মহাসড়কে ‘বাস-ট্রেন’ ছাড়া চলছে সব পরিবহন!

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

৫০ দিনের মতো সারাদেশে সরকারি ছুটির পাশাপাশি স্বাভাবিক চলাচলের উপর কিছুটা বিধিনিষেধ আরোপ করে রাখা হয়েছে। এই সময়ে সকল প্রকার গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

দেশের কয়েকটি জেলা উপজেলায় লকডাউন রয়েছে। সারাদেশ অনেকটা লকডাউন পরিস্থিতিতেই আছে। ২৬ এপ্রিলের পর থেকে ছুটি বাড়ানোর সময় কিছু বিষয়ে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বাহির থেকে পোশাক শ্রমিকরা যাতে ঢাকায় যেতে পারে সেই জন্য।

এর পর থেকেই সারাদেশেই লকডাউন শিথিল হয়ে আসছে। ৭ মের পরে ছুটি বাড়ানো হলেও সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সুযোগ দিতে চাইছে সরকার। এর পরে সারাদেশের রাস্তায় নেমেছে প্রায় সব স্তরের গাড়ী। চলাচল বন্ধ শুধু গণপরিবহন।

যদিও বলা হচ্ছে গণপরিবহন কিন্ত বন্ধ রয়েছে শুধু বাস আর ট্রেন এ বাইরে প্রায় সব ধরনের যানই চলছে। ঢাকার সাথে দেশের সড়ক যোগাযোগের রাস্তাগুলোতে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকছে। বাস না চলছেও সিএনজি, পিক আপ ভ্যান, মাইকো, প্রাইভেট কার, রিক্সা, ভ্যান, অকোরিক্সাসহ সকল প্রকার যানই চলছে।

পণ্য পরিবহনেও চলছে যাত্রী পরিবহন। মোটরসাইকেলের ভীড় প্রতিটি স্টেশনে। ভাড়ায় চালিত এসব মোটর সাইকেল চুক্তিতে আরো দুজন করে যাত্রী বহন করছে। সব ধরনের যান চলছে। মানুষ ইচ্ছা করলেই এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যেতে পারছে। শুধু লাগছে বাড়তি ভাড়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে এসে পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিচ্ছে ফেরি এবং ইঞ্জিন চালিত মাছ ধরার স্যালো নৌকায়। যাত্রীরা মুখে মাস্ক দিলেও সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে গাদা-গাদি করে বসে যাতায়াত করছেন। একটি মোটরসাইকেল চালকসহ তিনজন, রিকশায় চারজন, প্রাইভেটকারে ৫/৬জন, সিএনজিতে পাঁচজন, অটোরিকশায় ৭/৮জন, মাইক্রোবাসে ৯/১০জন করে যাতায়াত করছে। ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে নেই কোন নিয়ম কানুন। যে যার মতো করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

জানা গেছে, গার্মেন্টসসহ মার্কেটও সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠান চালুর ঘোষণার পরপরই মানুষের চলাচল বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ভিড় করছে। গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এবং উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবি মানুষগুলো ফেরি ও ইঞ্জিন চালিত স্যালো নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিয়ে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে এসে নামছেন। এখান থেকে উল্লেখিত বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ঢাকা থেকেও আসছে অনেক যাত্রী। করোনাকালে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই এদের কাছে।

একাধিক শ্রমজীবী যাত্রী বলেন, করোনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে কাজ-কর্ম নেই, সামনে ঈদ কাজে না গেলে বেতন-বোনাস কিছুই পাবে না তারা। তাই বাধ্য হয়ে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে গন্তব্যে যাচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে। তারা আরো বলেন, গণপরিবহণ চলাচল করলে আমরা নিরাপদে এবং অল্প খরচে যাতায়াত করতে পারতাম।

গণ পরিবহণের একাধিক শ্রমিক জানান, দেখা যাচ্ছে শুধু বাস ছাড়া সকল ধরনের যানবাহনই চলাচল করছে। তারা আরও বলেন, যাত্রীরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পরিবহণে চলাচল করছে। এতে ব্যায় বাড়ছে এবং সামিজিক দূরত্বও রক্ষা হচ্ছে না। বরং আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে যাত্রীদের। কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করে যদি বাস সার্ভিস চালু করা যায় তাহলে যাত্রী, বাসের শ্রমিক-মালিদের উপকার হতো বলে তারা মন্তব্য করেন।

বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা জানান, তাদের অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশে চাকরি রক্ষা আর পেটের তাগিদে মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের কথা ভুলে গেছেন। চাকরি ঠিক রাখতে যে করেই হোক কর্মস্থলে পৌঁছাতে হবে এবং কাজে যোগ না দিলে তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দিতে পারেন মালিক পক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি’র ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে শুধুমাত্র রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে সীমিত আকারে দু’টি (বড়) চারটি ইউটিলিটিসহ মোট ৬টি ফেরি চলাচল করছে। কাজে ফেরা ও ঘরে ফেরা মানুষের অতিরিক্ত চাপের কারণে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পর্যন্ত আমাদের মোট ৬জন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এতে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।আরটিএনএন।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন