রোববার: একদিনে দেশে সর্বোচ্চ ২৮জনের মৃত্যু, আজ শনাক্ত ১৫৩২

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০

মহামারী করোনাভাইরাসে আজ রোববার (২৪ মে) দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হলো ৪৮০ জনের।

এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫৩২ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ৩৩ হাজার ৮৩৭জন।

  • এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে সুস্থ ৪১৫জন এবং এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৯০১জন।

আজ রোববার (২৪ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন, আইইডিসিআর এর মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

সংশ্লিষ্ট খবর:
বৃহস্পতিবার: 
ফের সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড!

ব্রিফিংয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ৪৭টি ল্যাবের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে জানিয়েছেন ডা. নাসিমা সুলতানা।

নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৮৯০৮টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৮৩টি।

এছাড়াও গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে গেছে ২৫৩জন ছাড় পেয়েছেন ৯৪জন। মোট আইসোলেশনে গেছেন ৪৪৪৬জন। এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২১৬৩জন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃতের নতুন রেকর্ড ছিলো ২১ জনের মৃত্যু এবং ১৭৭৩ জনের আক্রান্ত হওয়ায়।  শুক্রবার ‍মৃতের রেকর্ড সর্বোচ্চ ছাড়িয়ে ২৪জন হয়। অর্থাৎ প্রতিনিয়তই দেশে আক্রান্ত ও মৃতের রেকর্ড বাড়ছে। গতকাল শনিবার ফের সর্বোচ্চ ১৮৭৩জন আক্রান্তের রেকর্ড হয়।

প্রসঙ্গ : বাংলাদেশে গত ৮ ই মার্চ করোনাভাইরাস প্রথম ধরা পড়ে। এরপর হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত (১৫ মে) দেশে সর্বোচ্চ আক্রান্ত এবং সর্বোচ্চ মৃতের রেকর্ড হয়। আজ সোমবার (১৮ মে) সেটাও ছাড়িয়ে গেলো।

করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা এই মূহুর্তে তিন লাখ পার হয়ে সাড়ে তিনলাখ ছুঁই ছুঁই করছে। প্রতিমূহুর্ত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ২৩ মে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৪৪ হাজারেরও বেশি। এরমধ্যে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই সাড়ে ৯৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে

বাংলাদেশেও প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বিশেষ করে পরীক্ষা যতো বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। বাড়ছে ঝুঁকি।

এদিকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। ঈদুল ফিতরের নামাজে মসজিদের ওযুখানা ব্যবহার না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসস্থান থেকে ওযু করে ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এবার খোলা স্থানের পরিবর্তে কাছের মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত না করার পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে ঘোরাঘুরি না করে নিজ ঘরে ঈদ উদযাপন করতেও বলা হয়েছে। আজ বিকেলে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪টি নির্দেশনায় ডিএমপি জানায়, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ঈদগাহ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না।

জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে কাছের মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াতের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ঈদ উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনাগুলো হলো-ঈদের নামাজের জামাতের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে প্রবেশদ্বারে সাবান অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের ওজুখানা ব্যবহার না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসস্থান থেকে ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতারবদ্ধ হতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে হবে। মসজিদে শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ব্যবস্থা রাখার জন্য মসজিদ কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়ে বিনোদন কেন্দ্রে যাতায়াত না করে নিজ ঘরে অবস্থান করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে হবে। ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে যারা ঢাকার বাইরে যাবেন তারা তাদের বাসা অথবা ফ্ল্যাটের মেইন গেটে অটোলক ব্যবহার এবং বাসাবাড়ি ত্যাগের আগে রুমের দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করতে হবে। মালিক পক্ষ স্ব স্ব মার্কেট ও শপিংমলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবেন এবং এলাকার থানা অথবা ফাঁড়ির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন। খালি বাসায় মূল্যবান সামগ্রী না রেখে ঢাকায় অবস্থান করছেন এমন আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় তা রেখে যাবেন।

সংশ্লিষ্ট খবর:

বাসায় অজু করে ঈদ জামাতে আসতে হবে : ডিএমপি কমিশনার

ঈদে প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার অনুমতি!

খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় ও দোয়ার অনুরোধ

২০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম শোলাকিয়ায় হবে না ঈদের জামাত

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন