পশ্চিমবঙ্গে আম্পানের তাণ্ডবে নিহত ৭২, কোলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে পানিমগ্ন

প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২০

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল (বুধবার) বিকেল থেকে একটানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বৃষ্টির ফলে কোলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং হ্যাঙার পানিতে ডুবে যায়। প্রবল ঝড়ের দাপটে ভেঙে গিয়েছে টার্মিনালের বহু কাচ। বিমানবন্দরের ছাদের একাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানবন্দরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দু’টি হ্যাঙারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও ওইগুলো ব্যবহার করা হতো না বলে তিনি জানিয়েছেন।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আম্পানের তাণ্ডবে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে কোলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে একটানা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে প্রবল বৃষ্টি। তার জেরেই বিমানবন্দরে পানি জমে যায়।

আম্পানের জেরে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা, মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও কোলকাতায় বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। শহরজুড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। নেটওয়ার্কের সমস্যার জেরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে।

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গে যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে তারমধ্যে রাজধানী কোলকাতায় ১৫ জন মারা গেছে। এছাড়া হাওড়ায় ৭, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ১৭, পূর্ব মেদিনীপুরে ৬, চন্দননগরে ২, বারুইপুরে ৬, ডায়মন্ড হারবারে ৮, রানাঘাটে ৬, এবং সুন্দরবনে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতিতে রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এদিন মৃতদের পরিবারপিছু আড়াই লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইটার বার্তায় জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গের অনেক ছবি দেখলাম। ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলার প্রচুর ক্ষতি করেছে। সারা দেশ বাংলার মানুষের জন্য প্রার্থনা করছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব যাতে বাংলা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আম্পানের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন