কুরআন শরীফে ‘করোনার তথ্য’ পেয়েছেন গোলাম মাওলা রনি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

পবিত্র কুরআন শরীফে করোনাভাইরাস ও গৃহে অবস্থান করার প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক সময়ের আওয়ামী নেতা ও বর্তমানের বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতে গিয়ে তিনি কুরআনের এক আয়াতে করোনা ও ঘরে অবস্থান করার বিষয়ে আলোচনা পেয়েছেন বলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দাবি করেছেন তিনি।

ফেসবুক পেজে রনি লিখেছেন-

আজ আমি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতে গিয়ে সেখানে করোনা শব্দটি প্রায় হুবহু দেখতে পেয়ে চমকে উঠি এবং সংশ্লিষ্ট আয়াতের বাংলা অর্থ পড়ে একেবারে আশ্চর্য হয়ে যাই।

  • সূরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতটি শুরু হয়েছে -“অক্করনা ফি বুইয়ুতিকুন্না” শব্দমালা দিয়ে। আমি আপনাদের সুবিধার জন্য পুরো আয়াটির তরজমা দিচ্ছি-  “এবং তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে, প্রথম মূর্খ যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না, আর নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তোমাদের মধ্যকার অপবিত্রতা দুর করতে চান এবং তোমাদেরকে সর্বতভাবে পবিত্র করতে চান!”

এবার বুঝার চেষ্টা করুন – বর্তমানের করোনা এবং আমদের গৃহবন্দী থাকার প্রকৃত কারণ কী হতে পারে… এটাও অনুধাবনের চেষ্টা করুন যে – আল্লাহ এবং তার কালামে পাকের মুজেজা কী এবং কত বড় !

প্রসঙ্গত : ইসলামী শরিয়তের বা কুরআনের তাফসীরের কোথাও আলোচ্য এই আয়াতটির সাথে করোনাভাইরাস বা এ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় দেখা যায় আলোচ্য আয়াতে কারিমাটি পবিত্র কুরআনের সূরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াত। যেখানে মহান আল্লাহ বলেছেন:

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآَتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا (33)

অর্থ : “তোমরা ঘরের ভেতরে অবস্থান করবে- প্রথম অজ্ঞতার যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ! নিশ্চয় আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।” (৩৩:৩৩)

এই আয়াতে রাসূল সা. স্ত্রীগণকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে: ইসলাম আবির্ভাবের পূর্বে নারীরা অসঙ্গত পোশাক পরে এবং নানারকম সাজসজ্জা করে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করত। কিন্তু আপনারা, ঈমানদার নারীগণ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না। যদি জরুরী প্রয়োজনে বাইরে যেতেই হয় তাহলে উপযুক্ত পোশাক পরে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও সাজসজ্জা জনসমক্ষে প্রদর্শন করা যাবে না।

এই আয়াতে ইসলামপূর্ব যুগ বোঝাতে ‘প্রথম অজ্ঞতার যুগ’ পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এখান থেকে ধারণা করা যায়, আল্লাহ তায়ালা পরবর্তী এমন আরো অনেক যুগের কথা এখানে উহ্য রেখেছেন যখন নারীরা সাজসজ্জা করে নিজেদের দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন করবে। বর্তমান যুগে আমরা সুস্পষ্টভাবে সেরকম কর্মতৎপরতা দেখতে পাই। নারীদেরকে নানা অজুহাতে আজ ঘরের বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং লাগামহীনভাবে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নারীদের সাজসজ্জার জন্য উৎপাদিত কসমেটিক্স পণ্য বর্তমান যুগের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বড় অংশ দখল করে আছে।

আয়াতের পরবর্তী অংশে নামাজ ও রোজার মতো ধর্মীয় ফরজ বিধানগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একথা বোঝানো হয়েছে যে, নারীরা যেন এ ধারণা না করে যে, পর্দার বিধান মেনে গায়রে মাহরাম পুরুষদের থেকে দূরে থাকলেই হয়তো তাদের ফরজ দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।  বরং তাদেরকে নামাজ ও রোজাসহ ধর্মীয় সব বিধিবিধান সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এ ছাড়া, সাধারণ নারীরা যেন এ ধারনা না করে যে, আগের আয়াতগুলোতে বর্ণিত নির্দেশগুলো শুধু রাসূলের স্ত্রীদের জন্য এসেছে; বাকিদের জন্য নয়।

এই আয়াতের শিক্ষণীয় কয়েকটি বিষয় হচ্ছে:

প্রথমে নবীপত্নিদের উপর তারপর সাধারণভাবে সমস্ত মুসলিম নারীদের উপর পর্দার হুকুম নাযিল হয়েছে৷ পর্দা হচ্ছে, নারীদের সম্মান এবং নিরাপত্তার রক্ষাকবচ৷ সমীহ এবং প্রশংসনীয় বিষয়৷ পর্দা পালনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি-

  • পর্দা এমনভাবে হওয়া চাই, যাতে পুরো শরীর ঢেকে দেয়৷
  • পর্দা রক্ষার জন্যে যা পরলেন, সেটা যেন এমন আকর্ষণীয় না হয় যে, অন্য পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ হয়ে যায়৷
  • পর্দার পোশাকটি যেন এমন চিকন ও পাতলা না হয় যে, ভেতর থেকে শরীরের রং ঠিকরে বেরোয়৷
  • ঢিলেঢালা হবে৷ এত টাইটফিট যেন না হয় যে, ভেতর থেকে ফিতনায় পতিত হওয়ার সম্ভাব্য অঙ্গ প্রকাশিত হয়ে না যায়৷
  • সুগন্ধি মেখে বের হওয়া যাবে না, যাতে পথচারীদের মোহনীয় করে তুলে৷
  • পুরুষের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোশাক যেন না হয়৷
  • কাফির-মুশরিক তথা বিধর্মী নারীদের ধর্মীয় পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো পোশাক যেন না হয়৷
  • নামধাম ও খ্যাতির পোশাক যেন না হয়৷ যে পোশাকগুলো সাধারণত খ্যাতি ও নামধামের জন্য পরা হয়৷

আয়াতের তাফসীর : মুফতী জিয়া রাহমান

মন্তব্য করুন