ফোন নাম্বার ফাঁস হলো ৪২ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর

প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

অনলাইন সার্ভার পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত না হওয়ায় ৪১ কোটি ৯০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার ফাঁস হয়েছে। ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ফোন নাম্বারগুলো নিয়ে একটি উন্মুক্ত ডাটাবেজ তৈরি করে তা অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

টেকক্রাঞ্চের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ভিয়েতনামের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ফোন নাম্বার ফাঁস হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। একটি অনলাইন সার্ভারের সংরক্ষণ করা ছিল এই ৪১ কোটি ৯০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার। তবে পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত ছিল না ওই অনলাইন সার্ভার। এগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ কোটি ৩০ লাখ, ইংল্যান্ডের ১ কোটি ৮০ লাখ ও ভিয়েতনামের ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার ফাঁস হয়েছে। জিডিআই ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তা গবেষক সানইয়াম জৈন ডাটাবেজে ওই ফোন নাম্বারগুলো ফাঁস হওয়ার তথ্য পান প্রথমে।

তিনি জানান, ওই ডাটাবেজে কোনও পাসওয়ার্ড দেওয়া ছিল না। বহু চেষ্টার পর এর কোনও উৎসও বের করা যায়নি। পরে টেকক্রাঞ্চ ওই ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর কর্তৃপক্ষ ওই ডাটাবেজটি অফলাইনে সরিয়ে নেয়। তথ্য ফাঁসের এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।তারা বলছে, কীভাবে এই তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে অনেকেই একাধিক নাম্বার ব্যবহার করায় ২১ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে দাবি ফেসবুকের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তথ্যগুলো এমন একটি অনলাইন সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়, যেটা পাসওয়ার্ড দ্বারা সুরক্ষিত ছিল না। এ কারণেই কয়েক কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নাম্বার একটি উন্মুক্ত ডাটাবেজে প্রকাশিত হয়েছে।এটা ফেসবুকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সর্বশেষ উদাহরণ। যার কারণে এর ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

সামাজিকমাধ্যমটির এক মুখপাত্র বলেন, যারা ওই তথ্য ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করেছে, তারা ফেসবুকের ত্রুটিপূর্ণ ফিচারকে কাজে লাগিয়েছে। যা বর্তমানে অকার্যকর। ২০১৮ সালের মার্চে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পরপরই এপ্রিল মাসে ওই সার্চ টুল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে এখন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছে। যদিও পুরনো ডাটাবেজ থেকে কারা এই নম্বর হ্যাক করে অনলাইনে ফাঁস করেছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন