পটুয়াখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর অফিসে হামলা ভাঙচুর

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯

পাবলিক ভয়েস: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত। এরইমধ্যে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চেম্বারের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থক ও নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে অহরহ। ফলে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীকে ১৮৯২ সালে ১ এপ্রিল পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। জেলা হিসেবে পুরাতন হলেও পটুয়াখালী পৌরসভা নানা সমস্যায় জর্জরিত। পৌরসভার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীত এবং তহবিল তছরুপের নানা অভিযোগ।

পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন ভাতা বকেয়া থাকা কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বকেয়া বিল এখন পৌরসভার গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। এসব কারণে এ নির্বাচনটি পটুয়াখালী পৌরবাসীর কাছে পরিবর্তনের নির্বাচন হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। আর এসব কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এসব বিষয়কে প্রধান্য দিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মোট ভোটার ৪৫ হাজার ১৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ৮৫১ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৩২৬ জন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০১৬ সালে মেয়াদ পূর্তি হলেও সীমানা জটিলতায় আটকে যায় নির্বাচন।

শহরের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শামিম জানান, তিন বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। যোগ্য ব্যক্তিকে সুষ্ঠু পরিবেশে যেন ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারেন এমন দাবি সাধারণ ভোটারদের।

এদিকে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চেম্বারের সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদের সমর্থক মনির হোসেনকে (৫০) কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাতে লঞ্চঘাটে মহিউদ্দিনের নির্বাচনী অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, গতকাল শনিবার রাতে মোটরসাইকেলের শোডাউন নিয়ে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি বাহিনী তার নির্বাচনী অফিসে হামলা ভাঙচুর চালায়। এ সময় অফিসে থাকা মনির হোসেনকে মারধর করে। সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয়রা মনিরকে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে আসেন।

তিনি আরও জানান, নৌকার প্রার্থীর লোকজন ২০ ফেব্রুয়ারি রাতভর শহরের লঞ্চঘাট, গোরস্থান সড়ক, হেতালিয়া বাধঘাট ও আনসার ক্যাম্প এলাকার চারটি নির্বাচনী অফিস এবং ২২ ফেব্রুয়ারি গত শুক্রবার রাতে শহরের ৭নং ওয়ার্ডের কবরস্থান সড়ক, চকবাজার এবং কাঠপট্টি এলাকার তিনটি অফিসে হামলা চলিয়ে ভাঙচুর করে। বিষয়টি জেলা রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

সদর থানা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা ঘটনা শুনেছি, প্রার্থীরা এমন অভিযোগ করে নির্বাচনী সুবিধা নিতে চায়। বাস্তবে তদন্ত করে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, গতকাল রাতে লঞ্চঘাটে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আপনারা যদি ওই রকম ছবি পেয়ে থাকেন তাহলে আপনারা দেখেন আমাদের কাছে এমন কোনো ছবি আসেনি।

মন্তব্য করুন