সিরিয়ায় নারীদের পুরুষমুক্ত গ্রাম নির্মাণ

প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৯

সিরিয়ায় ২০১৬ সালে শুধু নারীদের জন্যই গড়ে তোলা হয় ব্যতিক্রমী এক গ্রামের। সেখানে পুরুষরাও যেতে পারেন তবে শুধু দিনের বেলায়। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর নৃশংসতা ও যুদ্ধের সহিংসতা থেকে বেঁচে ফেরা নারীরা এ গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।

পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারীরাও আছেন এ গ্রামে। গ্রামের নাম জিনওয়ার, কুর্দিশ ভাষায় যার অর্থ ‘মেয়েদের জায়গা।’ ধর্ম, জাত, রাজনৈতিক মতামত সেখানে কোনও বাধা নয়। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র আর নতুন একটা জীবনের আশায় মহিলা তৈরি করেছেন নতুন এলাকা।

আইএসের সঙ্গে যুদ্ধে স্বামী মারা যাওয়ার পরে জীবনটা আমূল পাল্টে গিয়েছিল সিরিয়ার ফাতমা এমিনের। অনেক লড়াই থেকে ঘুরেফিরে ‘জিনওয়ারে’ এসে পৌঁছান ফাতমা।

তিনি বলেছেন, মহিলাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছেন যারা বা যারা ভাবেন, সমাজে মহিলারা দুর্বল, তারা নিজেদের আর বাচ্চাদের সামলাতে পারেন না, সেই সব ব্যক্তির মুখের উপরে জবাব দিচ্ছে জিনওয়ার।

মহিলারা নিজের বাড়ি তৈরি করছেন। আমরা একটা গ্রাম তৈরি করেছি, শুধু কুর্দ মহিলাদের জন্য নয়। আরব, ইয়েজিদি এবং বিদেশি অনেক বন্ধুও আছে আমাদের সঙ্গে।

চার বছর আগে অগস্টে স্বামীকে হারিয়েছিলেন ফাতমা। ছ’সন্তানকে নিজের কাছে রাখার জন্য বছর ৩৫-এর মহিলাকে লড়াই চালাতে হয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকদের সঙ্গে।

ফাতমার ভাষায়, ওদের মনে হয়েছিল, আমি একা মহিলা, ছ’টা মেয়ে নিয়ে! এত দুর্বল। কোনও পুরুষ নেই দেখভালের জন্য। একা মেয়েদের জন্য এক মহিলা বেঁচে রয়েছে, এটা ওদের ভাবনাতেই আসত না।

কুর্দ মহিলা আন্দোলনকারীদের একটি গোষ্ঠীর সাহায্যে মেয়েদের নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন ফাতমা। তাকে আপন করে নেয় জিনওয়ার।

খয়েরি রঙের চৌকো বাড়িঘর। হাতে তৈরি মাটির ইট দিয়ে বানানো। বাইরে থেকে খটখটে আর রোদে পোড়া। ভিতরে ছবি আঁকা আর সাজানো। যাঁরা রয়েছেন ঘরে, তাঁদেরই ছোঁয়া।

এখন জিনওয়ারে থাকেন ১৬ জন মহিলা আর ৩২টি শিশু। পুরুষেরা এখানে আসতে পারেন শুধু দিনের বেলায়। তবে মহিলাদের সম্মান করা যে পুরুষদের ধাতে নেই, তাদের জন্য জিনওয়ারের দরজা বন্ধ। মহিলারাই নজর রাখেন, গ্রামে কে ঢুকছে, কে বেরোচ্ছে। রাতে তাদের সঙ্গে থাকে অস্ত্র, নিরাপত্তার জন্য।

দু’বছর আগে জিনওয়ার শুধু এক খণ্ড জমি ছিল। স্থানীয় কুর্দ মহিলারা একজোট হয়ে সেখানে বসতি গড়ার পরিকল্পনা করেন। পাশে দাঁড়ায় আন্তর্জাতিক কিছু সংগঠনও।

গড়ে তোলা হয় ৩০টি বাড়ি, একটা বেকারি আর এক দোকান। চাষের জন্যও রয়েছে কিছুটা জমি। শিশুরা বড় হলে তারা যদি এখানেই থেকে যেতে চায়, থাকবে। না চাইলে, নয়। এখনও তারা গ্রামের বাইরে স্কুলে যায়। আর গ্রামের মহিলাদের শিক্ষা দেওয়া হয় বিশেষ পদ্ধতিতে।

ভরসা শুধু, কুর্দ বাহিনী হয়তো পাশে দাঁড়িয়ে রক্ষা করবে জিনওয়ারকে। তবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মেয়েরাও। যারা এত দূর লড়াই করে এসে আর হারতে চান না। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন