বেকারত্ব: জনশক্তি যেন আঁধারে বিলীন না হয়

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

সবুজ কুমার মহন্ত

বাংলাদেশে বেকারত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে। একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদ- হলো এই বেকারত্বের হার। বেকারত্বের পরিমাণ যদি আশংকাজনক হয়, তবে দেশ অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। গত সপ্তাহের সংসদের প্রশ্নোত্তরে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান জানিয়েছেন, বাংলাদেশে শিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের পরিমাণ প্রায় ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। পরিমাণটা নেহাত হাতে গোনা নয়, মোট জনসংখ্যার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের মধ্যে আবার শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ২৩ লাখ ৭৭ হাজার আর অশিক্ষিত বেকার প্রায় ৩ লাখ।এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দায় কার। সরকারের উচিৎ এদের বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত করা।

শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, কর্মে নিযুক্ত জনসংখ্যা ৬ কোটি ৮ লাখ যেখানে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ৪ কোটি ৭৪ লাখ। যদি বেকারত্বের পরিমাণ না কমানো যায়, তবে দেশের এই তরুণদের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেকারত্বের ফলে জন্ম নিচ্ছে হতাশা, যার দরুন বাড়ছে মাদকদ্রব্য গ্রহণকারীর সংখ্যা, বাড়ছে কিশোর অপরাধের ঘটনাগুলিও। গত কয়েক বছরে আত্মহত্যার সংখ্যাও কম নয়। সামাজিক অপরাধে আকৃষ্ট হচ্ছে শিক্ষিত তরুণ বেকারেরাও যা একেবারেই কাম্য নয়।

বেকারত্বের ফলেই হয়তো জন্ম নিচ্ছে ইদানীংকালের ধর্ষণ। বেকারত্বের কারণে শুধু কি একটা ছেলেই/মেয়েই কষ্টভোগ করে? নাহ, তার পরিবারের লোকগুলো ভোগে আরো, বুড়ো বাবাটাও হয়তো বিছানায় শুয়ে চিন্তা করে, মা হয়তো লুকিয়ে চোখের জল ফেলে আর প্রতিবেশীরা ত আছেই কথা শোনানোর জন্য!

কি হতে পারে এই বিরাট সমস্যার সমাধান? এ সমস্যার সমাধান দু একদিন বা দুই তিন বছরে সম্ভব নয়। আমি বিদ্বান বা পরিকল্পনা প্রণয়নকারীর কোনোটিই নই, তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকদের এ বিষয়ে আরো মজবুত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করি। এই বিরাট জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারলে হয়তো আরো কিছু সামাজিক অপরাধ কমানো সম্ভব। শিক্ষার মান, পর্যাপ্ত সুযোগ বাড়ানো ইত্যাদি পারে সমস্যার ভাড়টা অনেকটা কমাতে। বিশ্লেষক, রাজনীতিবিদ, আর দেশের সকল বুদ্ধিজীবীদের উচিৎ দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা যাতে করে এই বিরাট অংশ যেন আধারে বিলীন না হয়।

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন