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানার জন্য উপাচার্যের কাছে যান। অনুষ্ঠান চলাকালে অনুমতিবিহীন প্রশাসনের সভাকক্ষে সাঙ্গপাঙ্গসহ জোরপূর্বক ডুকে যায় শিশির ইসলাম বাবু। এতে সভাকক্ষে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এসময় বক্তব্য প্রদান করছিলেন কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ সরওয়ার মুর্শেদ। তাদের জোরপূর্বক প্রবেশের ফলে বক্তব্য প্রদানে বিঘ্ন ঘটে।

এ বিষয়ে সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, ‘পরিবেশটা বক্তৃতা দেওয়ার মতো ছিলো না। শিক্ষক হিসাবে মনে করি একটা মিটিং চলছে সে মিটিংয়ে ঢুকতে গেলে যদি কেউ সে মিটিংয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয় আর সংশ্লিষ্ট হলেও সে মিটিং এর সভাপতির সাথে অনুমতি নিতে হয় এটাই হচ্ছে শিষ্টাচার।

এটি শুধু আমি না ওই মিটিংয়ে যারা উপস্থিত ছিলেন সাবার খারাপ লেগেছে সবাই আশ্চর্য হয়েছেন। উপাচার্য ওই ছেলেটিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন সভা চলছে তুমি পরে আসো তোমাদের সাথে পরে কথা বলি তারপরও ছেলেটি উপাচার্যের সাথে কথা বলেছে। ওই পর্যায়ে আমি আমার বক্তৃতা বন্ধ করে দেই আমি আর কথা বলি না’।

সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, ‘এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষক হিসাবে আমরা আশা করি না। আর এই মিটিংটাতো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। এটাতো এমন না যে কোন ছাত্রবিরোধী মিটিং হচ্ছে যে ছাত্ররা জোর করে ঢুকে গেলো’।

প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, বিনা অনুমতিতে যেকোনো মিটিং এর মধ্যে কারো যাওয়া অনৈতিক ব্যাপার ছাত্র-শিক্ষক কর্মচারী যে হোক না কেনো কারোরই এরকম ভরা মিটিং এ যাওয়া উচিত না। তারপরও কারো যদি অভিযোগ, বক্তব্য বা কথা থাকে তাহলে অবশ্যই এপয়েনমেন্ট নিতে হবে অথবা সে যখন ফ্রি থাকবে তখন কথা বলতে পারে এটাই স্বাভাবিক বলে তিনি মনে করেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড.কামাল উদ্দিন বলেন, এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাকে কিছু জানানো হয় নাই সুতরাং আমি এবিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ উঠে পড়ে লেগেছে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৩-১৪ (মাস্টার্স) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিশির ইসলাম বাবু পদ না পাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এক সময় ক্যাম্পাসের ত্রাস ছিল এই শিশির ইসলাম বাবু। ক্যম্পাসে অস্ত্রের মহড়া, ভর্তি বাণিজ্য ও হল ডাইনিং এ টাকা না দিয়ে খাওয়া, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দলীয় প্রভাবে মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতার বিরেুদ্ধে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, তারা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বার্ষিক কর্মসংস্থান সম্পাদানে অনুষ্ঠানে যেখানে আমাদের শিক্ষক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন সেখানে একেবারে বিনা নোটিশে অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রবেশ করাটা বাঞ্ছনীয় নয়। আমি উপাচার্য হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ছাত্র সূলভ আচরণ প্রত্যাশা করি।

/এসএস

মন্তব্য করুন