শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে ট্রাস্ট করেন না: তাসলিমা নাসরিন

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৯

রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের পোড়াঘাটা এলাকায় বেড়িবাঁধের উপরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়।

নয়নের খুনের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন তাসলিমা নাসরিন। তিনি ফেসবুকে আইডিতে এক দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে ট্রাস্ট করেন না। তিনি মনেও করেন না দেশের বিচার ব্যবস্থাকে তিনি বেটার করতে পারবেন, বা পুলিশ জজ সাহেব প্রমূখের দুর্নীতি কিছু কমাতে পারবেন। নিজের ওপর মিনিমাম আস্থাও নেই তাঁর। তিনি কিছু হিটম্যানন পুষছেন। এদের পাঠিয়ে দেন আনসোশ্যাল বা সোশ্যাল মিডিয়ার বিচারে অপরাধীকে খুন করে আসতে। পোষা সাংবাদিকদের বলাই আছে, ক্রসফায়ারে নিহত লিখে পাঠক ভোলানোর জন্য। এইভাবেই চলছে। অনেকটা ভিডিও গেম এর মতো। ক্লিক করলেই বুম। জংগি, মাদক ব্যবসায়ী, খুনী, ধর্ষকদের এভাবেই বিচারবিহীন নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে।

তাসলিমা লিখেছেন, হাসিনার অত ধৈর্য নেই বিচারে কী হবে না হবে তার জন্য অপেক্ষা করা। অথবা বসে বসে বেল নিয়ে আসামীর জেলের বাইরে বেরিয়ে পড়া দেখা। তার চেয়ে বুমই ভালো। কিছুদিন আগে নয়ন নামের এক লোক রিফাত নামের এক লোককে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মেরেছে। ফেসবুকে হত্যার ভিডিও দেখে হাসিনা পোষা হিট্ম্যান পাঠিয়ে দিলেন, যা নয়নকে খুন করে আয়। নয়ন খুন হয়ে গেল। পোষা সাংবাদিকরা লিখে দিলেন ক্রস ফায়ারে মৃত্যু। ব্যস।

তিনি আরও লিখেন, সমস্যাটা কোথায়? দেশ তো অপরাধী মুক্ত হচ্ছে। অপরাধী মুক্ত হচ্ছে বটে, কিন্তু অপরাধ মুক্ত তো হচ্ছে না। অপরাধ মুক্ত দেশ বানাতে হলে যা যা করতে হয় তা তো হাসিনা বিবি করছেন না।যে শিক্ষাটা দিতে হবে দেশের সর্বত্র,সবাইকে, যে ব্যবস্থা নিতে হবে মানুষকে সভ্য করার জন্য , তা দেওয়ার বা নেওয়ার ধৈর্যও যে মাননীয়ার নেই। সমস্যাটা হলো, ক্রস ফায়ারের নাটকটা জমছে ভালো। হাসিনা না হয় ঠিক ঠিক অপরাধীকে মারছেন। সব সময় কি ঠিক ঠিক অপরাধীকেই মারছেন, জানি না। তবে অন্যরা এসে এই পদ্ধতি যদি অনুসরণ করে, নিজের নিরপরাধ শত্রুদেরও নানা অযুহাতে খতম করে ফেলবে। এই পদ্ধতি কোনও গণতান্ত্রিক দেশের পদ্ধতি হতে পারে না। এই পদ্ধতির নাম পাগলা রাজার অরাজকতা। ইতিহাসে এমন এমন পাগলা রাজা ছিল, তারা কাউকে পছন্দ না হলেই শূলে চড়াতো, রাজ্যের লোকেরা হাঁ করে দেখতো, আর হাততালি দিত। শুভবুদ্ধির মানুষেরা পাগলা রাজাদের নিশ্চিহ্ন করে হাজার বছর সংগ্রাম করে গণতন্ত্র এনেছে। এখন গণতন্ত্র থেকে সেই হাজার বছর পেছনে চলে যাওয়াটা কি ঠিক হচ্ছে? ওখান থেকে গণতন্ত্রে ফিরতে কিন্তু আবার হাজার বছর লেগে যেতে পারে।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন