‘মোটা পেট থেকে বাঁচুন; ভুঁড়িমোটা লোককে আল্লাহ তাআলাও অপছন্দ করেন’

প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

মুফতী জিয়া রহমান

আমাদের অঙ্গনে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রচুর অভাব। বিশেষ করে শারিরীক ফিটনেসের দিকে আমরা মোটেও খেয়াল করি না৷ অনিয়ন্ত্রিত ও অসেচতন জীবনযাপনের কারণে অনেকেই ভুঁড়িমোটা রোগে আক্রান্ত। শারিরীক কসরত, ব্যায়াম, অনুশীলণ, ঘামঝরানো কায়িক পরিশ্রম, ভোরবেলা হাঁটা-চলা করা- কোনো কিছুরই বালাই নেই আমাদের। সারাদিন বসে বসে কাজ করা, পড়া, পড়ানো সবকিছু শরীরের জোড়াগুলোকে ক্রমশ অচলাবস্থার দিকে নিয়ে যায়। আলস্য আমাদের নিজের কাজ নিজে করা থেকে বঞ্চিত রেখে দেয়। সুস্থ-সবল শরীর থাকা সত্ত্বেও নিজের কাপড় অন্যকে দিয়ে ধোয়াই। কারণ সেই আলস্য, সেই অসচেতনতা।

ফজর পর হাঁটতে বেরোই। (যদিও সব দিন সম্ভব হয় না) পরিচিত অনেক ভুঁড়িমোটা আহলে ইলমকে চিনি, যাদেরকে কখনোই শরীরকে একটুখানি ঝাঁকুনি দেওয়ার জন্যে হলেও বেরুতে দেখি না। একদিন তো প্রায় ৩০-শের মতো বয়েসি এক বন্ধু মানুষকে পেলাম। ইয়া মোটা হয়ে গেছেন! চেনাই যাচ্ছিল না। মনে হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ একজন প্রৌঢ়। স্ত্রীদেরকেও এরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়। স্ত্রীরা চায় তাদের স্বামী হবে স্লিম এবং স্মার্ট। কিন্তু আমরা তাদের চাহিদাকে থোরাই কেয়ার করি।

আমাদের শারীরীক ফিটনেসহীনতার সবচে বড় কারণ হলো, আমরা খাওয়া এবং পান করার ক্ষেত্রে সুন্নাতের পাবন্দ নই। অথচ শরীয়তে শারীরিক ফিটনেস গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহ তাআলার কাছে শক্তিশালী মানুষ অধিক প্রিয়। আর সেই শক্তির অন্যতম রহস্য শারীরীক ফিটনেস।

সুন্নাহ-সম্মত খাওয়া এবং পান করার কৌশল সম্পর্কে চমৎকার একটি ভিডিও দেখেছি। বারবার দেখেছি পাকিস্তানী একজন হাকীমের ভিডিও!

বক্তব্যের মূল কথাগুলো নিচে তুলে ধরলাম।

  • ওই হাকিমের দাবি হলো, পাকিস্তানে তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি মুটিয়ে যাওয়ার চিকিৎসা করেন- কোনো ওষুধ, শারীরীক ব্যায়াম কিংবা ডায়েট ছাড়াই। তিনি বলেন, কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পানি পানের সুন্নাত তরিকা অবলম্বন করেই শারীরীক স্থুলতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। পানি পানের সুন্নাত তরিকার মধ্যে সুন্নাত আদায়ের পাশাপাশি সাইন্স এর বর্নণা মতেও আরোগ্য রয়েছে।
  • হাদিসে এসেছে পানি সবসময় (১) সোজা হাতে ধরে (২) বসে (৩) বিসমিল্লাহ বলে (৪) তিন নিঃশ্বাসে পান করো। অন্য হাদিসে পানপাত্রে শ্বাস ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। ভিডিওতে তিনি দেখিয়েছেন তিন শ্বাসে কীভাবে পানি পান করতে হয়। লম্বা সময় ধরে শ্বাস আটকে রেখে একটু একটু করে পানি পান করা। এরপর গ্লাস থেকে মুখ সরিয়ে শ্বাস ফেলা।

তিনি পানি পান করে দেখালেন যে, আমি পানি পান করেছি ধৈর্যের সাথে, প্রশান্তির সাথে, ইতমেনানের সাথে, আরামের সাথে, ধীরস্থিরভাবে। আজ তো সবাই তার জীবনে এই বিষয়গুলোই চায়। কিন্তু পানি পান করার সময় অস্থিরভাবে পান করে। মনে রাখবেন, এটা শুধু পানিই নয়, এর অপর নাম জীবন।

কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো, মানুষ মোটাসোটা হয়ে যাবে। ভুঁড়িমোটা লোককে (তার অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে) আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। তাই খানাপিনার শরয়ী তরিকা ছেড়ে দেওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলার অপছন্দনীয় লোকদের মধ্যে শামিল হয়ে গেলেন।

ওজন কমাতে চান, তাহলে খাবার গ্রহণের আধাঘন্টা আগে পানি পান করবেন এবং খাবার গ্রহণের দেড়ঘণ্টা পর পানি পান করবেন। কুরআনে কারীমে বলা হয়েছে- খাও এবং পান করো, অপচয় করো না৷ খাওয়া এক জিনিস, পান করা আরেক জিনিস। খাবার এক দিকে, পানি আরেক দিকে। জগতের কোনো প্রাণীই খাবার গ্রহণের সঙ্গে পানি পান করে না। উট, গরু, কুকুর, বিড়াল, জিরাফ ইত্যাদি কোনো প্রাণি খাবার খাওয়ার সময় পানি পান করে না। এ জন্যে তারা অসুস্থ হয় না।

হাদিসে এসেছে তোমার পেটকে তিনভাগ করে নাও। এক অংশ খাবারের জন্যে, এক অংশ পানির জন্যে আরেক অংশ নিজের নফসের জন্যে ছেড়ে দাও।

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ৩২ টি দাঁত দিয়েছেন। চার দানা বিশিষ্ট, তিন দানা বিশিষ্ট, দুই দানা বিশিষ্ট ও এক দানা বিশিষ্ট। যে ব্যক্তি এক লুকমা খাবারকে ৩২ বার চিবিয়ে খাবে, তার পেটের পীড়া ও পাকস্থলিজনিত রোগ হবে না। তাই দাঁতের কাজ দাঁতকে করতে দিতে হবে। পাথরের তৈরি দাঁত আল্লাহ বানিয়েছেন খাবার পিষার জন্যে৷ ফাইবারের তৈরি পাকস্থলির জন্যে তা রাখা যাবে না। লুকমান হাকিম তাঁর পুত্রকে নসিহত করেছেন, হে প্রিয় বৎস! দাঁতের কাজ অন্ত্র দিয়ে নিয়ো না।

তাই আসুন,

যে ওজন কমাতে চাও, প্রশান্তির জীবন চাও; এক লুকমা খাবারকে ৩২ বার চিবাও।

মন্তব্য করুন