আর রক্ত চাইনা !

প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৮
শামসুদদোহা / Public Voice

বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনায় আর কি দরকার? সবাই-ই তো নিজেরা নিজেরা।

ওদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ, হেলায় হারালে জনগন ভূগবে। জনগনের একজন হিসেবে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ চাই। সমঝোতার সমূহ সম্ভাবনা এর চেয়ে আর নাই, হতে পারে না। বাবারা তোমরা এখনি সমঝোতায় যাও। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা সবাই তো সাবেক আওয়ামী লীগার ও বাম ঘরানার অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষবাদী।

ডঃ কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকী ও সুলতান মনসুর সবাই তো আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা এছাড়া ডাঃ জাফরুল্লাহ, সুব্রত বাবুসহ অন্যরা বাম রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। এরা সবার ধ্যান ও মননে ইসলামী মূল্যবোধ বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নাই । এরা মূলতঃ আওয়ামী রাজনীতির মূল্যবোধ লালন করেন এরা বঙ্গবন্ধু কে ভালোবাসেন । বিএনপি তাঁকে ততটা ভালোবাসে না। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা মূলতঃ আওয়ামীপন্থী বিএনপি। বিএনপিও না, হাবিজাবি।

এমতাবস্থায় একসময়ের অতি আপন আওয়ামী লীগের সাথে সন্ধি স্থাপনের জন্য বিরাট সমস্যা হওয়ার কথা না। এখনো কেন সমঝোতা হচ্ছে না সে ব্যাপারে আমরা মাইন্ড করতেছি।

জাতির কল্যাণের জন্য তাঁদের ঐক্যমতে পৌঁছা উচিত। অথচ তারা সেটা করছেন না। সমঝোতা না হলে আমরা আবার রাজপথে লড়াই দেখবো। তাজা রক্ত, খূন ও গুম দেখার জন্য আমরা প্রস্তুত না। খুনখারাবি অনেক দেখেছি।

আমি মনে করি, এ ভূখন্ডে খুনখারাবির কোটা শেষ হয়ে গেছে। এটাকে এক্সটেনশন না করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করছি। সরকার একটু নমনীয় হলেই সমঝোতা সম্ভব। সংবিধানের দোহাই দেয়া চরম হাস্যকর। তোমরা বুঝি সংবিধান খুব মেনে সরকার চালাও? একটি অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে প্রচলিত সংবিধানের আওতায় অনেক কিছুই করা সম্ভব যা সংবিধান বিশেষজ্ঞরা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

আমি আশা ছাড়ছি না। দেশের মানুষ অনেক খুশি সংলাপে যোগ দেয়ার জন্য। সরকার যদি ছাড় না দেয়, তাহলে সংলাপ নামের বাহানার কোন দরকার নাই। দেশবাসীর প্রত্যাশাকে প্রত্যাখ্যান করলে জনগন এর প্রতিশোধ নিবে একটু সুযোগ পেলেই।

তবে কাদের সিদ্দিকীর ঐ কথার পর সরকার আসলেই ভয় পাইছে মনে হয। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ দশটি আসনও পাইবে না। আমার মতে, এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেলেও সরকারের ভরাডুবি হবে শ্রীলঙ্কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের মতো। রাজাপাকসে প্রচন্ড জনপ্রিয় শাসক থাকলেও তাঁর বাড়াবাড়ি টা জনগন পছন্দ করে নাই তাই অবাধ নির্বাচনের পর দেখা গেলো তার এককালের মন্ত্রীর কাছে তিনি বিপুল ভোটে হেরেছেন।

তবে একটা কথা বলে রাখি, আজ যারা সরকারের ব্যাপক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির জন্য তাঁর কাছে ভিড়ছেন, তারাও কিন্তু ডুববেন। সময়ের ব্যবধানে দেখা যাবে, সরকারের লগে তাঁদেরকেও দাফন করবে এ দেশের মানুষ।

কেননা বাঙ্গালী জাতি কিন্তু আনপ্রেডিক্টেবল।

 

এম শামসুদদোহা তালুকদার । কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

মন্তব্য করুন