ইউটিউব নেশা: বিকৃত যৌনাচার ও সামাজিক অবক্ষয়

মতামত

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০১৯

শাহনূর শাহীন

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব। প্রত্যেকটি এক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এগুলো ছাড়াও আরো বেশ কিছু মাধ্যম আছে; তবে উন্নয়নশীল বাংলাদেশে এগুলোই বহুল পরিচিত। এরমধ্যে টুইটারের ইতবাচক-নেতিবাচক প্রভাব এখনো চোখে পড়ার মতো না। ফেসবুক-ইউটিউবের ব্যবহার বাংলাদেশে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফেসবুক নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা কমবেশি হয়েছে, হচ্ছে নিয়মিত। তাই এ সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করে আমরা ইউটিউব নিয়ে কিছু কথা বলবো।

২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের জন্ম। ফেসবুকের জনক মার্ক জাকারবার্গ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তার রুমমেট এডওয়ার্ডো সেভারিনসহ কয়েকজন বন্ধুর যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পড়াশুনার জন্য উত্তম যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয়। ফেসবুক নামটিও নেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পাঠ্যভুক্ত একটি বইয়ের নাম থেকে। এরপর আস্তে আস্তে এর বিস্তার বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে যায় পৃথিবীর নানান প্রান্তে। ব্যবহারকারীর সংখ্যাটাও বাড়ছে জ্যামিতিক হারে ২০১৭ সালের শেষ প্রান্তিকের হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি মাসে ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২১০ কোটি। আগের বছর এই সংখ্যাটা ছিলো ১৮৬ কোটি। ১৮’ সাল শেষ হয়ে গেছে। হিসেবটা এখনো আসেনি। সংখ্যাটা যে ২৫০ কোটি ছাড়াবে সেটা আন্দাজ করা যায়।

মাননীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের অক্টোবরের দিকে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী ছিলো ১ কোটি ৭০ লাখ। ১২’ সালে এই সংখ্যাটা ছিলো মাত্র ২৩ লাখ। ১৩’ সালে এই সংখ্যাটি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। ওই বছর সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ফেসবুকের উল্লেখ্য, কক্সবাজারের রামু হামলার ঘটনা ও মাওলানা সাঈদীকে চাঁদে দেখা সংক্রান্ত নানান ঘটনায় এই গতির হাওয়ায় পাল তোলে। এছাড়াও ওই বছরই থ্রিজি ইন্টারনেট সেবা ও স্মার্টফোন এই গতিকে তরান্বিত করে বলে জানিয়েছেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক। ১৮’ সালের এপ্রিলে এই সংখ্যাটা ৩ কোটি ছাড়িয়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যাটা যে ৪ কোটি ছাড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর প্রভাবও অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সামাজিক আন্দোলন, অবক্ষয়, পারিবারিক বিচ্ছেদ, অপরিণামদর্শী পরিণতি, গুজবে সৃষ্ট সামাজিক বিশৃঙ্খলা কোনোটাই বাদ যায়নি। ফেসবুক পরিচয় থেকে আর্থিক ব্লাকমেইল, ধর্ষণ-খুন; গুজবে সৃষ্টা রামু, বি-বাড়িয়ার ঘটনা ছাড়াও সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে ‘কোটা বিরোধী আন্দোলন’ ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ফেসবুকের এই ইতিবাচক-নেতিবাচক প্রভাব ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা উল্লেখযোগ্য না হলেও কম হয়নি। কিন্তু ইউটিউব নিয়ে খুব একটা হয়নি বলা যায়। তাই আজকের আলোচনা ইউটিউব নিয়েই।

ইউটিউবের আনুষ্ঠানিক জন্ম ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। চ্যড হারলি ও স্টিভ চ্যন’র সাথে ইউটিউব প্রতিষ্ঠাতার তালিকায় আছে বাংলাদেশি বংশদ্ভুত জাওয়েদ করিমও। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বব্যাপী দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে ইউটিউব। মানুষ সাধারণত কোনো কিছু জানতে চাইলে পড়তে হয়। শোনতে পারলে পড়ার চেয়ে তাতে আগ্রহ আরো বাড়ে। তারচে আরো বেশি আগ্রহ হয় যদি সেটা দেখে জানা যায় বা শিখা যায়। ভিডিও আপলোডের মাধ্যম হিসেবে ইউটিউব সেই সুযোগের শতভাগ সুবিধা নিতে পেরেছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ইউটিউব থেকে মানুষ কিছু শিখতে পারছে না। শিখার পাশাপাশি পাচ্ছে বিনোদনও। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর অপব্যবহার উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সামাজিকভাবে ব্যপক বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচন সংক্রান্ত দুই তরুণির পুরনো একটি ভিডিও ভাইরালের পর চোখ যায় ইউটিউবের কিছু ‘টিকটক’ ভিডিওতে। ‘টিকটক’ একটি চায়না ভিত্তিক অ্যাপ। টিকটকে ধারণকৃত ভিডিওকে বলা হয় ‘টিকটক’ ভিডিও। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের বক্তব্য, সিনেমার ডায়লগের সাথে ঠোট মিলিয়ে ‘টিকটক’ ভিডও তৈরির প্রবণতা সব থেকে বেশি। এসব ভিডিও তৈরি করে সবাই ফেসবুক-ইউটিউবে আপলোড করে। এসব ভিডিও কী পরিমাণ ব্যঙ্গ আর অশ্লিলতা ছড়াচ্ছে তা কল্পনাকেও হার মানায়। তরুণ-তরুণীরা নির্লজ্জভাবে অশ্লীল কথা-বার্তার সাথে নিজেদের ঠোট মিলিয়ে অবলিলায় তা ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ উচ্চারণের পাশাপাশি আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গিও দৃশ্য ধারণ করে তা ইউটিউবে আপলোড করতে দ্বিধা করছে না। এক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরাও পিছিয়ে নেই। শুধুমাত্র ‘টিকটক’ নয়; বিভিন্ন উপায়ে কুরুচিপূর্ণ সংলাপে ভরা ভিডিও নির্মাণ করে প্রচার-প্রসারের মাত্রাটা অকল্পনীয়। এক সময়কার কৌতুক অভিনেতারাও এই সুযোগটা তাদের হীন উদ্দেশ্যে কাজে লাগাচ্ছে। আর এর থেকে অপ্রাপ্তবয়স্করাও শিখছে কুরুচিপূর্ণ সংলাপ ও নষ্টামির পদ্ধতি। নিচ্ছে অশ্লীলতার দীক্ষা।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক অর্ধপাগল লোকের ইউটিউবে মাতালতায় ভরপুর কিছু ভিডিওর অশ্লীল সংলাপে ফেসবুকের নিউজফিড সয়লাব। যদিও তার একটি ভিডিও এখন পর্যন্ত দেখার ভাগ্য হয়নি বা আগ্রহ হয়নি। কিন্তু তার সংলাপগুলোর সাথে পরিচয় পেতে কোনো বেগ পোহাতে হয়নি। রাতারাতি সেলিব্রেটি বনে যাওয়া খ্যাতির মাতাল এক তরুণির শারীরিক পরিবর্তনের আপত্তিকর কথা, ফেসবুক-ইউটিউবে দেয়া আপত্তিকর ভিডিওর প্রতিবাদে কথিত ইউটিউবাররা হাজার হাজার ভিডিও বানিয়ে তার প্রচার বাড়িয়ে দিচ্ছে শতগুণ। তার এই নৈতিক অধঃপতনের বিচারিক সুনির্দিষ্ট কোনো আইন হয়তো নেই। কিন্তু তার প্রতিকারের কোনো উপায় আছে কিনা তাও ভাববার সময় নেই সংশ্লিষ্ট কারোর। আইন-প্রশাসন কিছু করতে গেলে কিছু উন্মাদ নারীবাদি-নারীখাদকের বাক-স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদে মিডিয়া, টকশো ও প্রেসক্লাবপাড়া গরম করা বক্তব্য হয়তো বিশ্ব মিডিয়ার খোরাক হবে। কিন্তু টেলিভিশনের পদার্য় সেই তরুণির মায়ের অসহায়ত্ব, তাকে থামানোর কোনো উপায় আছে কিনা জানতে চাওয়ার আক্ষেপ হয়তো কারোর কানে পৌঁছবে না।

  • কিছুদিন আগে গত বছরের প্রথম দিকের পুরনো একটি খবরে চোখ পড়ে ফেসবুক নিউজ ফিডে। খবরটি ছিলো- পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া দুই শিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ৯ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের। ধর্ষক ওই দুই শিশুর বয়সও যথাক্রমে ১১ ও ১০ বছর মাত্র। ওই দিনই ইউটিউবে একটি মিউজিক ভিডিওতে চোখ পড়ে। কত হবে? ৮ কী ৯ হবে মেয়েটির বয়স। বলিউডের গানের সাথে ঠোট মিলিয়ে ড্যান্স করছে। দেশে নাচ শেখার আসরের অভাব নেই। কিন্তু এমন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি সম্পন্ন নাচ কোথাও শিখানো হয় বলে জানা নেই। ইউটিউব দেখে দেখেই ছোট্ট মেয়েটি বলিউডের স্বল্পবসনা নায়িকাদের অনুকরণে গানের তালে তালে নাচ শিখেছে নিশ্চয়ই। ওই শেখা পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত না থেকে নিজে সেই গানের তালে নেচে ভিডিও ধারণ করে নিজের নামে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে তাতে আপলোড দিয়েছে। এতে নিশ্চয়ই পরিচিত কারোর সহযোগিতা সে নিয়েছে। কারণ একা একা এটা তার পক্ষে করা কোনোভাবেই সম্ভব না। আর পরিবারের সম্মতি ছাড়াও ওইটুকুন মেয়ের পক্ষে কোনোভাবেই এটা করা সম্ভব নয়।

নারী-পুরুষ পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া মানুষের একটি স্বভাবগত গুণ। সামাজিকভাবে একটা কথা প্রচলিত আছে; বয়স্কদের আকৃষ্টা হওয়া বয়স্কদের ঘিরে। আর তরুণ-তরুণিদের আকৃষ্ট হওয়াটাও অনেকাংশে তাদের সমবয়সীদের ঘিরেই হয়ে থাকে। এই যুক্তিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের আকৃষ্ট হওয়াটাও নিশ্চয়ই সমবয়সীদের ঘিরেই হওয়ার কথা। গতবছরের মার্চের ওই ঘটনা কি সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে নাতো? যদি তাই হয় তবে ইউটিউবে আমরা আমাদের বাচ্চাদের কী শিখাচ্ছি? ইউটিউবের নীতিমালা বিরুদ্ধ না হওয়ায় হয়তো সেসব ভিডিও তারা সরাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সেসব ভিডিও কতটুকু খাপ খায় তা নিয়ে এখনো ভাবনার উদয় হয়েছে কিনা তা দৃষ্টিগোচর হয়নি। শুধুমাত্র ওই ছোট্ট মেয়েটিই নয়; ছোট্ট ছেলেকেও দেখিছি যদিও সে ছোট্ট কোনো শিশু বাচ্চা নং বরং পূর্ণ বয়স্ক একটা পুরুষই হবে। বয়স হলেও দেখতে ছোট অর্থাৎ বামন। এই বামন লোকটিও নিজের কিছু সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে সমাজের কিছু বখে যাওয়া নির্লজ্জ তরুণীকে সঙ্গে করে যত্তোসব উদ্ভট আর আশ্লীল ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে প্রকাশ করে চলছে দেদারছে। ওদের ভিডিও গুলির শিরোনামই থাকে অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ। ইউটিউবে এই ধরনের ভিডিওগুলোর ভিউ সংখ্যা দেখলে চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। যেটা যত বেশি অশ্লীর সেটার ভিউ তত বেশি। লাখের ঘর পেরিয়ে কোটির সীমানাও ছাড়িয়ে গেছে কোনো কোনো ভিডিও। কী পরিমাণ লোক প্রতিনিয়ত ইউটিউবে অযথা সময় নষ্ট করে সস্তা বিনোদন নিচ্ছে সেটা আন্দাজ করাও মুশকিল। ফেসবুকের চেয়ে ইউটিউবে সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রার প্রভাব যে কয়েকগুণ বেশি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

  • প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই ধর্ষণ-গণধর্ষণের খবর। বড় বড় শিরোনামে পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয় সেসব। একটা ঘটনা ধামাচাপা দেয় আরেকটাকে। এভাবেই বেড়ে চলছে মানবিক পশুত্বের দাপট ও কর্মযজ্ঞ।

পশ্চিমা বিশ্বে নারী অধিকারের কথা অতিমাত্রায় আছে বলে শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে সেসব দেশে নারী নিপিড়নের ঘটনাও রেকর্ড মাত্রায় বেশি। পোশাকে, আচরণে চলাফেরায় নারীর অবাধ স্বাধীনতাই যে তার কারণ সেটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এর মানে যে নারীর অধিকারকে খর্ব করতে হবে তা নয়। কিন্তু স্বাধীনতার নামে, অধিকারের নামে নৈতিকতার সীমা ছাড়ানো, দেশীয় সংস্কৃতির স্বাধীনতার সীমা ছাড়ানো কি আদৌ কাম্য হতে পারে? সামাজিক অবক্ষয়ের এই চিত্রায়নের মোটাদাগে দুটি কারণ। এক, সামাজিক মূল্যবোধের অভাব; দুই, নৈতিক শিক্ষার অভাব। দুটোই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সামাজিক এসব যোগাযোগ মাধ্যমের প্রবল শক্তিশালী অনৈতিক প্রভাবের কারণে। ধর্ষণ-গণধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণকারীরা সমাজের নিকৃষ্ট জীব এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সমাজের কোনো সুস্থ বিবেকবান মানুষ ওই সব নরপশুদের সমর্থন করতে পারে না। কিন্তু ওই সব নরপুুশুদের পশুত্ব জাগিয়ে তুলতে নারীর অর্ধনগ্ন হওয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করা কি সমান না হলেও একটুও অপরাধের মধ্যে পড়ে না?

  • সিনেমা পাড়ার এক সময়ের দাপুটে অভিনেত্রী ‘ববিতা’ সম্প্রতি গণমাধ্যমে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন বর্তমানে সিনেমায় আইটেম গানের আর্টিসদের স্বল্পবাসনা হতে দেখে তিনিও লজ্জা পান।

লজ্জা তো পাওয়ারই কথা। এক সময় মা, বাবা, ভাই-বোন পরিবারের সবাই মিলে সিনেমা হলে সিনেমা দেখার কথা শোনা গেছে। কিন্তু বর্তমানে সেটা হচ্ছে না। দর্শক শূন্যতায় সিনেমা হল বন্ধও হচ্ছে। হলে না গিয়ে গোপনে কাঁথা মুড়ো দিয়ে সিনেমা দেখা এখনকার তরুণ-তরুণিদের নিত্যকার অভ্যাস। কারণ তো ওই একটাই; স্বল্পবাসনা নায়িকার দৃষ্টিকুটু শরীর ঝোলানোর দৃশ্য উপভোগ। যা পরিবারের সবার সামনে দেখতে পারে না। আড়ালে দেখতে হয়। নায়িকার চরিত্র হরণে ভিলেনের কুট-কৌশল, পদ্ধতি চিত্রায়ণ হয় কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই। আর এসব অশ্লীল দৃশ্য কিছু মস্তিস্কবিকৃত ইউটিউবার আরো চটকদার শিরোনাম দিয়ে, কাটপিস করে ইউটিউবে আপলোড করে লক্ষ-কোটি ভিউয়ের আশায়। আর সেসব দেখেই ওই সব নরপশুদের পশুত্ব জেগে ওঠে। ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে নিজের লালসা মিটানোর হাতিয়ার খুঁজতে থাকে। এদের কবল থেকে রক্ষা পায় না কোলের শিশু কন্যা থেকে আশি বছরের বৃদ্ধা নারীও। কত জঘণ্যতম দৃষ্টান্ত যে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। প্রশ্ন উঠে এসব নিকৃষ্ট উদাহরণ প্রতিকারের কি কোনো উপায় নেই?

নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন সময় ফেসবুক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি। ফেসবুকে গুজব ছড়ানো, বিদ্ধেষ ছড়ানো ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল যথেষ্ঠ নজরদারির ব্যবস্থা নিয়েছে ইতোমধ্যে। কিন্তু ইউটিউব নিয়ে দৃশ্যমান বিশেষ কোনো তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ইউটিউবের সাথে যৌথ নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশীয় সংস্কৃতি বিরুদ্ধ, অশ্লীলতা ঘৃণা ছড়ানোমূলক ভিডিও অপসারণের ব্যপারে সংশ্লিষ্ট মহল বিশেষ চেষ্টা করতে পারে। শারীরিক পরিবর্তন করে রাতারাতি সেলিব্রেটি বনে যাওয়া তরুণিকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাইবার টিম ঢেকে নিয়েছিলো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পরে নিজের ভুল স্বীকার করে এবং মুচলেকা দিয়ে পুলিশের থেকে ছাড়া পায়। এরপর থেকে সে নিজেকে কিছুটা সংযতই রেখেছে বলে মনে হয়। তথাকথিত অন্যান্য ইউটিউবারদের ব্যাপারেও সাইবার টিম এমন দৃশমান পদক্ষেপ নিবে বলে আশা রাখি। এ বিষয়ে জোর দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক: কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

মন্তব্য করুন