ভাষা শহীদদের রক্তের মূল্য

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯
সাইদুর রহমান সাদী

আজকাল বলতে গেলে আমাদের দেশের বেশির ভাগই মানুষই বিদেশি সংস্কৃতির জালে আটকা পড়েছে। কাজ-কর্ম, ধ্যান-ধারণা,শিক্ষা-দীক্ষা সবকিছুতে ভিনদেশি ভাষা-সংস্কৃতির ছোঁয়া। বাংলাভাষা, গান, কবিতা, নাটক এমনকি ইসলামী সঙ্গীতেও লেগেছে সেই ছোঁয়া।

রাস্তায় চলতে চলতে আগেকার সেই কবিতা বা গানের সুর কানে ভেসে আসে না। শহরের রাস্তায় তরুণ-তরুণীরা নিজেদের কানে হেডফোন লাগিয়ে অচেনা ভাষায় কী সব বিড়বিড় করতে করতে হেটে চলে। কখনো তাদের চিৎকার শুনলে আবার কারও বেশ দেখলে অবাক লাগে।

বেতার, টিভি ও সোশাল মিডিয়ায় আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের কান ফাঁটানো অসহ্য বাজনা ছাড়া গানের কোন কথাই বোঝা যায় না। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া নিজ সন্তানকে নিয়ে বাবা-মা গল্প মাতেন, গর্ব করে বলেন, আমার সন্তান ইংরেজি ছাড়া কথাই বলে না। এমনকি ওদের কথা বোঝাতে হলে আমাদেরও ইংরেজি বলতে হয়।’ বাহ, ব্রিটিশরা কী ভালো বীজই না রোপণ করে গেছে? বিশ্বের ইতিহাসে বাঙালিরাই একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। মনে পরছে কি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের রক্ত ঝরানোর ইতিহাস? তাদের রক্তদানেই আজ বাংলাভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মাতৃভাষা বাংলা কিন্তু বাংলায় কথা বলতে আমরা কিইনা লজ্জা পাই! সভা-সেমিনার ওয়াজের মাঠে কেউ একটু ইংরেজি ঝাড়লেই আমরা মনে করি, বাহ! কী শিক্ষিতই না লোকটা, একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছে। এরকম বক্তাব্যই হয়না! ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ সঠিক বাংলা পারাটা হলো আসল শিক্ষা। যারা এটাকে অবজ্ঞা করেন তাদের কাছে প্রশ্ন, আপনারা কতটুকু শুদ্ধভাবে প্রমিত বাংলা বলতে পারেন? কত সুন্দর সাবলীল ও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করেন আপনার মাতৃভাষাকে?

ভাষা শহীদদের রক্তের সঠিক মূল্য দিতে চান তো একজন বাঙালি হিসেবে আপনি আপনার কাজের মাধ্যমে বাংলাকে ছড়িয়ে দিন বিশ্বব্যাপী। আমরা কি পারি না বাংলা ভাষায় সবকিছু উপস্থাপন করতে, বাংলা ভাষার ব্যবহার সর্বক্ষেত্র ঘটাতে? নিজের দেশপ্রেম থেকে হলেও আসুন, প্রকৃতই আমরা যদি বাংলাদেশে জন্মে থাকি তাহলে নিজের মেধা ও মনে আঁকি আমার বাংলার মানচিত্র। ধিক্কার জানাই তাদের, যারা এ দেশে জন্মগ্রহণ করেও বাণিজ্যিক মুনাফা আদায় কিংবা নিজ স্বার্থ হাসিল করতে নিজ ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ভুলে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন।

আমি এটা বলছি না যে অন্য ভাষায় কথা বলা যাবে না, অন্য ভাষা শেখা বা জানা যাবে না। আমার মতে, এগুলো কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য হওয়া ভালো। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নিজের ভাষা সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে শিক্ষিতের কাতারে দাঁড়ানোর জন্য এগুলো করতে হবে। আসুন আমাদের মনের ভেতরে বাসা বাঁধা অপসংস্কৃতির চেতনা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে পরিচিত করি।

লেখক, শিক্ষক মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। পাবলিক ভয়েস-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য পাবলিক ভয়েস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।


 

মন্তব্য করুন