ভার্চুয়াল আদালতের প্রথম আদেশ, হালদা নদীর ডলফিন রক্ষার নির্দেশনা

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২০

লকডাউন পরিস্থিতিতে অনলাইনে সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণার পর আজ প্রথম একটি আদেশ এসেছে সুপ্রিমকোর্ট থেকে।

হাইকোর্টের বিটারপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এক রিটের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার (১২ মে) চট্টগ্রামের হালদা নদীর ডলফিন রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের প্রথম আদেশ এটি। আদেশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ জানাতে বলা হয়েছে।

গত পরশু রোবাবর (১০ মে) ইংরেজী দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এর অনলাইন বাংলা ভার্সনে ‘হালদার বিপন্ন ডলফিন, দেখার কেউ নেই!’ শিরোনমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে হালদা নদীতে ডলফিন মাছের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার কথা বলা হয়।

এই প্রতিবেদনের আলোকে গতকাল সোমবার (৯ মে) হালদা নদীতে অবাধে ডলফিন হত্যা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল কাইয়ুম জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগ) এবং চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে(ইউএনও) বিবাদি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, হালদা নদীতে বিভিন্নভাবে ডলফিন মাছ হত্যা করা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এ ব্যাপারে মানা হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনাও। এ নিয়েই জাতীয় এ দৈনিকটির অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হালদা নদীতে ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত ইউএনডিপির সহযোগিতায় গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি ও বনবিভাগের পরিচালিত এক জরিপে হালদায় মাত্র ৪৫টি ডলফিনের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। হালদা নদীর মোহনা থেকে সাত্তার ঘাট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ডলফিনের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল তখন। জরিপে বলা হয়েছে, জরুরি উদ্যোগ নিলে এ বিদ্যমান সংখ্যা থেকে ডলফিনকে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষণ তো দূরের কথা, সেই ৪৫টি থেকে মৃত্যু হয়েছে ২৪টি ডলফিনের।

লকডাউনের মধ্যেও দুটি ডলফিন মারা যায়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৪টি ডলফিন। যে গতিতে হালদায় ডলফিন মারা যাচ্ছে, সেটা অব্যাহত থাকলে ২০২২ সালের মধ্যে হালদা ডলফিনমুক্ত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে।

বলা হয়, জরিপে ডলফিনের মৃত্যুর পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়। মাছ ধরার জাল, শিল্পকারখানার দূষণ ও যান্ত্রিক নৌযান। এসব বন্ধে বনবিভাগ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ টহলের ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছিল জরিপে। সেটা এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তর বায়েজিদ অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে হালদার দূষণ বন্ধ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিবেশ অধিদপ্তরকে বায়েজিদের দূষণকারী শিল্পগুলো বন্ধের নির্দেশ দিলেও সে আদেশ অদৃশ্য কারণে বাস্তবায়ন করেনি পরিবেশ অধিদপ্তর।

এরইমধ্যে গত মার্চে হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু পূর্ববর্তী ঘোষণার মতো সেটাও যেন ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয়, ‘সে বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর সজাগ থাকবে কি না, নিশ্চিত করে বলা যায় না’ বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে।

/এসএস

মন্তব্য করুন