বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নাগাল পেতে আরও শক্তিশালী টেলিস্কোপ

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৯

গত কয়েক দশকে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক টেলিস্কোপ মহাকাশের প্রত্যন্ত অংশকেও বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের আওতায় এনে দিচ্ছে৷ এবার ইউরোপের এক টেলিস্কোপ এক্ষেত্রে বড় এক অভাব পূরণ করছে৷

২৩ মিটার ব্যাস ও ৪৫ মিটার দীর্ঘ এই টেলিস্কোপের পোশাকি নাম ‘লার্জ সাইজড টেলিস্কোপ নাম্বার ওয়ান’৷ অত্যন্ত শক্ত অথচ হালকা কার্বন তন্তু দিয়ে সেটি তৈরি করা হয়েছে৷ ফলে সেটি অত্যন্ত দ্রুত ঘোরানো যেতে পারে, এতকাল যা সম্ভব ছিল না৷

মিউনিখ শহরের বিজ্ঞানীরা এই প্রকল্প রূপায়ণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন৷ মাক্স প্লাংক ইনস্টটিউটের বাগানে গবেষকরা এক পরীক্ষামূলক নকল গড়ে তুলেছেন৷ সেখানেই তাঁরা গোটা কাঠামোর খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্যগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী রদবদল করেছেন, যাচাই করে দেখেছেন৷

এ যেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এক জিম! ডেভিড গ্রিন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা কার্বন তন্তু দিয়ে তৈরি কাঠামোয় লেন্স বসানোর সব সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখেছি৷ তাছাড়া ডিস্কের উপর বসানোর জন্য নতুন এক সরঞ্জাম তৈরি করেছি৷ এখানে সেটি পরীক্ষা করে তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছি৷ ফলে লা পালমা-য় গিয়ে সেখানে শুধু মূল বস্তুটি বসালেই চলবে৷”

তিন বছর ধরে ১০০ সদস্যের এক আন্তর্জাতিক টিম প্রায় ৪০ কোটি ইউরো মূল্যের এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন৷ বিশাল এই টেলিস্কোপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গামা রশ্মির বিকিরণ পরিমাপ করতে পারে৷ এই রশ্মি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গভীরের বার্তা বহন করে৷ যেমন অন্য কোনো ছায়াপথে নক্ষত্রের বিস্ফোরণ ঘটলে অবিশ্বাস্য দূরত্ব অতিক্রম করে গামা রশ্মি সেই বার্তা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়৷ এই প্রকল্পে গবেষণার এই ক্ষেত্রটি নতুন মাত্রা পাচ্ছে৷

ডেভিড গ্রিন নিজে লা পালমায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷ তিনি সেখানকার পরিবেশ সম্পর্কে বেশ উচ্ছ্বসিত৷ ডেভিড বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানের অর্ধেক অংশ পার্টি, বাকি অর্ধেক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের মতো ছিল৷ প্রথম টেলিস্কোপের কাজ শেষ হবার পর সবাই খুবই উত্তেজিত ছিলেন৷ তবে আমরা এ বিষয়ে সচেতন, যে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে৷ নির্ভুলভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে, ক্যামেরা ঠিকমতো চালু রাখতে হবে, সবকিছু ঠিকমতো চলতে হবে৷”

যে সব বিজ্ঞানীরা বিশেষ এই ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন, এখনো পর্যন্ত তাঁদের দৃষ্টিশক্তি সীমিত ছিল বলা চলে৷ নতুন ‘লার্জ সাইজ টেলিস্কোপ’ তাঁদের দূরের বস্তু দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে৷ এই ক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল৷ ইউরোপের নতুন এই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ২০৪৮ সাল পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ ডয়চে ভেলে।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

 

মন্তব্য করুন