মাহফিলেই নিজ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন হাফিজুর রহমান সিদ্দিক

প্রকাশিত: ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৯

কুরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছেন দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামিস্টদের মধ্যে ভাইরাল হওয়া দেশের আলোচিত বক্তা মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকের একটি বক্তব্যের ব্যাপারে তিনি ক্ষমা চেয়ে পূনরায় বক্তব্য দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার (১৩ই জুলাই) বাঁশখালী দারুল কারীম মাদরাসার হিফজ সমাপনী ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান উপলক্ষে বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তার আলোচনায় তিনি তার পূর্বের বক্তব্যের ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, “আমি এক বক্তব্যে পবিত্র কুরআনের সুরা তাহরিমের এক আয়াতের ব্যাখ্যায় তাওবাতান নাসূহা সম্পর্কে যা বলেছিলাম, আসলে ব্যাপারটা এমন না। নাসূহা সম্পর্কে মাওলানা জালাল উদ্দিন রূমী রহ. মাআরেফে মসনবীতে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন কিন্তু সেই ঘটনার সাথে আয়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা ভিন্ন ঘটনা। কুরআন ও হাদিসে নাসূহা সম্পর্কে কোনো ঘটনা উল্ল্যেখ নেই বরং কুরআনে বর্ণিত সুরা তাহরিমের ৮ নং আয়াতের তাওবাতান নাসূহা অর্থ হলো খাটি তওবা করা” আমার বক্তব্যের ব্যাপারে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুক সাথে সাথে সকলকে ক্ষমা করুক।

তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ছিদ্রান্বেষণকারী লোকের অভাব নেই, ভুল ধরার লোকেরও অভাব নেই কিন্তু ভুল ধরায়া দেওয়ার লোকের অনেক অভাব। আল্লাহ তায়ালা সকলকে ক্ষমা করুক এবং কুরআন হাদিস মত আলোচনা করার তৌফিক দান করুক।

তবে মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকের বক্তব্যের ব্যাপারে বা তার ব্যাপারে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের ব্যাপারে তিনি আরও গঠনমূলক ও যৌক্তিক সমাধান দেবেন বলে আশা করেন অনেকে। মাহফিলে মাহফিলে সবকিছুর সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করে আরও বুদ্ধিভিত্তিক ও পরামর্শমূলক কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তার শুভাকাঙ্খিরা।

প্রসঙ্গত : পবিত্র কুরআনের সুরা তাহরিমের ৮ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তূবূ ইলাল্লাহি তাওবাতান নাসূহা’। এখানে উল্লেখ করা “তাওবাতান নাসুহা” নিয়ে এর আগেও মাওলানা হাফিজুর রহমানের মত করে অনেকে উল্লেখ করেছেন। এমনকি একটি জাতীয় পত্রিকাতেও এ বিষয়ে একটি আর্টিকেল পাওয়া যায়। দৈনিক ইত্তেফাকের ১ এপ্রিল ২০১৬ শুক্রবারের সংখ্যায় “তাওবাতুন নাসূহা ও বনি ইসরাঈলের এক ব্যক্তির দৃষ্টান্ত” শিরোনামে একটি লেখা পাওয়া যায় যেখানে তাওবাতান নাসূহার সাথে নাসূহা নামক ব্যাক্তির ঘটনা বর্ননা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকার স্বনামধন্য এক মাদরাসার এক শায়খুল হাদিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তাওবাতান নাসূহা” বিশুদ্ধ বা খাটি তওবা কি ? এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত রয়েছে, তবে সবগুলোর মতের সার নির্যাস একই। হযরত নুমান ইবনে বাশির রা. হতে বর্ণিত তিনি ওমর রা. কে বলতে শুনেছেন, হে ইমানদার বান্দাগন তোমরা আল্লাহর নিকট এমন ভাবে তওবা কর, যার দ্বারা আর পাপ কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। অন্য বর্ণনায় আছে ঐ পাপ কাজের আর ইচ্ছাও করবেনা। পূর্ববর্তী আলেমগন বলেন, গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর তওবা করা, লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, পরবর্তীতে আর এই পাপ কাজ করবেনা বলে দৃঢ় সংকল্প করাই হল খাটি বা বিশুদ্ধ তওবা।

তাহলে নাসূহা নামক ব্যাক্তির প্রাসঙ্গিকতা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন তাফসির গ্রন্থে বনি ইসরাইলের মধ্যে নাসূহা নামক এক ব্যাক্তির জীবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে তা তাফসিরের পরিভাষায় “ইসরারাইলি রেওয়ায়েত” নামে পরিচিত। এবং এসব বর্ণনা জনসম্মুখে না দেওয়াই উচিত বলে মনে করেন তিনি।

মন্তব্য করুন