‘ভারত এদেশের মানুষের বিশ্বাসের কোনো মূল্যায়নই করেনি’

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ‘এনআরসি ইস্যুতে ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখছি’ বলে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, বন্ধুত্ব ও বিশ্বাস দ্বিপক্ষীয় বিষয়, তা সমমর্যাদা ও সমঅংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হয়। কিন্তু ভারতের সাথে সরকারের সম্পর্ক কেবলই দেয়ার; নেয়ার নয়। ভারত কখনই এদেশের মানুষের বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের যথার্থ মূল্যায়ন করেনি। বরং বরাবরই অধীনতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক মনোভাব দেখিয়েছে।

শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ভারতের সাথে বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৮শ কোটি ডলারের বেশি। বর্তমান সরকারের আমলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৫গুণ। বর্তমানে ভারত থেকে রপ্তানির চেয়ে আমদানির পরিমাণ ১০গুণ বেশি। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ ভারতের ‘পণ্য উপনিবেশে’ পরিণত হবে। এ অসম বাণিজ্য ঘাটতি নিয়েও সরকার ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চায়। কিন্তু দেশের জনগণ এ অসম বিশ্বাসকে দেশের স্বার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি মনে করে।

আজ বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের এক জরুরী সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ মাসউদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের রেমিটেন্স আয়ের ৪র্থ উৎস হলেও এবং ভারত বাংলাদেশ থেকে বছরে এক হাজার কোটি ডলার আয় করলেও এর বিপরীত চিত্র একেবারেই হতাশাজনক। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর অন্যতম সহিংস সীমান্ত। এই সহিংসতা ভারতের কারণে ও ভারতের পক্ষ থেকেই হয়েছে। সরকারের ভাষ্যানুযায়ী গত দশ বছরে বিএসএফের হাতে ২৯৪ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদ মাধ্যমের তথ্যানুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। তারা আমাদেরকে ফেলানীর লাশ দিলেও আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস রাখছি!

ভারতের মাদক আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাহির থেকে যে পরিমাণ মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে তার ৫২.৯ শতাংশই আসে ভারত থেকে। এর মাধ্যমে আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করা হচ্ছে। পানি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত আমাদেরকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করেছে। তিস্তার পানি চুক্তি আজও ঝুলিয়ে রাখছে। তাদের পানি আগ্রাসনের কারণে নদীমাতৃক বাংলাদেশ আজ মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে।

সরকারকে হুশিয়ারি উচ্চাারণ করে তিনি বলেন, এতো কিছুর পরও ক্ষমতাসীনেরা ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন। ভারতীয় রাজনীতির চাণক্যনীতি সম্পর্কে বেখবর থাকতে পারেন। তবে দেশবাসী ভারতের চরিত্র সম্পর্ক সম্পূর্ণ সজাগ আছে। আসামের এনআরসি ইস্যুকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বালুতে মুখ গুজেঁ থাকা দূরদৃষ্টির পরিচায়ক হবে বলে আমরা মনে করি।

/এসএস

মন্তব্য করুন