মানবিক দিক বিবেচনায় চবি শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের আবেদন

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

নাজমু্ল হাসান : করোনা ভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে ভ্যাকসিন (প্রতিষেধক) তৈরিতে কোথাও কোনো সুখবর নেই। মানুষ হতাশার মাঝে বসবাস করছে। বিশ্ব অর্থনীতির চাকা দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল কলেজও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকরা যেমন কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছে তেমনি বিপাকে পড়েছে টিউশন বা পার্টটাইম জব করে পড়ালেখার খরচ চালানো শিক্ষার্থীরা। পাবিলক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা।

শহর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দূরে অবস্থান করায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী শহরের মেস বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এছাড়াও ক্যাম্পাসে রয়েছে অনেকগুলো কটেজ। যেসব কটেজে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন।
এসব শিক্ষার্থীদের অনেকেই টিউশন বা পার্টটাইম কোনো জব করে তাদের মাসিক খরচ মেটান।

মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এরপর বেড়েই চলছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। করোনায় আক্রান্ত্র হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছেন দুইশত উনচল্লিশ জন মানুষ।

মার্চ মাসের ২৫ তারিখ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়। লকডাউন ঘোষনা করা হয় বিভিন্ন শহর, জেলা, উপজেলা। শিক্ষার্থীদের টিউশন ও পার্টটাইম জব করা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন তারা।

এমতাবস্থায় মাস শেষে শিক্ষার্থীদের মাসিক মেস ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে অর্থনীতির বিপর্যয়ের কারনে মা-বাবার আয় রোজগার বন্ধ রয়েছে। তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে নানান সমস্যায় মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদেরকে। মানবিক দিক বিবেচনায় প্রশাসন ও মালিক পক্ষের কাছে বাসা ভাড়া মওকুফ করার আবেদন। অথবা এই অবস্থায় যেনো তাদেরকে বাসা ভাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা না হয়।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও চবি ক্যাম্পাসের মেহেদী ম্যানশনের পরিচালক মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমানে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
খুবই নাজুক ও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ক্যাম্পাস ও টিউশন দুটোই বন্ধ। কিন্তু আমাদের মেসের মাসিক ভাড়া মাস শেষে মালিকপক্ষকে দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের সময় তারা নানান সমস্যার কথা আমাকে জানাচ্ছে। সরকার ও মালিকপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনা করে যদি আমাদের বাসা ভাড়া গুলো মওকুফ করে দিতো তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সারমিন শাহী বলেন,পাবলিকে পড়া বেশির ভাগ স্টুডেন্ট সাধারণত মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের।এসব পরিবারের মাস আনে মাস খায় অবস্থা।করোনা পরিস্থিতিতে অনেক পরিবারে ডাল ভাত জোটে না।অথচ অতিরিক্ত ভাড়া বহন করতে হচ্ছে।যা সত্যি অমানবিক। তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে যথার্থ পদক্ষেপ নেয়া

ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে গোটা বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও করোনার ছোবলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা টিউশনি করে লেখাপড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ চালাতাম। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের কারনে টিউশনি পড়ানোও বন্ধ। কোনো ইনকাম না থাকা সত্ত্বেও আমাদের মেসের মাসিক বাসা ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির মানবিক দিক বিবেচনা করে যদি প্রশাসন ও মালিকপক্ষ বাসা ভাড়া মওকুফ করে দিতো তাহলে আমাদের কষ্ট লাঘব হতো।

মন্তব্য করুন