জলবায়ু পরিবর্তন ও ইশা ছাত্র আন্দোলনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি মূল্যায়ন

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২০
জলবায়ু পরিবর্তন ও ইশা ছাত্র আন্দোলনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি।

গত শুক্রবার (৫ জুন) ছিলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ দিবস উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের ত্রি-ধারার একটি ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন’ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে হাত দিয়েছে। প্রথম দিনই তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে বৃক্ষরোপন করেছে। এরপর এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি থেকে নিয়ে সেক্রেটারী জেনারেলসহ বিভিন্ন জেলা ও থানা শাখার নেতৃবৃন্দ এ কাজে অংশ নিয়েছেন।

এই প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল, বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ার বিপদ, বন উজাড় করার ক্ষতিকর দিক ও পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর উপকারিতা ও এ ক্ষেত্রে সবার জোড়ালো ভূমিকা রাখা বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন কী?

কোন জায়গার গড় জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী ও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন যার ব্যাপ্তি কয়েক যুগ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পর্যন্ত হতে পারে তাকে জলবায়ু পরিবর্তন (ইংরেজি: Climate change) বলা হয়।

বিশ্ব উষ্ণায়নে পৃথিবীর অবস্থার প্রতিকী চিত্র। ছবি : ক্লিন পিএনজি

একই সাথে বিশ্ব উষ্ণায়ন (ইংরেজি: Global Warming) হলো জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বিশেষ ঘটনা। সাধারণত সময় বা কারণ-নিরপেক্ষ হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ বলতে মূলত ইদানীং কালের উষ্ণতা বৃদ্ধিকেই নির্দেশ করা হয় এবং এটি মানুষের কার্যক্রমের প্রভাবে ঘটেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের রূপরেখা সম্মেলন বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে মানুষের কারণে সৃষ্ট, আর জলবায়ুর বিভিন্নতাকে অন্য কারণে সৃষ্ট জলবায়ুর পরিবর্তন বোঝাতে ব্যবহার করে। কিছু কিছু সংগঠন মানুষের কারণে পরিবর্তনসমূহকে মনুষ্যসৃষ্ট (anthropogenic) জলবায়ুর পরিবর্তন বলে।

বিশ্ব উষ্ণায়নে ফসলি জমি শুকিয়ে যাওয়ার চিত্র। ছবি : ক্লিন পিএনজি

জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী যে কয়টি দেশ বড় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের বিপর্যয়ের ঘটনাকে বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নব্বইয়ের দশকে প্রণীত ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট এ্যাকশন প্ল্যান (NEMAP)-এ দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য অনুসারে বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা ও ভোলায় জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে। ঘন ঘন দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে এই জেলাগুলো। বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভুত করছে। পানির লবণাক্ততাও একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূলের অনেক এলাকা এখন এই সমস্যায় আক্রান্ত।

জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ফসলের ক্ষতি। ছবি : ইউনিসেফ।

অতিরিক্ত গরমও জলবায়ু পরিবর্তনের আরেক ধরনের প্রভাব। এতে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে মানুষের জীবিকা সংকটের মুখে পড়ে। প্রতি পাঁচ বছরে একবার খরার কারণে বিপদে পড়ে বাংলাদেশের মানুষ, আর এক্ষেত্রে দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউনিসেফ মনে করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামাল দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ বড় ধরনের দুর্যোগে জীবনরক্ষা, উন্নয়ন, অংশগ্রহণ এবং শিশুর সুরক্ষা উন্নততর করার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্ভাব্য নাজুক পরিস্থিতি সামালে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগে গতানুগতিক জরুরি ‘সাড়া ও ত্রাণ’ ভিত্তিক কার্যক্রম থেকে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের আরও সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অ্যাক্টের আওতায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের একযোগে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই পরিবেশের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে বন উজাড় ও ধ্বংশ :

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়ে বাংলাদেশের বনাঞ্চল ধ্বংশ হচ্ছে ব্যাপক আকারে। নষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র ও গাছপালা। এছাড়াও অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং বাড়ি নির্মানও নষ্ট করছে বনাঞ্চল।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সৃষ্ট ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে নিয়মিত নষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের জীববৈচিত্রও। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া সুপার সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে পশ্চিম সুন্দরবনের দুটি রেঞ্জ এলাকায় প্রায় ১২ হাজার ৩৩২টি গাছ ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এ সব গাছের মধ্যে গরান গাছের সংখ্যা বেশি, যার মূল্য প্রায় ১০ লাখ ১০ হাজার ৫৬০ টাকা। এ ছাড়া স্থাপনা, জেটি, উডেন ট্রেইল, ওয়াচ টাওয়ারসহ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মত।

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের ৪ হাজার ৫৮৯টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এক যুগ আগে ঘূর্ণিঝড় সিডরও গিয়েছিল সুন্দরবনের উপর দিয়ে, যা রক্ষা করেছিল উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। তাই বনাঞ্চল রক্ষায় গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। গণ সবুজায়ন করে পরিবেশ রক্ষা করাটা এ মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরী একটি কাজ।

বৃক্ষরোপনে ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসনীয় ভূমিকা :

জলবায়ু পরিবর্তন, বনাঞ্চল ধ্বংশ ও বিশ্ব উষ্ণায়নের এই দুর্যোগকালীন মুহুর্তে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে এ সংগঠনটি যে ভূমিকা রেখেছে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।

এই কর্মসুচি সম্পর্কে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম হাছিবুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল করীম আকরাম এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন – জীববৈচিত্র্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে আমরা মানবজাতি বুঝে বা না বুঝে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছি সব থেকে বেশি। বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড-১৯ সংক্রমন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় সংকটের বিষয়কে সামনে রেখে এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের নতুন আঙ্গিকে ভাবিয়ে তুলেছে।

সারাদেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৃক্ষরোপন করছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় সভাপতি এম হাছিবুল ইসলাম।

জলবায়ু, পরিবেশ এবং মানুষ একে অপরের সঙ্গে অতি নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রত্যেকটি জীব প্রজাতির মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত নিবিড় পারস্পরিক সম্পর্ক। মানুষ তার দৈনিন্দন জীবনের প্রায় সব কিছুই পায় পরিবেশ থেকে। আবার এই মানুষই তার প্রয়োজনে এবং অপ্রয়োজনে সব থেকে বেশি ক্ষতি করে পরিবেশের।

সারাদেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৃক্ষরোপন করছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল নুরুল করীম আকরাম।

ইশা ছাত্র আন্দোলন তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় দেশব্যাপী বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী পালন করে আসছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, মানুষ যতই আধুনিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে, পরিবেশের উপরে ততই চাপ পড়ছে। ফলে বাড়ছে কল কারখানার কালো বিষাক্ত ধোঁয়া এবং বর্জ্য। বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য, বাসস্থান এবং অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বিলুপ্ত হচ্ছে বনাঞ্চল, নদী-নালা, খাল-বিল। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হচ্ছে এসব স্থানে বসবাস করা বিভিন্ন ধরণের ছোট বড় বন্যপ্রাণী।

সারাদেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৃক্ষরোপন করছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চরমোনাই আলিয়া শাখার নেতৃবৃন্দ।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রায় ৩১ হাজার জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে, যা মোট প্রজাতির শতকরা ২৭ ভাগ।

সারাদেশব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৃক্ষরোপন করছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ।

এমতাবস্থায় আমাদের পরিপার্শকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং বাস্তুতন্ত্রকে বজায় রাখতে মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। তাই নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে বৃক্ষরোপণে আহ্বান জানান। পাশাপাশি দূষণ রোধে সরকারের দায়িত্বশীল আচরণের দাবি জানান।

— একটি ছাত্র সংগঠনের পরিবেশ বিষয়ে এই সচেতন অবস্থান অবশ্যই তাদের প্রাসঙ্গিকতার সর্বোচ্চ প্রমান বহন করে থাকে।

ইসলামে বৃক্ষরোপন ও পরিবেশ রক্ষার নির্দেশনা :

পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরাজী সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে একাধিক বর্ননা এসেছে – পবিত্র কোরআনে ঘোষণা এসেছে—‘আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি ও তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে নয়নাভিরাম সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উদ্গত করেছি। আর আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টিবর্ষণ করি এবং এর দ্বারা উদ্যান ও পরিপক্ব শস্যরাজি উদ্গত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ৭-৯)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন—‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। অতঃপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তা স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা তা (বৃষ্টি) পৌঁছান, তখন তারা আনন্দিত হয়। (সুরা রুম, আয়াত: ৪৮)

বৃক্ষরাজি যে কত বড় নিয়ামত, পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতের মাধ্যমে তা প্রতীয়মান হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—‘তারা কি লক্ষ করে না, আমি ঊষর ভূমির ওপর পানি প্রবাহিত করে তার সাহায্যে উদগত করি শস্য, যা থেকে তাদের গবাদি পশু এবং তারা নিজেরা আহার গ্রহণ করে।’ (সুরা সাজদা, আয়াত: ২৭)

বৃক্ষরোপণের ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ ও নির্দেশনা
হাদিসে এসেছে, ‘যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ভক্ষণ করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা (দান) স্বরূপ গণ্য হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ২৩২০, মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৩/১২)

এ হাদিসটি আরও স্পষ্ট করে অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি বৃক্ষরোপণ করে তা ফলদার হওয়া পর্যন্ত তার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে ধৈর্য ধারণ করে, তার প্রতিটি ফল যা নষ্ট হয়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে সদকার নেকি দেবেন।’ (মুসনাদ আহমাদ: ১৬৭০২)

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃক্ষ রোপণ করে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে ওই বৃক্ষের ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দান করবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৫৬৭)

বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা সম্পর্কে হাদিস : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করতে নির্দেশ দিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যদি নিশ্চিতভাবে জানো যে কিয়ামত এসে গেছে, তখন হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে, যা রোপণ করা যায়, তবে সেই চারাটি রোপণ করবে।’ (বুখারি, আদাবুল মুফরাদ: ৪৭৯; মুসনাদ আহমদ, হাদিস: ৩/১৮৩)

অন্য বর্ণনায় মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামত এসে গেছে, এমন অবস্থায় তোমাদের কারো হাতে যদি ছোট একটি খেজুরগাছ থাকে, তাহলে সে যেন গাছটি রোপণ করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৯০২; আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৪৭৯; মুসনাদে বাজজার, হাদিস: ৭৪০৮)

বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটার শাস্তি : অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটবে [যে গাছ মানুষের উপকার করতো], আল্লাহ তার মাথা আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবেন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৬/১৪০) অবশ্য এই হাদিসের বর্ণনা দুর্বল। হাদিসবিশারদরা দীর্ঘ ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিকতা বর্ণনা করেছেন।

বৃক্ষের ছায়ায় মহানবী (সা.) : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘মক্কা এবং মদীনার মাঝে অবস্থিত একটি বৃক্ষের নিকট যখন তিনি আসতেন তখন তার নীচে শুয়ে বিশ্রাম করতেন। তিনি বলতেন রাসুলুল্লাহ (সা.) এরূপ করতেন। (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস: ৪৭)

তথ্যসূত্র : আল কুরআন, আল হাদিস, ইউনিসেফ, ডয়চে ভেলে, উইকিপিডিয়া, Global Warming and war.

সংগ্রহ ও সম্পাদনা : হাছিব আর রহমান। সাবেক সভাপতি, ইশা ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। নির্বাহী সম্পাদক, পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম।

মন্তব্য করুন