ঈদুল ফিতর সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসব ও মুমিনের গুনাহ মাফের দিন

প্রকাশিত: ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০২০

– এম হাসিবুল ইসলাম

ঈদ অর্থ আনন্দ। এর শাব্দিক অর্থ হলো ‘বারবার ফিরে আসা’ এ দিনটি বারবার ফিরে আসে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঈদ।

আরবি ভাষায়– ঈদুল ফিতর ও বাংলায় – রোজার ঈদ, ঈদুল ফিতর বলা হয়। চিনা ভাষায়- ঐতিহ্যগত: 開齋節 সরলীকৃত: 开斋节 / Kāi zhāi jié উপবাস উৎসবের শেষ। গ্রীক ভাষায় – Σεκέρ Μπαϊράμ।

হিব্রুতে – עיד אל-פיטר। হিন্দিতে– ईद उल-फ़ित्र “ঈদুল ফিতর। তামিল – நோன்பு பெருநாள் / Nōṉpu perunāl

প্রথম হিজরীতেই ঈদ শুরু হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কা থেকে মাদ্বীনায় হিজরত করলেন তখন মাদ্বীনাবাসীদের মধ্যে বিশেষ দু’টি দিবস ছিল, সে দিবসে তারা খেলাধুলা করত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন এ দু’টি দিনের তাৎপর্য কী? মাদ্বীনাবাসীরা উত্তর দিল আমরা জাহেলী যুগ থেকে এ দু’দিনে খেলাধুলা করে আসছি। তখন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দু’টি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। আর সেই দিন দু’টি হল : ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর। (আবূ দাউদ : ১১৩৪; নাসাঈ : ১৫৫৬)

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেছেন, ঈদের সালাত প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একই মত পোষণ করেন।

ঈদের দিন নিম্নবর্ণিত কাজগুলো করা সুন্নাত

১. গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা।

২. ঈদুল ফিতরের দিন খাবার খেয়ে ঈদের সালাতে যাওয়া।

৩.ঈদগাহে পায়ে হেটে যাওয়া মুস্তাহাব। আর একপথে যাবে এবং ভিন্ন পথ দিয়ে আবার পায়ে হেটেই আসা সুন্নাত।

৪. তাকবীর পড়া এবং তা বেশি বেশি ও উচ্চস্বরে পড়া সুন্নাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত তাকবীর দিতে দিতে যেতেন।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেছেন, ঈদুল ফিতরের তাকবীর শুরু করবে ঈদের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকেই। ঈদের সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর পাঠ করতেন।

আল্লামা ইবনু কাইয়িম (রহ.) তার সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ যাদুল মা‘আদে লিখেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরিধান করতেন।
তাঁর এক জোড়া পোশাক ছিল যা দু’ ঈদ ও জুমু‘আর দিন পরিধান করতেন।

হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
আল্লাহ রাববুল আলামীন তার বান্দার উপর তার প্রদত্ত নি‘আমাতের প্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন। (তিরমিযী : ২৮১৯)

ঈদের দিনের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতেন-

১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে ঘরে থেকে বের হতেন না।

২. ঈদুল ফিতরের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে রওয়ানা হতেন না।
আনাস বলেন, আর খেজুর খেতেন বেজোড় সংখ্যায় (অর্থাৎ তিনটি, পাঁচটি বা সাতটি এভাবে)। (বুখারী : ৯৫৩)

৩.ঈদগাহে তাড়াতাড়ি যাওয়া উচিৎ যাতে ইমাম সাহেবের কাছাকাছি বসা যায়, প্রথম কাতারে সালাত আদায় করা যায়।

৪.ঈদের সালাতে যাওয়া-আসায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি পথ ব্যবহার করতেন।

৫.ঈদের রাত হলো ইবাদতের বিশেষ রাতগুলোর অন্যতম; তাই ঈদের রাতে বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা উচিত।

৬. ঈদের আগেই শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা

ইসলাম মানবতার ধর্ম। বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব ইসলামের আদর্শিক শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম পরিচয়। সর্বজনীনতা এর অন্যতম উপাদান। সমাজের কেউ ভোগের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকবে আর কেউ জীবন যন্ত্রণায় কাঁতর আর্তনাদ করবে চিরকাল, মানব সমাজের এমন দৃশ্য ইসলাম দেখতে চায় না।

তাই ইসলাম মুসলমানদের জন্য জাহেলিয়তের ধারায় বয়ে আসা কুরূচিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক উৎসবে যোগদান নিষিদ্ধ করে সর্বজনীন উৎসব হিসেবে ঈদুল ফিতর ব্যবস্থা করেছে। ঈদ এর সর্বজনীনতা রক্ষায় ইসলাম কার্যকর বিধানও প্রণয়ন করেছে। ঈদুল ফিতর এর সর্বজনীনতা রক্ষায় ইসলামের বিধান।

লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন।

মন্তব্য করুন