আমরা কোরআন শিখতে চাই : ইকরামুল মুসলিমীনকে হিজড়াগুরু পপি

প্রকাশিত: ৪:২২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

কোরআন শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে হিজড়াগুরু পপি। তিনি বলেন স্বাভাবিক জীবনে বেড়ে না ওঠায় আমরা কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অথচ আমাদের কোরআন শেখার আগ্রহ রয়েছে। আমরা মুসলমান এবং একজন হুজুর রেখে নামাজও পড়ি। আমাদের নামাজের আলাদা জায়গাও রয়েছে।

আজ ৭ মে রবিবার বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে হিজড়া সম্প্রদায়কে ঈদ উপহার প্রদানকালে এ আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন তিনি।

হিজড়াদের কাছে গিয়ে তাদের ত্রাণ বিতরণ করেন ইকরামুল মুসলিমীন টিম।

হিজড়াদের কাছে গিয়ে তাদের ত্রাণ বিতরণ করেন ইকরামুল মুসলিমীন টিম।

কদমতলী শামপুর যাত্রাবাড়িসহ আশপাশের এলাকার ১৪০জন হিজরার নেতৃত্ব দেন পপি এবং তাদের যাবতীয় ভরণপোষণের দায়িত্বও তিনিই বহন করেন। হিজড়ারা তাকে “গুরু মা” বলে সম্বোধন করেন।

ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার পেয়ে উৎফুল্লতার সঙ্গে পপিগুরু বলেন— আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না। ইকরামুল মুসলিমীন আমাদের পাশে এভাবে দাঁড়ানোয় আমরা অত্যন্ত খুশি।

ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, বর্তমানে সবচে বেশি অবহেলিত হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়। সেদিকে লক্ষ্য করেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি হিজড়া ও বেদেদের নিয়েও কাজ করতে চাই। এর আগে হিন্দু ও রাখাইন সম্প্রদায়কেও সহযোগিতা করেছি।

নিজ হাতে হিজড়াদের ত্রাণ দিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ।

নিজ হাতে হিজড়াদের ত্রাণ দিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ।

তিনি আরও বলেন, হিজড়ারা আমাদেরকে এভাবে খোলামনে তাদের পাশে পেয়ে আকাশসম খুশি হয়েছেন। বাহিরে তাদেরকে যতটা আগ্রাসী দেখা যায়, ভেতরে ততটাই শান্ত ও ভদ্র তারা। হিজড়াগুরু পপি অসম্ভব রকমের ভদ্র ও অমায়িক ব্যবহারের মানুষ।

হিজড়াদের কোরআন শেখার জন্য একজন আরবী শিক্ষক ও একজন সাধারণ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানান মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ। তিনি বলেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় তাদেরকে পড়াবে। উপস্থিত হিজড়ারা উচ্চ আওয়াজে “আমরা পড়তে চাই” বলে আওয়াজ তোলেন।

ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ ও যুগ্মসচিব ইমতিয়াজ উদ্দীন সাব্বিরের নেতৃত্বে হিজড়াদের ঈদ উপহার দেওয়া হয় আজ এবং আগামীকাল বেদে সম্প্রদায়কে ঈদ উপহার দেওয়ার কথা জানান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও সকল শ্রেণীপেশার মানুষকে ঈদ উপহার প্রদানের ব্যাপক প্রস্তুতি ও ফান্ড গঠন চলছে বলেও জানান তারা।

হিজড়াদের বিভিন্ন সমস্যা শুনছেন মুফতী মিছবাহ, ইমতিয়াজ সাব্বিরসহ টিম সদস্যরা।

এর আগে লকডাউনের শুরু থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নগদ অর্থ বিতরণ, জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, জনসচেতনতায় স্প্রে ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করণ এবং করোনায় মৃতদের কাফন-দাফনে কাজ করছে সামাজিক সেবায় আত্মনিয়োগকারী সামাজিক সেবামূলক সংগঠন ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন। রান্নাকৃত খাবার, ইফতার-সাহরীও বিতরণ করেন তারা। বর্তমানেও এ কর্মসূচি চলমান আছে। মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ সমাজের বিত্তশালীদের মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন