ধর্ষণ ও গুজবের দেশ বাংলাদেশ !

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০১৯

‘কল্লাকাটা’ শব্দটা খুবই ভয়ংকর। অর্থাৎ জবাই শব্দটা এর সাথে সংযুক্ত। দেশে এখন দুটো ঘটনা ও ইস্যুর বাম্পার ফলন ঘটছে। ইনবক্সে অনেকেই অনুরোধ করছেন যেন এ ব্যাপারে কিছু লিখি। দেশে বাচ্চাদের কল্লা কাটার গুজব ও ব্যাপক হারে ধর্ষণ চলছে। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা অতীতের চেয়ে অনেক বেশী। এটার হার খুবই উদ্বেগজনক। এ ক্ষেত্রেও রেকর্ড হয়েছে। গ্রামেগঞ্জে এখন অভিভাবকরা খুবই আতংকে আছেন। ঠিক সময় তাঁর সন্তান টি স্কুল থেকে ফিরে আসবে তো!

গুজবটি হলো, পদ্মা সেতুতে নাকি মানুষের মাথা চাচ্ছে। কে চাচ্ছে, কেন চাচ্ছে- এমন কোন তথ্য নাই। বাজারে যে সংবাদটি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো- পদ্মা সেতু নির্মাণে মনুষ্যমস্তক লাগবে। তাই মফস্বলের শিশুদের অপহরণ করছে ‘ছেলেধরা পার্টি’।

দেশের বিভিন্ন স্থানে অপহরণকারী হিসেবে ধৃতরা পাইকারী হারে মার খাচ্ছে। গণপিটুনির কবলে পড়ে ছেলেধরারা মরতে বসেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত শুনলাম না, একই উদ্দেশ্যে কোনো বাচ্চা অপহরণ হয়েছে, এবং তাকে পুলিশ উদ্ধার করেছে বা পুলিশের হাতে অপহরণকারী আটক হয়েছে! মানব পাচার তথা শিশু ও নারী পাচারের সাথে যারা জড়িত, তারা বছরের নিদৃষ্ট সময়ে অপহরণ করে না। তাঁদের ধান্দা সবসময়ই থাকে।

অবশ্য বাচ্চা অপহরণ করে ভিনদেশে বিক্রী করার মতো ঘটনা বা বাস্তবতা বরাবরের রয়েছে। সেটা আলোচ্য বিষয় নয়।

দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বরিশালেও এমনটা হচ্ছে। ওখানে একাধিক ছেলে ধরা সন্দেহে আটকের ঘটনা ঘটছে। বরিশালের চরমোনাইতে দুজন অপহরণকারী ধরা পড়েছে। কিন্তু কোনো অপহরণকারী কল্লা কাটার উদ্দেশ্যে শিশু অপহরণ করেছে, এমন স্বীকারোক্তি কেউ কি দিয়েছে? অর্থাৎ একতরফা প্রচারণা। সবটাই গুজব।

লক্ষ্মীপুরে ৮টি শিশু অপহরণের অভিযোগে যাদেরকে ধরে পিটুনি দেয়া হয়েছে, পরে দেখা গেছে তারা ছেলেধরা নন। পাগল বা আধাপাগল আগন্তুক। এজন্য লক্ষ্মীপুরের এসপি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ জনবহুল একটি দেশ। রাস্তাঘাট বাজার যানবাহনে এমনিতেই ফাউ মানুষদের দেখা মেলে। যারা মূলতঃ কর্মহীন, দরিদ্র ও রোগাক্রান্ত। আমি আবারও বলছি, ঐসব আজাইরা টাইপ মানুষের অনেকেই মানসিক রোগী। এসব মানসিক রোগীরা সরল ও সাদাসিধা। কতকে আবার বাকহীন। এরা এক কিসিমের ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক।

অপরিচিত কেউ কোন শিশুর সাথে কথা বললে আর রক্ষা নাই। তখনি সে পাকড়াও হয়। বাচ্চার সাথে কথা বলার কারণে- তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগে সে ধৃত হয় এবং আচ্ছা মতো মার খায়। অতঃপর থানায় সোপর্দ করা হয়। সবগুলো ঘটনা মোটামুটি এমনি। পদ্মা সেতুতে মানুষের কল্লা লাগবে এমন কোন ডিসিশান নাই। তদুপরি এটা দেশব্যাপী প্রচারিত একটা গুজবের আইটেম। আর গুজবের এরিয়া, সমগ্র বাংলাদেশ।

বাস্তবতা হলো, কোথাও অচেনা মানুষের গতিবিধি সন্দেহজনক হলেই ঐ ব্যক্তি তখন বাচ্চা অপহরণকারী বা ছেলেধরা বলে সাব্যস্ত হয়। আর বাপের নাম ভুলানো পিটুনি খায়। ধৃত ব্যক্তির মতলব কি তা কেউ জানতে চায়না। আগে মারো পরে দেখা যাবেনে।

কিন্তু এ নীতিটা ধর্ষকদের বেলায় খাটছে না। মানুষটা ধর্ষণকারী তবুও উত্তম মধ্যম দিয়ে তাকে পুলিশে খুব একটা চাপিয়ে রাখার প্রবণতা। এটাই বাস্তবতা। ধর্ষকরা কি তাহলে খুবই প্রভাবশালী?

দেশের তাপমাত্রা অনেকটা মরুভূমির ন্যায়। গরম আর গরম। মরুভূমির বাসিন্দা আরবীয়রা সর্বদাই গরম থাকে। আমি তাদের যৌন শক্তির আধিক্যের তার কথা বলছি। হ্যাঁ তারা প্রচুর খেজুর ও ফলমূল খায়, যা তাদের যৌন শক্তির কাঁচামাল। আরবদের থেকে এটা কি তাহলে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে? কিন্তু আরবের মতো খোরমা খেজুর এখানে না থাকলেও ঐ কামে এদেশীরা খুবই পারঙ্গম বলে প্রমাণ রাখছে। ফেসবুকের ওয়াল, পত্রিকার পাতা, ও টিভি পর্দায় ধর্ষণের নিউজে সয়লাব। দেশে কি তাহলে ধর্ষণের সুনামি বইছে? এটা কখন শেষ হবে জানিনা। তবে শেষ হতে হবে।

দু’দশক আগে দেশের মানুষ ব্যবসা করতে পারতো না, চাঁদাবাজি খুনখারাবি এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, তা ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। র্রাবের আগমনে আজ অন্ততঃ চাঁদাবাজির কারণে প্রত্যহ মানুষকে মরতে হয় না। হাইজ্যাকারের হাতে প্রাণ না গেলেও বিনা বিচারে মানুষ মরছে। অপরাধীর সাথে সাথে রাজনৈতিক নেতা কর্মীও মরছে। আর গুমের মাঝেও অনেকে আছেন।

দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করা মাদক ব্যবসায়ীদেরকেও ধ্বংস করার অভিযান চলছে। এমন অভিযানের পাশাপাশি ধর্ষক খেদাওয়ের অভিযানটাও যদি চলতো, তা হলে দেশের মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচতো। ধর্ষকদের হাতে আর একটিও মেয়ে শিশুর শরীর অপবিত্র না হয়, একটি মেয়েও যেন একারণে খুন না হয় সে ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণের জন্য র্যাব দ্রুত ভূমিকা নিবে আশা করি।

একজনে লিখেছে, ভোটচোর সরকার কিছুই করতে পারবে না কারণ, তারা তাদের নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছে। তবুও আপনাকে সরকারের শরণাপন্ন হতে হবে। আর আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে এমনতরো গজব থেকে।

আপনি কি মনে করেন! দেশে ঠাডার পরিমাণ এমনে এমনে বেড়েছে?

লেখক: এক্টিভিস্ট, বিশ্লেষক।

মন্তব্য করুন