বিএনপির মনোনয়ন না নেয়া : ব্যাখ্যা দিলেন নদভী

প্রকাশিত: ১:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৮

বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার সময় থেকেই চর্চিত এক বিষয় ছিলো দৈনিক ইনকিলাবের সহঃ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী সাহেবের বিএনপি থেকে প্রাপ্ত নমিনেশন ইস্যূটি। বেশ কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে পারেন তিনি। এরপর নমিনেশন ঘোষণার সময় এলে তিনি বিভিন্নভাবে নমিনেশন পাওয়া না পাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

কখনও মনে হচ্ছে নমিনেশন পাচ্ছেন কখনও মনে হচ্ছিলো পাচ্ছেন না। আবার কখনও মনে হচ্ছিলো উনি নমিনেশন নিচ্ছেন আবার কখনও মনে হচ্ছিলো নিচ্ছেন না। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে জানালেন,

শেষ পর্যন্ত কিছু শর্ত পুরন না হওয়ায় বিএনপি থেকে নমিনেশন নিচ্ছেন না তিনি।

পরবর্তিতে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া বা মনোনয়ন নেয়া না নেয়া নিয়ে লম্বা পোস্ট করেন তিনি। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন বিএনপির সাথে মূলত কী হয়েছিলো তার।

ফেসবুকে উনি লেখেন,


ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বেশি না বুঝলেও ২০ দল ও বিএনপি আমাকে হারাবার ক্ষতি আন্দাজ করতে পারছে। গত ১০ বছর তারা আমাকে চেয়েছেন। আব্বার ইন্তেকালের  পরপরই ২০০৮ এর নির্বাচনে অংশ নিতে অনুরোধ করে  আমাকে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ফোন করা হলে আমি রাজি হইনি। এরপর মরহুম মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার সরাসরি কথা বললে আমি কিছু শর্ত দেই। শর্ত শুনে দলের প্রধান কথা বলতে চান। আমি শর্ত মানা ছাড়া শুধু বসে লাভ নেই বলে তার সাথে অন্তত ৭ বার বৈঠক বাতিল করি। সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হয়ে কমপক্ষে ১০ বার সময় ঠিক করেও মির্জা ফখরুল সাহেব আমাকে নিতে পারেন নি। গত ২ বছর তারা যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন। নানা জায়গায় হাইকমান্ড প্রতিনিধিরা আমার সাথে অসংখ্য বৈঠক করেন। তারা মনে করেন কিশোরগন্জ সদর আসন আমাকে ছাড়া তারা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না। সদরে আমার লোকজন জাগ্রত ও একটিভ না হলে জেলার ৬টি আসনেই বিএনপি খারাপ করবে। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছুটা মানবিক কারণেই আমি মাত্র ৩টি শর্তে গত ১৫ দিন আগে আমি নির্বাচন করতে রাজি হই। মহাসচিব সাহেবকে বলি,যদি শর্ত মানা সম্ভব হয় তাহলেই আমার ফরম কেনাবেন। ফরম জমা দিয়ে নমিনেশন না নিলে আপনাদের দলের বিরাট ক্ষতি হবে। এ সময় আরো ৫/৭ জন নেতা ও সাবেক সচিব ও আই জি আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল সাহেব তখন বললন,এ সিদ্ধান্ত তো আমি একা দিতে পারবো না। বক্তব্যটি লিখিত আকারে দিন,আমি হাই কমান্ড ও স্ট্যান্ডিং কমিটির সাথে কথা বলে আপনাকে জানাবো। লিখিত বক্তব্য দিলাম,পরে তিনি আমাকে ফর্ম জমা দিতে বললেন। তার কথায় আমি সাক্ষাৎকারেও অংশ নিলাম। শর্ত নিয়ে কথা চালাচালি হলো। নমিনেশন নেওয়ার দিন সাড়ে নয়টার দিকে তিনি আমাকে বললেন, আমরা এখনই মিটিংয়ে বসছি,ফলাফল আমি আপনাকে ফোনে জনাবো। এদিন হাইকমান্ড প্রতিনিধিরা আমার সাথে অসংখ্য বার ফোনে কথা বলেন। রাতেই বসবেন বলে আমাকে জানিয়ে রাখেন। আমি শর্ত শিথিল করি।১২টা পর্যন্ত সময় দেই। তারা জবাব দিতে দিতে দিন হয়ে যায়। মির্জা সাহেব নিজ এলাকায় মনোনয়ন জমা দিতে ফ্লাইট ধরতে ছুটে যান। আমি জবাব পেয়ে যাই। তারা আমার আসনে অন্য তিনজন কে চিঠি দিয়ে দেন। তারা একজন টিকবেন।দুজন ডামি বা বিকল্প প্রার্থী। আমাকে বিমুখ করে তারা আসন হারাবেন, জেলার সব আসনে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, বৃহত্তর মোমেন শাহীর আসনগুলোসহ সারাদেশে এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়বে, এসব ভেবে বড়রা আমার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করেন। অবশ্য তখন তারা সবাই নিজনিজ এলাকায় নমিঃ পেপার জমা দিতে চলে গেছেন। আমি প্রধান একজন ব্যাক্তির ৮টি রিং দেখেও ফোন ধরিনি। অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন ধরতে বলা হলেও ধরিনি। বলেছি, কথা বলার কিছুই নেই। শর্ত মানলে কথা হতে পারে। চলে যাই ঢাকার বাইরে। আম্মার সাথে দেখা করে সব খুলে বলি। গাড়িতে বসে বড়বোনের ফোন পাই। তারা বলেন,তোমার অবস্থান সঠিক। আমরা জয়ী হয়ে গেছি। চলে যাই নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের কী পয়েন্টগুলোতে আমার লোকজনের মাঝে। রাতে চরমোনাই থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফোন আসে,বুঝিয়ে বলে আশ্বস্ত করি। আমি আমার অঞ্চলে গড়ে ওঠা আমাদের খান সাহেব হুজুর পরিবারের প্রভাব, সম্মান ও ভাবমর্যাদা, যা বহুবছরে আমার মুরব্বিগণ নীতি আদর্শের পরীক্ষা দিয়ে গঠন করে গেছেন, তা তাড়াহুড়ায় নষ্ট করতে পারিনা। গভীর রাতে অনেক বড় জায়গা থেকেও ফোন এলো। বললাম,পরে কথা হবে। একাধিক দল যারা নমিনেশন দিতে চেয়েছিলেন তারা বিএনপি নেতাদের সাথে কড়া ভাষায় কথা বলতে লাগলেন। এক জেনারেল সাহেব হাইকমান্ড  কে আফসোস করতে বললেন আমাকে হারানোর জন্যে। মধ্যরাতে ফোন এলো,মূল দায়িত্বশীল লাইনে আছেন। বললাম, কোনো কথা নেই ফোন ধরতে চাইনা।২০ মিনিট পর প্রতিনিধির ফোন,সকালে মনোনয়ন জমা দিন।আপনাকে চিঠি দেওয়া হবে। বললাম, ইলেকশান আমার করা হয়ে গেছে। এবার আর আমি দাঁড়াবই না। ঘরে ঘরে মানুষ জেগে উঠে এখন আবার ঘুমিয়েও গেছে। নির্বাচনে আপনারা নিজেরাই জিতে আসুন,আমাকে ছাড়াই পারবেন। ঢাকায় এসে স্বভাবিক কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেছি।আব্বার  লোকজন ফোন করে কাঁদছে, এটা কীভাবে সম্ভব, আপনাকে রাজি করার পর বিএনপি কীভাবে আবার হাতছাড়া করতে পারলো! আমি বললাম, ধৈর্য ধরেন। আব্বা আর আমার একই ভাগ্য। নীতি আমাদের নত হতে দেয়না। আর টাকা পয়সা না থাকাও আমাদের একটা  অযোগ্যতা। আজ সারাদিন ৫/৭ বার দুঃখ প্রকাশের ফোন। তারা আবার বসতে চান।শর্ত মানতে চান। নতুনভাবে আমাকে কী বলতে পারেন তা নিয়ে  ভাবছেন। আমি হতাশ হইনা।আওয়ামীলীগ ও বিএনপি উভয়ের প্রতিই আমার দাওয়াত জারি থাকবে। ইসলামের দাওয়াত। দুয়েক দিনের মধ্যে বিএনপির সাথে বসবো,দেখি তারা কতটুকু করতে পারে। কী হলো তা বন্ধুদের সাথে শেয়ারও করতে চাই।


তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কথা হচ্ছে।

আশরাফ মাহদী নামের একজন মন্তব্য করেছেন,

“নদভী সাহেবের মনোনয়ন না নেওয়ার পেছনে যে গল্প ছড়িয়েছে বাজারে তা যদি সত্য হয় তাহলে কথা হচ্ছে, উনি নিজে বিএনপির একজন প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে কেন আশা করলেন যে বিএনপি উনার ইসলামী শর্ত মেনে নিয়ে তাকে নমিনেশন দিবে? রাজনীতিতে নেগোশিয়েশনের জন্য অবস্থান অনিবার্য। ব্যক্তি হিসেবে নদভী সাহেবের কোন অবস্থানই নেই দল বিএনপির সাথে নেগোশিয়েশন করার। উনি কেবল সেখানে বিএনপির একজন প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, অতএব উনার পক্ষে এই ধরণের আকাংখা করাটা বাস্তবতা বিবর্জিত একটা বিষয়”

ইফতিখার জামিল নামের একজন লিখেছেন,

“খান সাহেবের পর,বিএনপি আর এই আসনটি ফিরে পায়নি৷ বিএনপি চেয়েছিলো, খান সাহেবের ছেলে নদভী সাহেবের মাধ্যমেই আসনটি পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে৷ তাই তারা অফার দিয়েছে, আর ওনি শর্ত দিয়েছে৷(আল্লাহু অ’লাম)”

জুনাইদ আল হাদী নামের একজন মন্তব্য করেছেন,

“মোটকথা হচ্ছে-হেফাজতের ১৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার শর্তে আল্লামা নদভী সাহেব ধানের শীষে নির্বাচন করবেন”

আবু দারদা নামের একজন মন্তব্য করেছেন,

“সব শর্ত শারায়েতের আপডেট ফেইসবুকে না দিয়ে আসল দরবারে উঠুক”

এমন পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনাই চলছে। তবে আলোচনা যাই হোক তিনি নীতি প্রশ্নে আপোষ না করায় অনেকের কাছেই প্রশংসা পাচ্ছেন।

 

H/R

মন্তব্য করুন