থানায় ঢুকিয়ে যুবককে পেটালেন ডিসি, স্ত্রীর সঙ্গে চ্যাটের অভিযোগে

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০১৯

পাবলিক ভয়েস : স্ত্রীর ফেসবুক ফ্রেন্ড এক যুবক বউকে লিখেছিলেন কিছু কথা! তাতেই রেগে গেলেন জেলা প্রশাসক। বাড়ি থেকে থানায় তুলে নিয়ে ওসির রুমে ঢুকেই স্ত্রী-স্বামী মিলে বেধড়ক পেটালেন যুবককে। পুলিশের সামনে বার-বার বাঁচার আঁকুতি করেও লাভ হয়নি।

ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) ভারতের সেরা দশজন অফিসারের একজন নিখিল নির্মল। সেরার এই কর্মকর্তার এহেন কর্মকাণ্ড নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে যুবককে পেটানোর ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় জেলা শাসকের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জেলা শাসকের স্ত্রী নন্দিনী কিষাণ। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই যুবকের নাম বিনোদ কিশোর সরকার। তারা দুজনে দুজনের ফেসবুক ফ্রেন্ড। দুদিন আগে তাদের মধ্যে চ্যাট হয়। সেই চ্যাটের দু-একটি শব্দ নিয়ে জেলা শাসক এবং তার স্ত্রী দুজনই এমন অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন।

ফালাকাটা থানার ওসির রুমে এই ঘটনা কিভাবে ঘটল সেটা জানতে চেয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য সচিব মলয় দে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

আর যার আইন প্রয়োগের কথা, সেই জেলা শাসক কিভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন সেই উত্তরও পাওয়া যায়নি। কলকাতা থেকে ওই জেলা শাসকের মোবাইল ফোনে দফায়-দফায় ফোন এবং এসএমএস করা হলেও কোনও উত্তর দেননি।

তবে ভিডিও চিত্রে যেটা পরিষ্কার তা হলো, থানায় ঢুকে যুবককে চড়-থাপ্পড়-লাথি মারতে দেখা যাচ্ছে জেলা শাসক নিখিল নির্মলকে। শুধু তিনি একা নন, নির্মল এই মারধরের সহযোগী ওই যুবকের ফেসবুক ফ্রেন্ড নন্দিনী কিষাণও।

নন্দিনী কয়েক বার গাড়ি থেকে বড় লাঠি এনে পেটানোর কথা বলেন। পাশ থেকে একজন পুরুষ (সম্ভবত থানার ওসি) বলেন, না লাঠি ব্যবহার করা যাবে না ম্যাডাম।

আসলে কি হয়েছিল সে ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, যুবক এবং নন্দিনী পুরস্পরের বন্ধু। দুজনের মধ্যে কথাবার্তাও চলে। যুবক মোটেও জানত না যে, নন্দিনী কিষাণ জেলা শাসকের স্ত্রী।

কদিন আগে নন্দিনী বিনোদ কুমার সরকারকে আলাদা একটা গ্রুপে যুক্ত করেন। কিন্তু সেখানে কিছু কুরুচিকর কথাবার্তা হতো অনেকের সঙ্গে। ওই গ্রুপে যুবক জানতে পারেন, নন্দিনী আসলে জেলা শাসকের স্ত্রী।

তখন তাকে লেখেন, আপনি তো জেলা শাসকের আলোয় আলোকিত!

শুধু এই শব্দটি মনে হয়েছে নেতিবাচক। তাতেই দুদিন আগে ফালাকাটার বাড়ি থেকে ওই যুবককে তুলে নিয়ে আসে ফালাকাটা থানার পুলিশ। এরপরই সেখানে পৌঁছান জেলা শাসক, তার স্ত্রী এবং তার এক বান্ধবী।

এরপরই যুবককে এইভাবে মারধর করা হয়। জেলা শাসক মারার সময় হুঙ্কার করে বলছিলেন, ‘এই জেলায় আমার ওপর কেউ কথা বলতে পারবে না। এটাই শেষ কথা।’

মন্তব্য করুন