আমি পারুল! আমি বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৯

মতামত কলাম: ১৯৪৭ এ প্রথম দেশ ভাগ হয়েছিলো। ভারত এবং পাকিস্তান নামে আলাদা দুটি রাষ্ট্র জন্মগ্রহণ করে। পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো মুসলমানরা। বাংলাদেশও ছিলো পাকিস্তানের অংশে। স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানীরা বাংলাদেশের সাথে বিরুপ আচরণ করতে থাকে। বায়জান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতিরা মিশরের সাথে যে আচরণ করেছিলো, পাকিস্তানীরাও বাংলাদেশের সাথেও সে আচরণ শুরু করে। বায়জান্টাইনরা মিশরে মনে করতো ওই বকরির ন্যায়, যে বকরির দুধ তারা ইচ্ছেমত পান করবে। কিন্তু বকরিকে ঘাস এবং পানি দিবে না। পাকিস্তানীরা বাংলাদেশিদের সকল অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি মুখের ভাষাও কেড়ে নেওয়ার নোংরা চেষ্টা করে।

দীর্ঘ সংগ্রামের পর ৭১ সালে বাংলাদেশিরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। এখানে একটি বিষয় ক্লিয়ার করা জরুরী। পাকিস্তানীদের শোষণ এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার জন্য মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েনি। মুক্তিযুদ্ধ ছিলো বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। এজন্য আমরা দেখি যে, রেসকোর্সের ময়দানের ঐতিহাসিক ভাষণে বাংলাদেশের স্থপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন “বাংলাদেশকে মুক্ত করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।” ইনশাআল্লাহ থেকেই শুরু হয়েছিলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা লাভ করেছিলাম স্বাধীনতা।

এক বুক আশা নিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। অন্তত পাকিস্তানীদের মতো কেউ আমাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না বাংলাদেশে। আইয়ুব খানের মতো আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিবে না। মানুষ জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে পারবে। মোটাদাগে বলতে গেলে শারিরিক এবং আত্মিক স্বাধীনতার জন্য মানুষ একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলো।

কম্বল চুরি দিয়ে শুরু হয়েছিলো আমাদের স্বাধীনতার প্রাপ্তির পর্ব। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন মানুষ পায় স্বর্ণের খনি, আর আমি পাই চুরের খনি। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো, ঠিক উল্টোপিট দেখতে বেশিদিন লাগেনি। খুব দ্রুতই মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হতে শুরু করে। বাকশাল, স্বৈরাচারের চাকায় বারবার পিষ্ট হয়েছে ছবির মতো সুন্দর দেশটি। নষ্ট গণতন্ত্রের চাকায় পিষ্ট হয়ে কত মায়ের বুক খালি হয়েছে। কত বোন বিধবা হয়েছে। বাস্তবতার চোখ বন্ধ করে আপনি একবার কল্পনার চোখ দিয়ে বাংলাদেশের াকাশের দিকে তাকান। দেখবেন শুধু স্বজন হারানো মা-বোনের আর্তনাদ। কল্পনার চোখ দিয়ে বাংলাদেশের জমিনের দিকে তাকালে শুধু ছোপ ছোপ রক্ত দেখতে পারবেন। মুক্তিযুদ্ধে মারা যাওয়া ভাই বোনদের আত্মা হয়তো চিৎকার করে বলছে যে, এমন বাংলাদেশের জন্য কি আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি?

স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি বড় কারণ ছিলো মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। পাকিস্তানীরা আমাদের বিদ্যূত দিয়েছিলো। রেললাইন দিয়েছিলো। কিন্তু তারপরও মানুষ যুদ্ধ করেছিলো। কারণ আওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিজয়লাভ করার পরও আইয়ুব খান মরহুম শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। সেখান থেকেই মূলত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরী হয়।


গেলো রবিবার বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুষ্ট ভোটের মাধ্যমে যারাই ক্ষমতার চেয়ারে বসবে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাগত জানাবে। অতীতে জানিয়েছে। নির্বাচন নামে যে প্রহসন মানুষ দেখলো, সেটার পর আবারো মোটাদাগে প্রশ্ন হতে পারে যে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের কি প্রয়োজন ছিলো? মানুষ যাকে ইচ্ছে, তাকে ভোট দিবে। এর নামই গণতন্ত্র। জোরপূর্বক ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হলে স্বাধীনতার কোনো অর্থ থাকে না।


পারুল। একজন মহিলা। একজন মা। চার সন্তানের জননী। ভোট দিয়েছিলেন ধানের শীষে। এটি তার গণতান্ত্রিক অধিকার। সংবিধান তাকে এ অধিকার দিয়েছে। কিন্তু এতে নৌকার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। বাংলাদেশে পান থেকে চুন খসলে সুশীলদের কানফাটা চিৎকার শুরু হয়। সামকামীদের সমকামীতায় কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী মানবাধিকার খুঁজে পান। কিন্তু পারুলের ধর্ষিত লাশে মানবতা খুঁজে পান না। এখানে সকলের মুখে টয়লেট পেপার আঁটা।

গণতন্ত্রের মানসকন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি পারুলের আত্মার চিৎকার শুনতে পারছেন? এভাবে কত পারুল বাংলাদেশের কোষে কোষে প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে! কত পারুল অপমান সহ্য করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানীদের মতো শুধু উন্নয়ন দিয়ে গণ বিস্ফোরণ ঠেকানো যায় না। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। দোয়া করি ছবির মতো সুন্দর এ দেশকে আল্লাহ তায়ালা প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা দান করুন।

মন্তব্য করুন