মাশরাফির ব্রেসলেট ৪২ লাখ টাকায় কিনে মাশরাফিকেই উপহার দিলেন বিডার

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

মাশরাফির হাতের ব্রেসলেটটি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার হাতে শোভা পাচ্ছিল। তার প্রিয় জিনিসটিই তিনি করোনায় যারা অসহায় হয়ে পড়েছেন তাদের জন্য নিলামে তুললেন। সেটা বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের জন্য ব্যায় করা হবে বলে ঘোষণা দিলেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজার দীর্ঘদিনের সাথী তার হাতের ব্রেসলেটের ভিত্তিমূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। গ্রামীণ ফোন এবং দুটি বেসরকারি ব্যাংক কিনতে চেয়েছিল তার ব্যবহৃত ব্রেসলেটটি। কিন্তু ‘অকশন ফর অ্যাকশন’র মাধ্যমে নিলামে তোলা হয়েছিল ব্রেসলেটটি।

রোববার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৯টায় ব্রেসলেটের নিলাম শুরু হয়। সেখানেই আগ্রহীদের ব্যাপক সাড়া দেখা যায় মাশরাফির ব্রেসলেট কিনতে।

অবিশ্বাস্য দামে মাশরাফির ব্রেসলেটটি বিক্রি হলো । ৪২ লাখ টাকায় সেই ব্রেসলেটটি কিনে নিয়েছেন বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ )। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে নিলামে অংশ নেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম।

প্রথমে সঞ্চালক আরিফ আর হোসেন ঘোষণা দেন, ৪০ লাখ টাকায় সর্বশেষ বিডকারী প্রতিষ্ঠান বিএলএফসিএর পক্ষ থেকে মোমিনুল ইসলাম করেছেন। সুতরাং, ৪০ লাখ টাকাতেই বিক্রি হলো মাশরাফির এই ব্রেসলেট।

কিন্তু শেষে দেখা যায় ব্রেসলেটটির মূল্য ৪২ লাখ টাকা। অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা আসলো কোত্থেকে? সেই রহস্য জানিয়েছেন বিএলএফসিএ’র চেয়ারম্যান।

নিলাম অনুষ্ঠানে এসে মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধন্যবাদ মাশরাফি ভাই। আপনি এ দেশকে যে সম্মান এনে দিয়েছেন, সে সম্মানের প্রতিদান কোনোভাবেই হয় না। বাট এইটুকু করে (নিলামে অংশ নিয়ে) হলেও আমরা চেষ্টা করেছি আপনাকে একটুখানি হলেও সম্মান দিতে।

গতকাল রাতে (শনিবার রাতে) আমাকে আরিফ আর হোসেন কল দিয়ে বলেছিল, ম্যাশ ভাইয়ের একটা অকশন আছে, আপনাকে থাকতে হবে। তখন আমি ওকে কিছু বলিনি। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যত সিইউও আছে সবাইকে মেসেজ দিয়েছি। সবাই একবাক্যে রাজি হয়ে গেলো।

সবাই একটা বিষয় বলেছে যে, একটা ভালো কিছুতে যদি ব্যায় হয়, বাংলাদেশের ক্যাপ্টেনকে যদি একটা সম্মান দেখানো যায়, আর্থিক খাতে এর থেকে আর বালো কিছু হয় না। এই ব্রেসলেটটা হলো একটি স্যুভেনির। এটার দাম কোনোভাবেই হয় না। এটা অমূল্য। আমরা খুব খুশি যে, ৪০ লাখ টাকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাসোসিয়েশন থেকে বিড করেছি।’

বাড়তি দুই লাখের বিষয়ে মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আইপিডিসির সঙ্গে অকশন ফর অ্যাকশনের একটা সমঝোতা আছে। ১০টা আইটেম পর্যন্ত আমরা ৫ পার্সেন্ট করে এডিশনাল দেবো। সুতরাং, ৪০ লাখের সঙ্গে আরও ৫ পার্সেন্ট ২ লাখ। মোট ৪২ লাখ টাকায় এই ব্রেসলেটটা কিনতে চাচ্ছি।’

সঙ্গে সঙ্গে মাশরাফি হাতের ব্রেসলেট খুলে বলেন, এই যে এটা আপনার জন্য এই মুহূর্তে খুলে রেখে দিলাম। সে সঙ্গে বিএলএফসিএকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোমিনুল ইসলামকে তিনি বলেন, ‘আপনাকে এবং আপনার সঙ্গে আরো যারা আছে, সবাইকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ।’

নিলাম সঞ্চালক আরিফ আর হোসাইন জানিয়েছেন, বিএলএফসিএ সোমবার ১২টার মধ্যেই ৪২ লাখ টাকার পুরো ফান্ড ট্রান্সফার করে দেবে। এরই মধ্যে তারা অ্যাকাউন্ট নাম্বার চেয়েছে।

এরপরই সঞ্চালক আরিফ আর হোসাইন বলেন, ‘মোমিন ভাই, আপনাদের প্ল্যান কি? এই ব্রেসলেটটি কি বাঁধাই করে রাখবেন, না কি করবেন?’

জবাবে মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই যে ব্রেসলেটটা, আমার কাছে যেটা মনে হয়ে যে, এই একটা জিনিস আপনার খুব প্রিয়। ১৮ বছর ধরে আপনার হাতে আছে এবং এই ব্রেসলেটটা আপনার হাতেই মানায়। আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সংগঠন, আমরা চাই আপনাকে এই ব্রেসলেটটা উপহার দিতে। আমরা চাই আপনি আমাদের এই উপহারটা গ্রহণ করবেন।’

সঙ্গে সঙ্গে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যান মাশরাফি। বিস্মায়াভিভূত হয়েই তিনি বলেন, ‘থ্যঙ্কইউ মোমিন ভাই, থ্যাঙ্কইউ ভেরি মাচ। তবে আপনারা নিলে আমার এক ফোটাও কষ্ট হবে না। আসলে এটা আমি আগেও বলেছি। আপনাদের উদ্দেশ্য এবং আমাদের উদ্দেশ্য একটি জায়গায়, মানুষদেরকে কিছুটা ভালো রাখা। একই সঙ্গে এটা একটা সম্মান। আপনারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনাদের কী বলে যে ধন্যবাদ দেবো জানি না। আপনার কাছে থাকলে আমি একটুও কষ্ট পাবো না।’

এনএ/পাবলিকভয়েস/এসএস

মন্তব্য করুন