কায়রুয়ান শহর নিয়ে প্রাচ্যবিদদের অহেতুক অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৮

মুফতি রেজাউল কারীম আবরার

৫০হিজরিতে আফ্রিকায় নতুন একটি পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয়। সে সময় ব্যাপকহারে বর্বররা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে এবং মুসলমানদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে। আফ্রিকায় তখন ইসলামকে সুরক্ষার জন্য এবং ইসলামের দাওয়াতকে বিস্তৃত করার জন্য নতুন শহর নির্মাণের বিকল্প ছিল না। যে শহরে অবস্থান করে মুসলমানরা অভিযান পরিচালনা করবে। এজন্য তিনি ‘কায়রুয়ান’ শহরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শহর র্নিমাণের সময় তিনি মুসলিম বাহিনিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কোনো ইমাম যখন আফ্রিকায় এসে  তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন, তারা সাড়া দিয়েছে। এরপর তিনি বের হয়ে গেলে তারা আবার কুফরে ফিরে গেছে। এজন্য আমি এখানে মুসলমানদের জন্য একটি শহর নির্মাণ করতে  চাচ্ছি, যে শহর শেষদিন পর্যন্ত মুসলমানদের শৌর্যবীর্যের কারণ হবে।”

 

লোকেরা তার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শহর নির্মাণের কথা বলল। যাতে জিহাদ এবং যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হয়। উকবা বললেন, আমি আশঙ্কা করছি যে,  সমুদ্রের নিকটবর্তী করলে বায়জান্টাইনরা আক্রমন করে দখল করে নিতে পারে। বরং তোমরা শহর এবং সমুদ্রের মধ্যবর্তী এলাকায় নির্মাণ করো। যাতে  প্রশান্তচিত্তে নামাজ আদায় করতে কোনো ধরণের বিড়ম্বনা পোহাতে না হয়।

 

এরপর তিনি সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বর্তমানের কায়রুয়ান শহরে আসলেন। সে জায়গা তখন হিংস্র প্রাণীদের অভয়ারণ্য। তিনি  হিংস্র প্রাণীদের লক্ষ্য করে  মুসলিম বাহিনি অবস্থানের জন্য ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা বললেন। দেখা গেল হিংস্র প্রাণীরা ওই এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে। আস্তে  পুরো এলাকায় আর কোনো প্রাণী অবশিষ্ট থাকল না। এমনকি প্রাণীরা তাদের সদ্য প্রসবিত বাচ্চাদেরও নিয়ে ওক্ত এলাকা ছেড়ে গহীন অরণ্যে চলে যায়। (. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৩/৫৩৩)

 

ইয়াহইয়া বিন আবদুর রহমান বিন হাতিব বলেন, তিনি প্রাণীদের লক্ষ্য করে বললেন, “হে উপত্যকাবাসী! আমরা এখানে বসতি স্থাপন করব। তোমরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যাও।” তিনবার তিনি একথা বললেন। আমরা আশ্চর্য হয়ে দেখলাম যে, প্রত্যেক পাথরের নিচ থেকে, গাছের আড়াল থেকে বিভিন্ন প্রাণী বের হয়ে উপত্যকা পরিত্যাগ করছে। এরপর তিনি সৈন্যদের সেখানে অবতরণের নির্দেশ প্রদান করেন। (রিয়াজুন নুফুস, ১/৯)

 

বর্বরদের কিছু সম্প্রদায় যখন হিংস্র প্রাণীদের চলে যাওয়া দেখল, তখন তারা আবার ইসলাম ধর্মে ফিরে এল। এরপর শুরু হল গাছ কাটা। উকবা  বিন নাফে এর নির্দেশে সেখানে নির্মিত হয় একটি জামে মসজিদ। মানুষ মসজিদ এবং বাসস্থান নির্মাণ করতে থাকে। এভাবে ৫৫ হিজরিতে শহর নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং  লোকজন বসবাস শুরু করে। শহর নির্মানাধীন সময়ে ছোট ছোট বাহিনি পাঠিয়ে বিভিন্ন অভিযান অব্যাহত ছিল। ফলে অনেক বর্বর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আবারও ইসলামে ফিরে আসে। কায়রুয়ান শহরের কারণে মুসলমানদের অবস্থান অনেকটা সুদৃঢ় হয়। নিশ্চিন্তে সেখানে অবস্থান করে ইসলামের অমীয় বাণী  সর্বত্র ছড়ানোর চেষ্টায় ব্রত হয়েছে।

 

ইসলামের আলোকে কায়রুয়ান শহর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। জামে মসজিদ এবং প্রশাসনিক ভবন ছিল শহরের  দুটি মূলভিত্তি। মুসলমানরা এর আশেপাশে বসবাস করত। উভয়টি ছিল শহরের হৃদপি-ে। এরপর ধীরে ধীরে শহরের বিভিন্ন জায়গা বিভিন্ন গোত্রের নামে ভাগ করে দেন। যাতে শহরের পর্যন্ত আবাসস্থল বিস্তৃত হয়। কায়রুয়ান শহরের পাশে বর্বররা বসবাস করত।  তাদের অধিকাংশই ইসলাম গ্রহণ করে। সেখানে আরবি ভাষা এবং ইসলামি শিক্ষার চর্চা শুরু হয়। এভাবে ৫০ হিজরি থেকে ৫৫ হিজরি পর্যন্ত আফ্রিকায় মুসলমানদের বিপ্লব সাধিত হয়।

 

লেখক,

শরিয়া বিষয়ক সম্পাদক

পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম

মন্তব্য করুন