পয়েন্ট অফ ইসলাম : মিডিয়ার স্লো পয়জনিং

প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৮

মানুষের নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ কম। এটি তাকে দুর্বলভাবে উপস্থাপন করে। যে ব্যক্তির নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ কম সে অবশ্যই অপমানিত হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে রিলেশন, প্রেম, সমঅবস্থান খুবই কমন একটি বিষয়। এখানে পরিবারের সচেতনার পাশ কাটিয়ে সবাই যে যার মত করে উল্লাস করে। কেউ যদি নিজ থেকে ইগনোর না করে তবে সেটিকে সতর্ক থেকে বা সতর্ক করে বিরত রাখা অসম্ভব প্রায়!

প্রেম প্রণয় নিষেধ নয়। বরং ভালো এবং উত্তম। তবে সেটি বিবাহের পরেই কল্যাণমূলক।

বিবাহের আগে প্রেম ভালোবাসাকে ইসলাম সমর্থন করে না। তার যৌক্তিক কারণ ও ব্যাখ্যা রয়েছে। আমি ইসলামিক ব্যাখ্যায় যাবো না। আমি বলতে চাচ্ছি বর্তমানে বাংলাদেশে প্রেম প্রণয় ছাড়িয়ে অবৈধভাবে রাত্রীযাপন এমনকি সরাসরি বিবাহের পূর্বে অবাদ মেলামেশা (লিভ টুগেদার) বেশ হচ্ছে। তবে এটি একটি গোপন পক্রিয়া। আমাদের সমাজ এখনো বিবাহের পূর্বে এসব সম্পর্ককে নোংরা এবং গর্হিত কাজ বলে মনে করে।

এবার আসি মূল কথায়, একটি অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন ইউটিউবে। নাম “টিক টক” যেখানে উপস্থাপককে দেখানো হয় না। ২-৩ মিনিট পোগ্রামের ডিউরেশন। হাতে একটি টেনিস বল ধরিয়ে দেয়া হয়, সেটা খেলতে থাকে আর সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দিতে থাকে। বলা ভালো এখানে অতিথি হয়ে সব নাটক সিনেমা জগতের নায়ক নায়িকা বা শোবিজ জগতের লোকজনই আসে।

অতিথিকে অনেকগুলো নৈব্যাক্তিক প্রশ্ন করেন উপস্থাপক, তবে উপস্থাপককে দেখা যায় না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি কমন প্রশ্ন থাকে,

(১) আপনি কি লিভ টুগেদার সাপোর্ট করেন?

উত্তর আসে হ্যাঁ,  অথবা না।

আরেকটি প্রশ্ন করে,

(২) আপনি শেষ কবে পর্ন ভিডিও দেখেছেন?

উত্তর সবাই এড়িয়ে যান।

মেয়েদের প্রশ্ন করে

(৩) আপনি কি হট, নাকি কিউট?

আরো জটিল সব প্রশ্ন!

বলা চলে এবং এটি খুবই দর্শকপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান। বড় বড় তারকারা সবাই-ই আসে।

 

এগুলোর বিষয়ে কিছু বলতে চাই না, কেবল বলছি যারা এখনো কিছু দেখেন না তাদের চোখ যেন অন্ধত্ব বরণ করে নতুবা চোখ খুলে এসব স্পষ্টভাবে দেখেন। পদক্ষেপ নিন।

বাংলাদেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য এরকম দু একটা প্রোগ্রাম-ই যথেষ্ট। ইসলামকে কত ভাবে ছোট করা যায় তার সব আয়োজন সম্পন্ন করে তারা।

আপনি বলবেন এখানে ইসলামের কী সমস্যা! আমি বলি এরা সবাই, মানে অতিথি চেয়ারে বসা সবাই মুসলিম। একজন মুসলিম কী করে এসব বিষয়ে এমন সব মন্তব্য করেন! করুক তাতেও সমস্যা নেই। আমি নিরুপায়!  ওরা হেদায়েত থেকে বঞ্চিত। এটি হবে আপনার উত্তর।

অভিনেতা জয়ের উপস্থাপনায় একটি অনুষ্ঠান হয়। এখানেও সব সুপারস্টাররা আসেন চলচিত্র জগতের। এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয় এটি। অনুষ্ঠানের নাম “সেন্স অব হিউমার”।

“পোড়ামন টু” মুভির পরিচালক রায়হান রাফি ও অভিনেতা সিয়াম অতিথি হয়ে এসেছেন। সাথে ছিলো ঢাকা এ্যাটাক মুভির ভিলেন তাসকিন।

এক পর্যায়ে জয় রাফিকে জিজ্ঞেস করলো, আপনিতো কোরআন হাফেজ, আপনি কেন মুভি পরিচালনা করছেন? তিনি বললেন রাসূল সা: বলেছেন মানব কল্যাণে কাজ করলে এটি সাওয়াবের অংশ হবে। আমার মূভিতে একটা মেসেজ আছে। তাই এটিও খারাপ নয়। (কী হাস্যকর ভাবা যায়)

জয় জিজ্ঞেস করলো, আপনি নায়িকার মুক্ত বক্ষ বিশাল খোলা গলা দেখিয়ে (যৌন উত্তেজনা ছড়িয়ে) কিসের ইসলামের মেসেজ দিচ্ছেন। বিব্রত রায়হান রাফি এ প্রশ্নের পর চুপ হয়ে যান।

 

আমার একটি অভিযোগ :

কোন যুক্তি নয়। সরাসরি বলছি। প্রিয় হুজুর এবং আলেম সম্প্রদায়!  আপনাদের অগোচরে আপনাদের প্রযুক্তি বিমুখ হওয়ায়, আপনাদের বর্তমানের সাথে তাল মিলিয়ে ভাবতে না পারা আজকের এই পরিস্থিতির জন্য বড় দায়ী। আপনার কাজ কেবল কেউ মরে গেলে কিংবা বেঁচে থাকা অবস্থায় কাফের, মুনাফেক, ফাসেক বলে দিয়ে দায় এড়ানো নয়। এর জন্য আপনাকে জবাবদিহি করতে হবেই। আপনাকে যদি শেষ বিচারের দিন জিজ্ঞেস করা হয় এর বিরুদ্ধে আপনার ভূমিকা কি ছিলো, আপনি ওয়াজ করেছেন বলে দিয়ে পার পাবেন না। কারণ ওয়াজ ছিলো আপনার জীবিকা!

বাংলাদেশে ওপেন সেক্সের হিড়িক চলছে। তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া এগুলোকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসে আরো সহজলভ্য করে দিচ্ছে।

ইউরোপ নাহ! আপনি কি দেখেন না! সিনামা হলে মুক্তি পাওয়া মুভির পোস্টার যখন ছাপানো হয় তখন নায়িকার নাভীটা বড় করে দেখানো হয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি আমি দেখি সেসব পোস্টার! তাই বলছি…..

প্রকাশ্য যেনা চলছে, আপনি নিরুপায়! বনী ইসরাঈলের ওই লোকটার কথা মনে করিয়েন, রাখিয়েন যাকে জীবরাঈল আ: প্রথমে মাটি উল্টিয়ে পুতে ফেলেছে।

 

আলেম সমাজকে দায় দেয়ার কারণ!

আপনারা একটি সোনালী সুদিনের স্বপ্ন দেখেন। ইসলামী সমাজ ব্যাবস্থা কায়েম করার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু কাকে দিয়ে করবেন? তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সুফিবাদ আর হেকমতের দোহাই দিয়ে ইসলামের আর ক্ষতি করবেন না। অপব্যাখ্যা করবেন না। পৃথিবী এখন আর আগের অবস্থায় নেই। বর্তমানকে মাথায় রেখে ভাবেন।

একটা কথা বলি, এদেশের মানুষ ইসলামকে মেনে নিবে কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বা ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা মেনে নিবে না। কারণ ওরকম পরিবেশ তৈরী করতে পারেননি। ৫০ বছরেও হবে না। কেননা প্রযুক্তির এ যুগে চরিত্র ধ্বংসের সব উপায় উপকরণ হাতের কাছে। একদম নাগালে। আপনি একটি নতুন সভ্য তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলুন। আমাদের ডাকুন। ঝগড়া বন্ধ করুন। নয়তো আপনার পরে আরো অনেক প্রজন্ম মরে গিয়ে পচে যাবে তবুও আপনার লালন করা স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

চলবে…

গাজী আনোয়ার শাহ্

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মতামত ফেসবুক, ব্লগ থেকে লেখকের অনুমতিক্রমে সংগ্রহিত এবং তা একান্তই লেখকের মতামত।  নিউজ পোর্টাল এই লেখার কোন অসঙ্গতির দায়ভার নেয় না)

মন্তব্য করুন