বিজয় আসছে জোর কদমে; ৭১ এর এই দিনে।

প্রকাশিত: ৭:১২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮

১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১। বিজয় আসছে জোর কদমে।

একাত্তরের এই দিনে বগুড়ার কাহালু উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার অধ্যক্ষ হোসেন আলী সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর ভোর ৪টায় পশ্চিম কাহালুর কাওড়াশ এলাকা থেকে দুপুর ১২টার পর কাহালু থানা চত্বরে পৌঁছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি প্রথমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন এবং কালালু উপজেলাকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করেন।

৭১ এর এই দিনে পাক হানাদার মুক্ত হয় মানিকগঞ্জ। কৌশলগত কারণে মানিকগঞ্জ শত্রুদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন যুদ্ধে ৫৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ৯ জন মুক্তিযোদ্ধা পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এই অঞ্চলের যুদ্ধে বীরত্ব পূর্ণ অবদান রাখার জন্য ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা বীরত্বের খেতাব পান। তারমধ্যে বীর উত্তম খেতাব পান- স্কোয়াড্রন লিদার (অব.) বদরুল আলম। বীর প্রতীক খেতাব পান- শহীদ মাহফুজুর রহমান, আতাহার আলী এবং ইব্রাহীম খান।

অধ্যক্ষ হোসেন আলী তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে কাহালুর কড়িবামুজা এবং শিকড় এলাকায় দুইটি সম্মুখ যুদ্ধসহ বিভিন্ন এলাকায় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে বহু যুদ্ধ করেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা কাহালু উপজেলার শীতলাই থেকে চারমাথা পর্যন্ত এলাকায় বিগ্রেডিয়ার তোজাম্মল হোসেন ও মেজর জাকির সহ শতাধিক পাকিস্তানি সৈন্যকে একদিনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করায়। আত্মসমর্পণ করানোর পর তাদেরকে বগুড়ার গোকুল ক্যাম্পে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কাহালু উপজেলার লক্ষ্মীপুর, ডোমরগ্রাম, জয়তুল, গিরাইল, নশিরপাড়া, পালপাড়া গ্রামের শতাধিক নিরীহ মানুষকে পাক হানাদার বাহিনী একদিনে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।

(সংগৃহীত)

মন্তব্য করুন