ড্রাইভারে পাশে মহিলা সিট বাস দূর্ঘটনার অন্যতম কারণ

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০১৯

সুলতান মাহমুদ আরিফ

বাসের ভিতের ড্রাইভারের ডান পাশের সিটের উপরে লেখা ‘মহিলা সিট’ ৬ জন। আবার পিছনের সিটের উপরে লেখা ‘মহিলা সিট’ ৩ জন। বাহ!! ভালোই তো। এগুলোই মহিলাদের সংরক্ষিত আসন। হাজারো জ্যাম থাকুক তিনারা বাসে উঠবেন আর বিনা ভোটেই আসনে বসে পড়বেন। ভালোই তো!! যাক ওটা নিয়ে আমার ছোট্ট এই মাথাটার ভিতরে চিন্তা না আনাই ভালো। ওনাদের জন্য এরকম একটা-দুইটা সিট থাকাই ভালো। কারণ, সৃষ্টি থেকেই দুর্বল সৃষ্ট তারা।

আমার মুল আলোচ্য বিষয় হল; আপনাদের তথা মহিলাদের এই সিট গুলো ড্রাইভারের আশে- পাশে হবে কেন? এটাই কি এক্সিডেন্ট হওয়ার অন্যতম কারণ নয়? ইদানীং বাসে বেশির ভাগ আমার ইয়াং বোনেরা উঠেন। উঠেই সংরক্ষিত সিটে গিয়ে বসেন। আজও তাই হল; কিছু ইয়াং বোনেরা বাসে উঠেই ড্রাইভারের পাশের সিটগুলোতে অবস্থান নেন। আর ড্রাইভারের নজরে দৃষ্টিপাত করেই দেখা যায় কৌশল কিংবা ইচ্ছা করে তাকানোর চেষ্টা করে সেই সব মেয়েদের দিকে।

এতে করে গাড়ী এক্সিডেন্ট এর সম্ভাবনা খুব বেশি। বৃহৎ গাড়ী এক্সি ডেন্ট এর মুল কারণ খোঁজ করলে ড্রাইভারদের এরকম চাহনীকেই আপনি মুল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করতে পারবেন। এই এক্সিডেন্টকে অনেকেই আবার মেয়েদর পোশাককে দায়ী করার অপ্রচেষ্টা করতে যাবেন না। তাহলে, দোষ কার??

দোষ আমাদের! আমাদের পশুত্বের স্বভাবের। আমরা মেয়েদেরকে মানুষ মনে করি না। মনে করি এক মাংসপিণ্ড। মেয়েদের শরীরটাকে আমরা মাংস মনে করেই ক্ষুদার্থ যৌনক্ষুদায় নিমজ্জিত সিংহের ন্যায় তাকিয়ে থাকি। সুযোগ পেলেই জাপটে পড়ি মাংস ভক্ষণের জন্য।

মাঝখানে খুব দেখেছি পত্রিকার পাতায় ড্রাইভার কর্তৃক কলেজ পড়ুয়া বোনদের ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা ধর্ষণ। ড্রাইভারদের থেকে এমন আচরণে আমি ব্যথিত নই। কারণ, আমরা সভ্য সমাজ, যারা নিজেদের শিক্ষিত মনে করি ; তারাও এই মহিলা জাতিকে মাংসের পিন্ডই মনে করি। গতকাল নারায়ণগঞ্জ যে হুজুর যৌন মামলায় ধরা খেয়েছেন, তিনি কিন্তু একটা মাদ্রাসার পরিচালক ছিলেন!! ক্লাস থ্রী পড়ুয়া মেয়েকে তিনি দীর্ঘদিন থেকে ধর্ষণ করে আসছেন!! তিনিও তো ক্লাস থ্রী পড়ুয়া মেয়েটিকে মানুষ মনে না করে স্রেফ মাংসপিন্ড মনে করে তার যৌনক্ষুদা নিবারণের বস্তু হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন। শুধু কি তাই!! ঐ হুজুরতো মেয়েকে পছন্দ করেছেন এহেন কর্মের জন্য। যেসব প্রতিষ্ঠানে মেয়ে নেই তারা কি করে! সেই সব হুজুররা ( ২% হুজুর) সুন্দর ছেলেদেরই পছন্দ করেন। যাকে বলে সমকামীতা। যাত্রাবাড়ীতে কিছু দিন আগেই তো সেই রেশ ধরেই খুন হল মাদরাসার ছাত্র। অথচ, এই হুজুরদের অনেকেই সমকামীতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকাকে তুলোধুনো করছেন। আর তারাই ভিতরে ভিতরে আবাসিক প্রতিষ্ঠান গুলোতে এমন কার্য করে থাকেন। আমি নিজেই স্বচোক্ষে এরকম বহু বিচার হতে দেখেছি। ক্বওমে লুতের এমন কর্ম থেকে কখনও ক্বওমে আলেম বের হবে না। বের হবে শুধু ক্বওমে লুত আলেম। এদের থেকে সাবধান। এমন ঘৃনিত কর্ম থেকে আল্লাহু সবাইকে হেফাজত করুন।

কথা হচ্ছিল; মহিলা সিট নিয়ে। যেখানে দেশ গড়ার আদর্শ ব্যক্তিরাই বিগড়ে যায়। সেখানে ড্রাইভাররা তো স্বাভাবিক। তাদের চরিত্রকে হাজারো ওয়াজে আপনি অতটা শুদ্ধতায় আনতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। তারা স্বভাবজাতই মেয়েদর মাংসপিণ্ড মনে করে। আর এই ড্রাইভারদের আরো কিছু ওস্তাদ রয়েছেন ভার্সিটির শিক্ষকরাও। যেখানে পত্রিকার পাতায় ভার্সিটির শিক্ষকদের ধর্ষণের সেঞ্চুরির খবর পাওয়া যায়!! যেখানে পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভনে মেয়েদের নিজের রুমে নিয়ে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়!! সেখানে এই সব ড্রাইভার এমনটি করাতে এত হতবিহ্বল হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেখানে রক্ষক হয় ভক্ষক, সেখানে সাধারণদের অবস্থা সাধারণেই থাকুক।

কথা হচ্ছে এক্সিডেন্ট নিয়ে; বাস এক্সিডেন্ট এর অন্যতম কারণ হল এই মহিলা সিটগুলো ড্রাইভারদের পাশে থাকায়। সুতরাং – এই সিটগুলো যদি পিছনের কিংবা মাঝের কোনো এক জায়গায় সংরক্ষণ করে দেওয়া হয় তাহলে হয়তো এক্সিডেন্ট এর হার কিছুটা কমবে। তবে হ্যাঁ পেছনে দেয়াটাই বেশি যুক্তিযুক্ত এবং সেক্ষেত্রে বাসের পেছনেও একটি উঠা-নামার দরজা থাকতে হবে। নতুবা পেছনে যাওয়ার সময় কথিত সভ্য পুরুষদের চাপে দূর্বল নারীরা গলে যাবে। আগে অসভ্যরা সভ্য হোক।

: শিক্ষার্থী তিতুমীর কলেজ, (লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)।

মন্তব্য করুন