নির্বাচন কমিশনের কৌতুক

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮
নির্বাচন কমিশন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি ২৪ দিন। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থী দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। নির্বাচন নিয়ে জনমনে রয়েছে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক। ৫ জানুয়ারীর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না তো? দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন চায় না বিরোধী কোনো রাজনৈতিক দল। সবকিছু উপেক্ষা করে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধিনেইহতে চলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন সুষ্ঠু নির্বাচনের শতভাগ নিশ্চয়তা তাদের কাছেও নেই। খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমন কথা বললে নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা করা অমূলক কিছু নয়।

সচিব বলেছেন ভোটকেন্দ্রে বোবা বা মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। দেখবে কিন্তু বলতে পারবে না, লিখতে পারবে না, ছবি তুলতে পারবে না! নির্বাচন কমিশন থেকে এ সমস্ত বেফাঁস কথাবার্তা শুনে আমজনতা নির্বাচনের অগ্রিম ফলাফল একধরণের লিখেই ফেলেছে। বাংলাদেশের নির্বাচন মানে ঈদের আনন্দ। কিন্তু সে আনন্দ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটাররা ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়েও রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারীর পর বাংলাদেশে নির্বাচন বা ভোটের নতুন সংস্করণ হলো আমার ভোট আমি দিতে পারব না। সকাল এগারোটার মধ্যে ভোট শেষ। ভোটার সংখ্যার থেকেও বেশি ভোট পেয়ে সরকার দলীয় প্রার্থী বিজয়ী!

তবে নির্বাচন কমিশনের আরেক কর্মকর্তা আশ্বাস দিয়ে বলেছেন ‘আপনার ভোট অন্য কেউ দিলেও আপনি ভোট দিতে পারবেন!’ এসব হাস্যকর বক্তব্যের পরও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা বোকামী। তবুও দলীয় নিবন্ধন রক্ষা, গণমানুষের স্বপ্ন ও বুকভরা আশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় সরকারের অধিনেই নির্বাচনে যাচ্ছে।

২৮ নভেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষদিন ছিল। ২ ডিসেম্বর প্রার্থী বাছাই পর্ব শেষ হলো। বাছাই শেষে হেভিওয়েট প্রার্থী-সহ কয়েকশ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আশ্চার্যের বিষয় হলো, ঠুণকো কারণে বিরোধী দলগুলোর মনোনয়ন বাতিল করছে নির্বাচন কমিশন! অনেকের ধারণা পক্ষপাতমূলক কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। সরকারের এজেণ্ডা হয়ে কাজ করছে বলেই এমন একপেশে আচরণ নির্বাচন কমিশনের। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর সন্দেহে তার মনোনয়ন অবৈধ বলেছে কমিশন। অতিতের নির্বাচনে স্পষ্ট কারচুপি ও ভোট ডাকাতিতে কমিশন ব্যবস্থা না নিলেও সন্দেহের বশে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেনি! এর থেকে বড় কৌতুক হতে পারে না৷

নির্বাচনী বিধিতে বলা আছে, গৌণ অপরাধে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে না, বরং সেটি কমিশন চাইলে তাৎক্ষণিক শুধরে নিতে পারবে। অথচ নির্বাচন কমিশন ঢালাওভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান পদ ত্যাগ না করে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছে অনেকের। অথচ সরকারী দলের এমপি-মন্ত্রিরা এমপি মন্ত্রী বহাল থেকেও তাদের মনোনয়ন বৈধ!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দীকীর ঋণ খেলাপি, সদ্য বিএনপিতে যোগদান করা গোলাম মাওলা রনির স্বাক্ষর না দেয়া ও ডাক্তার এমরান এইচ সরকারের তথ্য গোপনের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা থাকলেও অধিকাংশ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পেছনে সরকারী প্রভাব রয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রভাবমুক্ত হতে না পারলে নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন