মাদরাসা ছাত্রের প্রেম: মিডিয়ার তেলেসমাতি

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯

মাদরাসায় একটি ছেলেকে শিক্ষক শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন বা বেত্রাঘাত করেছেন। সংবাদ পৌঁছুলো মিডিয়ায়। ব্যস! মিডিয়ার ব্রেকিং নিউজে চলে আসে সে সংবাদ। বিষয়টা এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যেন মাদরাসাশিক্ষক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জালিম! কিন্তু জাগতিক শিক্ষার শিক্ষকরা ছাত্রের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন, সন্ত্রাসী বানাচ্ছেন, বানাচ্ছেন খুনি ও ডাকাত, তা চোখে পড়ে না মিডিয়ার! মনে হচ্ছে মাদরাসা ধ্বংসে উঠেপড়ে লেগেছে সবাই!

মাদরাসাছাত্র প্রেমিকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। এবার মিডিয়া পাড়ায় ফেভারিট টপিক মাদরাসাছাত্রের প্রেম! বিষয়টা এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, মনে হয় মিডিয়ার চেয়ে অবৈধ প্রেমবিদ্বেষী আর কেহ নাই! অথচ রাস্তা-ঘাটে, হোটেল-রেস্তোঁরায়, পার্কে-গাছতলায় হরহামেশা কত যুবক-যুবতী অবৈধ মেলামেশায় লিপ্ত হচ্ছে! বাচ্চা ফেলছে, ছ্যাঁকা খেয়ে এসিড নিক্ষেপ করছে, আত্মহত্যার ঘটছে, সেদিকে মিডিয়ার খবর নেই! খবর নেবে কী? খোদ মিডিয়া-ই তো এসব শিক্ষা দিচ্ছে। এসব ঘটনার দশভাগও মিডিয়া প্রচার করে না। আসলে তারা সমাজের চোখে হুজুরদের ছোট করতে চায়।

অমুক মাদরাসায় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র বলাৎকার। ব্যস! এবার সমকাম আর লাওয়াতাতের সবচেয়ে বড় দুশমন সেজে যায় মিডিয়া! এমন একটা ঘৃণিত কাজ একজন মাদরাসাশিক্ষক কীভাবে করে? হুজুর মানুষ এগুলো করলে আমপাবলিক কী করবে? এমন কাজ কি ইসলাম সমর্থন করে? প্রশ্ন আর প্রশ্ন। মিডিয়ার নীতিবাক্যের অভিধান তখন চওড়া হয়ে যায়।

অথচ সেই মিডিয়া-ই যে সমকামি নাটক বানিয়ে দেশটাকে পুটুকামির রাজ্যে পরিণত করতে মরিয়া! এ প্রশ্ন করবে কে? করলেও জবাব মেলবে কি?

জাগতিক শিক্ষার শিক্ষক কর্তৃক সন্তানতূল্য ছাত্রী ধর্ষণ এখন নিত্যদিনের রুটিন। কে বলবে সে কথা? যে মিডিয়ার ওপর ভরসা, সে মিডিয়ার বহু কর্মী-ই বড় লম্পট। মোটকথা ইসলামের বারোটা বাজাতে যা যা দরকার, মিডিয়া তাই-ই করছে। কখনও সরাসরি বিরুদ্ধে বলে, আবার কখনও কখনও ইসলামের পক্ষ নিয়েই ইসলামকে পাল্টা আঘাত করে।

হ্যাঁ, মাদরাসায় যে মাঝে মাঝে দু’একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে না বিষয়টি এমনও নয়। ঘটে, তবে পার্সেন্টেজ হার একেরও নিচে। কিন্তু মিডিয়া চাইলে মাদরাসা বা আলেমদের ভালো দিক নিয়েও আলোচনা করতে পারে। তুলে ধরতে পারে দেশে মাদরাসা ও আলেমদের অসামান্য অবদানের কথা। হুজুরদের মাঝে অসংখ্য যোগ্য লেখক, কবি ও সাহিত্যিক রয়েছেন, তাঁদের লেখাগুলো ছাঁপতে পারে। অনুষ্ঠান করতে পারে তাঁদের নিয়ে। নিয়মিত টকশো আলোচনায় ইনভাইট করে তাঁদের স্বচ্ছ থিউরীগুলো দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু তা করে না মিডিয়া।

মিডিয়া কীসে আগ্রহী? কথিত স্টারদের ডেকে- কার বিয়ে কীভাবে হলো, প্রথম প্রেম, প্রেমপত্রের সংখ্যা, প্রথম দেখা, কে আগে লাভ লেটার দিয়েছে, প্রেমের প্রস্তাব এসেছে কার পক্ষ হতে ইত্যাদি ধরণের ফালতুু, অশালীন ও অর্থহীন সব আলোচনায় মেতে ওঠে! আর দাতাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এসবের পেছনে কোটি কোটি অর্থ ব্যয় করে! অথচ, মাদরাসা শিক্ষায় নির্মল আদর্শ, ভদ্রতা ও সফলতা নিয়ে তেমন কোনো প্রতিবেদন করতে দেখি না মিডিয়ায়। মনে রাখা উচিৎ! পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কওমী মাদরাসা এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদর্শবান মানুষ ওলামায়ে কেরাম।

উপরোল্লেখিত অন্যায়গুলোর পক্ষে আমিও নই, থাকার প্রশ্নই ওঠে না। বোঝাতে চাচ্ছি, হুজুর বা মাদরাসাছাত্রও মানুষ। অতএব, মানুষের ভুল হওয়া বা অন্যায় করাটাও স্বাভাবিক, কিন্তু হুজুরদের একটু দোষ পেলেই মিডিয়া যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যেন পৃথিবীতে শুধুমাত্র হুজুররাই অন্যায়কারী! আর বিরোধীদের কাছে এসব অন্যায় ফেরি করার জন্য তারা কিনে নিয়েছে কিছু অর্থলোভী দিকভ্রান্ত কওমী হুজুর! তাদের শেখানো বুলি আওড়িয়ে মাদরাসার দিকে আঙুল তুলছে বিক্রি হওয়া এই বর্বরগুলো।

‘বদলে যাও বদলে দাও’ বই থেকে
লেখক: হাবিবুর রহমান মিছবাহ

মন্তব্য করুন