পালনপুরী রহ-এর ইন্তেকালে হাটহাজারীতে দোয়া : বাবুনগরীর শোক প্রকাশ

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

একই সাথে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রবীন এই শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরীর রহ. এর রুহের মাগফেরাত কামনায় দারুল উলুম হাটহাজারীর কেন্দ্রীয় বায়তুল করীম জামে মসজিদে দুআ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১৯ মে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা পালনপুরী রহ. অনেক উঁচু মাপের একজন আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন ইলমী অঙ্গনের একটি উজ্জল নক্ষত্র, প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ। তার দারস-পাঠদান ছিলো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চিত্তাকর্ষক এবং তথ্যপূর্ণ। ইলমী অঙ্গনে কঠিন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনার জন্য তার বিশেষ প্রসিদ্ধি রয়েছে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি দেওবন্দের শাইখুল হাদিস পদে সমাসীন ছিলেন। তার ইন্তেকালে ইলমাকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে। তাঁর ইন্তেকালে ইলমী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কভু পূরণ হবার নয়। লেখালেখীর ময়দানেও অসাধারণ খেদমত করে গেছেন তিনি। বিভিন্ন বিষয়ে ছোট বড় প্রায় পঞ্চাশের কাছাক কিতাব রচনা করেছেন তিনি। আমি তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ১৯৮০ সালে দারুল উলুম দেওবন্দের সদ সালা (শতবার্ষিকী) অনুষ্ঠানে আমার আব্বাজান মেশকাত শরীফের বিশ্ববিখ্যাত ব্যখ্যা গ্রন্থ তানজিমুল আশতাতের রচয়িতা আল্লামা আবুল হাসান রহ. এর সাথে আমিও শরীক হয়েছিলাম। সে সময় তিনি আমার আব্বাজান রহ. এর রচিত তানজিমুল আশতাত কিতাবের খুব বেশী প্রশংসা করেছিলেন। কিতাবটিকে তিনি অনেক পছন্দ করেছিলেন। তাঁর বাসায় আব্বাজান ও আমাকে নিমন্ত্রণ করে অনেক আপ্যায়ন করেছিলেন। তাঁর আতিথেয়তায় আমরা সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম।

অতপত: আমার স্বরচিত কিতাব ইসলাম আওর সাইন্স এবং আত-তাওহিদ ওয়াশ শিরক ওআকসামুহুমা কিতাব দুটি তার নিকট পাঠিয়েছিলাম। কিতাব দু’টি পাঠ করে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন- আমি মনে করতাম জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের উর্দূ ভাষায় দক্ষতা আছে কিন্তু এখন আরবী ভাষায় লিখিত” আত তাওহিদ ওয়াশ শিরক কিতাবটি পড়ে বুঝতে পারলাম আরবী ভাষায়ও অসাধারণ দক্ষতা ও পাণ্ডিত্য রয়েছে। এবং ইসলাম আওয়ার সাইন্স কিতাবে তিনি অত্যন্ত মূল্যবান তাকরিয (অভিমতও) লিখেছিলেন। যা প্রকাশ হয়েছে।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন-গত ৪ ঠা আগস্ট ২০১৯ ইংরেজীর রবিবারে আমার মুহতারামাহ আম্মাজান ইন্তেকাল করলে তিনি এ সংবাদ পেয়ে ছাত্রদেরকে নিয়ে একনিষ্ঠভাবে আম্মাজানের জন্য মাগফিরাত ও দারাজাত বুলন্দির জন্য দুআ করেছিলেন।

পরিষেশে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন,আমিন।

এছাড়াও আজ ১৯ মে মঙ্গলবার বাদ আসর মুসল্লীদেরকে নিয়ে সূরা ইয়াসিনের খতমের পর দুআ পরিচালনা করেন হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

দুআর পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন- কওমী মাদরাসা সমূহের মূল কেন্দ্র হলো ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ। আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. সেই দেওবন্দ মাদরাসার শায়খুল হাদীস ছিলেন। তার দরস তাদরিস ছিলো অসাধারণ। তিনি ছিলেন বহু গ্রন্থ প্রণেতা। অনেক উচু মাপের আলেম,বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন পালনপুরী রহ.।

তার মৃত্যুতে যেই শূণ্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবে না। আল্লামা বাবুনগরী মসজিদে অবস্থানরত এ’তেকাফকারীগণ, মুসল্লী ও জামিয়ার ছাত্রদেরকে নিয়ে মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. মাগফিরাত কামনা করে দুআ মোনাজাত করেন।

এ সময় আল্লামা বাবুনগরী আমীরে হেফাজত, জামিয়ার মোহতামীম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেবের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে দুআ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর :

দেওবন্দের শাইখুল হাদীস আল্লামা পালনপুরীর ইন্তেকাল

ঝরে পড়া এক আলোর পিদিম

মুফতী সাইদ আহমাদ পালনপুরির আলোকিত জীবনচরিত

পালনপুরী রহ. এর ইন্তেকালে মুসলিম উম্মাহ একজন অভিভাবককে হারালো

পালনপুরী রহ. এর ইন্তেকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন