চলাচলে ১৫ নির্দেশনা: এক জেলা থেকে অন্য জেলায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে প্রথম সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফা বাড়িয়ে তা আগামী ৩০ মে শেষ হচ্ছে।

গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান যে, করোনা পরিস্থিতির কারণে আর সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে না। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩০ মে শনিবার শেষ হচ্ছে দীর্ঘ সাধারণ ছুটি। অর্থাৎ পর দিন রোববার থেকে খুলছে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রজ্ঞাপনে ১৫ দফা বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। যা ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নির্দেশনায় এতে বলা হয়, সাধারণ ছুটি না বাড়লেও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। এ সময় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এ জন্য প্রত্যেক জেলার প্রবেশ ও বহির্গমন পথে চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় জেলা প্রশাসন এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।

এতে আরো বলা হয়, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ( যেমন- ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। এ ছাড়া সর্বাবস্থায়ই বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনি চলতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনায় আরো বলা হয়, হাটবাজার, দোকান-পাটে কেনাবেচার ক্ষেত্রে পারস্পারিক তথা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। এর অংশ হিসেবে শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজার রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনসমূহকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ ছাড়া হাটবাজার, দোকানপাট ও শপিংমলসমূহ আবশ্যই বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত সকল প্রকার যানবাহন যেমন- ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল প্রভৃতি চলাচল অব্যাহত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ক্লাস চলবে অনলাইনে। এ ছাড়া ব্যাংক চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিসে কাজ-কর্ম চললেও অসুস্থ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সন্তানসম্ভাবা নারীরা কর্মস্থলে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। তাছাড়া এই সময়ে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

আজ বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে ৪০ হাজার ৩ সত ২১ জন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৫৫৯ জন। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজারের বেশি।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন