লক্ষ্মীপুরের ‘বিরেন্দ্রখাল’ যেন আবর্জনার বাগাড়; ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের ছড়াছড়ি

রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
রামগঞ্জ-হাজিগঞ্জ ‘বিরেন্দ্র খাল’

পারভেজ হোসাইন, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ (বিরেন্দ্রখাল) খালটিতে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা ও স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীদের অবব্যস্থাপনার কারণে ময়লা আবর্জনার বাগাড়ে পরিনত হয়েছে। অপরদিকে রামগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানে কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় খালটি সংকুচিত হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। খালটির পুরো অংশে জুড়ে ময়লা আবর্জনা, কচুরিপানা, কচুগাছ জন্মানোসহ দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় প্রচন্ড দূর্ঘন্ধে খালের পাশে বসবাসকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌর শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ বিরেন্দ্র খালটিতে (প্রধান খাল) কয়েক বছর আগেও ঢাকা থেকে চাঁদপুরের মেঘনা নদী দিয়ে ছোট বড় ট্রলারে করে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল আনা নেয়া করতো এখানকার ব্যবসায়ীরা। রামগঞ্জ থানার সামনে ঘাঁট দিতো ট্রলারগুলো। এছাড়া রামগঞ্জ, কলাবাগান, মৌলভীবাজার ও সোনাপুর উত্তর বাজার এলাকায় সরকারীভাবে নির্মানাধীন ঘাটলায় চাঁদপুর থেকে আসা মালামাল নামানো হতো।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ছেরাজুল হক ও বাহার মিয়াসহ কয়েকজন জানান, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, চাটখিল ও বেগমগঞ্জ (চৌমহুনী) থেকে রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজারে মালামাল নিতে আসতে বড় বড় পাইকারী ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পেয়াজ, রসুন ও হলুদ-মরিছের জন্য বিখ্যাত ছিলো সোনাপুর বাজার। এখনো জেলা ও জেলার বাহিরের মানুষের কাছে সোনাপুর বাজার একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নৌকা ও ট্রলারে করে মালামাল বহনে খরছ কম হওয়ায় সোনাপুর বাজারটি ছিলো এ অঞ্চলের রাজধানী।

সোনাপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন জানান, সড়ক ব্যবস্থা উন্নত বিভিন্ন উপজেলার রাস্তাঘাঁট পাকাকরণ হয়ে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে। এখন নৌপথে আসা মালামালের অপেক্ষা না করে সড়কপথে ট্রাক-লরিযোগে মালামাল আনা নেয়া করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খালটিতে ধীরে ধীরে নৌকা ও ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খালের অধিকাংশ অংশে বেহালজাল, ঘের তৈরি করে মাছ চাষ ও খালের অংশে স্থাপনা নির্মান করায় পানি নিষ্কাশনও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

birendro river_বিরেন্দ্র খাল

এভাবেই খালের বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনায় স্তুপ জমেছে। ছবিটি নারিকেল বাজার এলাকা থেকে তোলা

সোনাপুর বাজারের বি সাহা সুইট’সর মালিক অপূর্ব কুমার সাহা জানান, খালটির কয়েক কিলোমিটার অংশ শহরের মাঝখান দিয়ে নোয়াখালী পর্যন্ত বহমান এ খালটিতে সোনাপুর, রামগঞ্জসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা দৈনন্দিন কাজের ময়লা আবর্জনা খালটিতে ফেলে আসছে। রামগঞ্জ পৌর শহরে কোন ডাস্টবিন না থাকায় খালটিতে ব্যবসায়ীরা ময়লা ফেলতে ফেলতে অনেকস্থানে ভরাট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংস্কারকরণ ও খালটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সংকুচিত হয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

রামগঞ্জ সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি ও সোনাপুর বাজার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, খালটির ময়লা আবর্জনা অপসারনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দুষিত হয়ে গেছে খালের পানি। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বালাই বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় আমরা সোনাপুর বাজারের খালের কিছু অংশ পরিষ্কার করেছি। কিন্তু সরকারীভাবে পুরো খালটি পরিষ্কার করা জরুরী।

উপজেলা কয়েকজন কৃষক জানান, পানি সরবরাহ না থাকায় রামগঞ্জ উপজেলার ধানচাষীরা গ্রীষ্ম মওসূমে পড়েন চরম বিপাকে। সংযুক্ত খালগুলো শুকিয়ে যায়। মূল খালের পানি ধানের জমিতে দেয়া যায় না চরম নোংরা আর দুষিত হওয়ার কারনে।

রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, খালটির ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারে কয়েকবার উদ্যেগ নেয়া হলেও তা আর হয়ে উঠেনি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে খালটি পরিষ্কারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান সাংবাদিকদের জানান, খালটির ব্যপারে জানতে আমি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে পাঠিয়েছি। খালটির মালিকানা নিয়ে জেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরোধ রয়েছে। বিরোধ নিরসন হলে খালটির সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজাহান জানান, আমি সরেজমিনে গিয়ে খালটি সংস্কারের স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিবো।

/এসএস

মন্তব্য করুন