সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে উন্নয়ন কাজে অবদান রাখতে হবে : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির এই জাতীয় সংকটকালে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প সমুহের কার্যক্রম বাস্তবাায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে সারা পৃথিবীতে মানুষের সাধারণ জীবনাচারণ, চলাচল, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশও এ ভয়াবহ বিপদের বাইরে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশের সকল মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ দুপুর ১২.০০ টায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্লপ সমুহের মে,২০২০ খ্রি. মাসের অগ্রগতি পর্যালোচনার অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তা- কর্মচারীগণ শারিরীক উপস্থিতি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সেজন্য তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর সংস্থায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান।

অনলাইন সভায় প্রকল্প পরিচালকগণ নিজ নিজ প্রকল্পের এপ্রিল, ২০২০ পর্যন্ত সময়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন। একই সাথে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সমুহ তুলে ধরা হলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী তাদের প্র‍য়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প সমুহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে। তাই অর্থ বছরের অবশিষ্ট দিনগুলোতে সকলকে আন্তরিককতা, নিষ্ঠা, সময়, অর্থ, মেধা, শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্নয়ন প্রকল্প সমুহের অবশিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়নে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার মাধ্যমে চলতি অর্থ বছর মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও তিনটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প সমুহের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প “সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প” ও রয়েছে।।এছাড়া সারাদেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডাভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এসব উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমের সাথে লক্ষ লক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবিকার বিষয় জড়িত রয়েছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে এ সকল প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিজেদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার সাথে সাথে মৃত ব্যক্তিদের দাফন – কাফন এর ব্যবস্থা, মৃত ব্যক্তিদের সৎকার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে যাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি আগামী জুন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আমরা আমাদের প্রদত্ত লক্ষ্যমাত্রার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। তাই করোনা পরিস্থিতির কারণে যার যেখানে যে অবস্থায় যতটুকু দায়িত্ব পালন করার সুযোগ আছে সেখানে তাকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ড. মো. মোয়াজ্জেম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই অনলাইন সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সংস্থা) মো. আঃ হামিদ জমাদার,অতিরিক্ত সচিব (হজ ও প্রশাসন) এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও হিসাব) জহির আহমেদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি যুগ্মসচিব মোঃ আব্দুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি পরিচালক-১০, মোঃ আনিসুর রহমান, প্রকল্প সমুহের পরিচালক বৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন