সম্পদের পাহাড় গড়া আবজলের ২৫ টি বাড়ি জব্দ

প্রকাশিত: ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট:  হঠাত করে আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মত স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের সম্পদের পরিমান দেখে চমকে উঠেছে দেশবাসী। দুদক জানিয়েছিল, তার আনুমানিক সম্পত্তির পরিমান ১৫ হাজার কোটি টাকার মত।বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তো বটেই বিদেশেও রয়েছে তাঁর পাহাড় পরিমান সম্পত্তি।

সম্প্রতি দুদক আবজাল দম্পতির নামে থাকা প্রায় ২৫টি বাড়ি-প্লট ও জমি জব্দ করেছে। এছাড়াও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, এবি ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এবং রুবিনার নামে থাকা ২০০০ সিসির ‘টয়োটা হ্যারিয়ার’ একটি গাড়িও জব্দ করা করেছে দুদক।

জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, আবজাল হোসেনের জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার উত্তরার ১৫/সি নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ২৪ নম্বর প্লট, উত্তরার ১৫/সি নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ২৬ নম্বর প্লট, খিলক্ষেতে তিন কাঠা জমি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চার কাঠার প্লট, মিরপুরে আড়াই কাঠা জমির ওপর টিনসেড বাড়ি, পল্লবীতে ছয় কাঠা জমি, ফরিদপুরের কোতয়ালী পৌরসভা মৌজা এলাকায় সাড়ে ১০ শতাংশ জমিতে দোতলা বাড়ি, একই এলাকার রঘুনন্দনপুর মৌজায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি, জেলার পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় ১১৩ শতাংশ জমি, রাজবাড়ী জেলার বসন্তপুর ইউনিয়নে ২৩০ শতাংশ জমি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের খালিশপুর বয়রা মৌজায় সাড়ে পাঁচ কাঠা জমি, একই সিটি কর্পোরেশনের মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা প্লট।

এছাড়াও দুদক রুবিনার নামে থাকা ঢাকার মিরপুরে একটি টিনসেড বাড়ি, পল্লবীতে আড়াই কাঠা জমি, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের ৩০৬৭ নম্বর ব্লকে তিন কাঠার একটি প্লট, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের ৩০৬৬ নম্বর ব্লকে তিন কাঠার একটি প্লট, ঢাকার কেরাণীগঞ্জের একটি মার্কেটে দোকান, রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কে সাড়ে তিন কাঠা প্লটে ছয়তলা বাড়ি, উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কে তিন কাঠা প্লটে ছয়তলা বাড়ি, ঢাকার সাভারে ১৫ শতাংশ জমি, ফরিদপুরের কোতয়ালী পৌরসভার হাবেলী গোলাপপুরে দোতলা বাড়ি, একই জেলার চর পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় আট শতাংশ জমি, জেলার একই এলাকায় আরেকটি নয় শতাংশ জমি, জেলার একই এলাকায় সাড়ে পাঁচ শতাংশের আরেকটি জমি।

প্রসঙ্গত : আবজাল হোসেন ১৯৯৫ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি আঞ্চলিক প্রকল্পে ‘অফিস সহকারী’ পদে অস্থায়ীভাবে যোগ দেন। পরে তিনি হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে অধিদপ্তরের মহাখালী এডুকেশন শাখায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অধিদপ্তরের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে আছেন। আর আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানম একই অধিদপ্তরের আরেকটি আঞ্চলিক প্রকল্পে ‘স্টেনোগ্রাফার’ পদে ১৯৯৮ সালে যোগ দিয়ে ২০০০ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। তাদের সম্পদ এবং অন্যান্য অর্থবিত্ত নিয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক।

মন্তব্য করুন