জ্ঞানের মশালবাহী আল-আযহার : কোনো ব্যক্তিত্রুটিতে ম্লাণ হবার নয়

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০

লেখক এই লেখাটিতে আল-আযহার নিয়ে লেখার আগে শুরুতেই যে কথাটুকু সংযুক্ত করেছেন তা হলো – ব্যক্তির ত্রুটিতে আল-আযহার নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবেন না। অনুগ্রহ পূর্বক কোনো ব্যক্তিবিশেষের ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে আযহার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ট্রল বা বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবেন।‌

জ্ঞানের মশালবাহী আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয় : পরিচয় ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আবু হানিফ সাদী আযহারী :

আল আযহারের প্রতিষ্ঠা ইতিহাস : আজ থেকে ১০৮০ বছর পূর্বে ৯৭০ বা ৯৭২ ইংরেজি সাল মোতাবেক আরবী ৩৬১ হিজরী সনের ৭-ই রমযান শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তৎকালীন ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ লিদ্বীনিল্লাহর নির্দেশে তার সেনাপতি জওহর আস-সিকিল্লি ফাতেমীর তত্বাবধানে মিশরের রাজধানী কায়রোর বুকে আল-আযহার মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মসজিদ থেকেই আজকের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রথমে এটি শিয়া সম্প্রদায়ের ‘ইসমাইলিইয়া’ মতবাদ প্রচারের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল৷ পরবর্তীতে মিশর থেকে ফাতেমীয় খিলাফত বিলুপ্তির পর পর ৫৮৯ হিজরিতে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী তা বন্ধ করে দেন। প্রায় শত বছর বন্ধ থাকার পর ৬৭২ হিজরিতে মামলুক সুলতান বাইবার্সের শাসনামলে সুন্নী আকিদার উপর পুনরায় চালু হয় আজহার মসজিদ। সেই থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবীর মানচিত্রে প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়। যাকে ওলামায়ে কেরাম ‘কাবাতু্ল ইলম’ বলে সম্বোধন করেন। এটি কোন ব্যক্তিবিশেষের নির্দিষ্ট মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে বিশ্ব মানচিত্রে জ্ঞানের মশাল ছড়িয়ে আসছে।

বিশেষ করে ৬৫৬ হিজরিতে যখন তাতারীরা মুসলমানদের যুগ যুগ ধরে লালিত সাহিত্য-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ও মুসলিম সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র বাগদাদ ও মা ওরাউন নাহার এর শহরগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে মহাশ্মাশানে পরিনত করেছিল, তখন একমাত্র আযহার ও আযহারীরাই মুসলিমদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ও ঐতিহ্য রক্ষা করেছিল।

আল আযহারের বিভাগ ও অনুষদ : বর্তমানে আল আযহার আধুনিক বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে মৌলিক তেইশটি অনুষদ ও শতাধিক বিভাগ (যা বিভিন্ন জেলায় পুনরাবৃত্ত হয়ে মোট ৮৯ টি অনুষদ ও ৩৫৯ এর অধিক বিভাগ) পরিচালনা করে। প্রায় ৫ লক্ষ শিক্ষার্থী, ১৫,০০০ শিক্ষক ও ১৩ হাজারের অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং হাজার হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে রেখে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে৷ পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ আযহারী ও সুন্নী মুসলমানদের অভিভাবকে পরিণত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠিনটি।

বর্তমানে ১০৫ টির অধিক রাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার বিদেশী শিক্ষর্থী দ্বীনি ইলম ও জ্ঞান-বিজ্ঞান শিখছে এখানে। আন্তর্জাতিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী স্কলারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে এই বিশ্ববিদালয়ে। অনুরূপভাবে ভাবে যে সকল রাষ্ট্রে ধর্মীয় শিক্ষার অভাব রয়েছে সেখানে আযহারের নিজস্ব অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছে। আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও মুসলিম ইস্যুগুলোতে সভা-সেমিনার ও স্মারক প্রকাশ করা সহ সর্বময়ী আযহার তার প্রতিটি কর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে ইসলামের পতাকা উচু করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আল-আযহারের আকিদার ভিত্তি : আযহারের আকিদার ভিত্তি হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত, যা আল-আশ’য়ারী ও আল-মাতুরিদিদের ধর্মতাত্ত্বিক মাযহাবসমূহ ও সুন্নী ইসলামী আইনশাস্ত্রের চারটি মাযহাব (হানাফি, মালেকি, শাফেঈ এবং হাম্বালী) এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক পদ্ধতিতে নীতিগতভাবে তাসাউফ ও আখলাকের চর্চা করে থাকে।

আযহার বিশ্বের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে প্রত্যেক মাযহাবের ছাত্রদেরকে আলাদা আলাদাভাবে তার মাযহাবের ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ- ঐ মাযহাবের ওপর বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া হয়।

আযহারের একটি স্বতন্ত্র ধারাও রয়েছে তা হচ্ছে- ওসাত্বীয়্যাহ (মধ্যপন্থা), অর্থাৎ কোন বিষয়ে বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি না করা এবং সমাজের প্রচলিত মাযহাবের বিরোধিতা করে ফিতনা বা বিশৃংখলা সৃষ্টি না করে ঐক্যের দিকে আহ্বান করা। ধর্মীয় উগ্রতা (আযহারের সংজ্ঞা অনুসারে) পরিহার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা, তেমনিভাবে সকল মাযহাবের লোকজনের প্রতি সম্মান প্রদান করে প্রত্যেককে স্বাধীন ভাবে স্বীয় মাযহাব পালনে বাধা না দেয়া।

আল-আযহার নিয়ে কিছু ভুল ধারণা :

১. অনেকেই মনে করেন আল-আযহারে সম্ভবত মডারেট ইসলামকে প্রমোট করে এবং মাযহাব না মানার বিষয়ে উৎসাহিত করে কিন্তু বাস্তবে আযহারে লা-মাজহাবীদের কোন স্থান নেই। সেখানে ভর্তি হতে হলে কোনো এক মাযহাব মেনেই ভর্তি হতে হয়; অন্যথায় ভর্তি হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

এ পর্যন্ত যে কয়জন শায়খুল আযহার অতিবাহিত হয়েছেন প্রত্যেকেই কোন এক মযহাবের অনুসারী ছিলেন। ১০৯০ হিজরীতে শায়খুল আযহারের পদটি সৃষ্টি হওয়ার পর অদ্যাবধি পর্যন্ত ২১ জন শাফেঈী, ১১ জন হানাফী এবং ১১ জন মালেকী মাযহাবের শায়খুল আযহার ছিলেন। বর্তমান শায়খুল আযহারও মালিকী মাযহাবের অনুসারী এবং একজন সূফী-সাধক।

২. আবার অনেককেই বলতে শুনেছি যে- আযহার শিয়া মতবাদের প্রতিনিধিত্ব করে; বিষয়টি একেবারেই বাস্তবতা বিবর্জিত। আজহার সবসময়ই শিয়া ও যে কোন বাতিল মতবাদের বিপক্ষে কঠিন পদক্ষেপ রাখে। কোন ছাত্রের যদি শিয়া অথবা কোন চরমপন্থী সংস্থার সাথে যে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় তাৎক্ষণিক তাকে আযহার থেকে বহিষ্কার করা হয়। তারপরও যদি কোন লা-মাযহাবী বা শিয়া প্রতিনিধি নিজেদের পরিচয় গোপন করে সেখানে পড়ে এবং পরবর্তীতে নিজেকে আযহারী বলে দাবী করে নিজস্ব মতবাদের প্রচার করে ও মানুষকে সেই দিকে আহব্বান করে, তার দায় কখনো আযহার বিশ্ববিদ্যালয় নিবেনা, বরং তিনি বিপদগামী আযহারী হিসেবেই বিবেচিত হবেন।

৩. আযহার সম্পর্কে আরেকটি চরম মিথ্যাচার হল, যা অনেকে বলে বেড়ান, আযহারে নাকি অমুসলিম শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করে, সেই সাথে অমুসলিম অনেক শিক্ষকরা পাঠদান করে থাকে। অত্যন্ত হাস্যকর ও পরিতাপের বিষয় হলো, যেখানে আযহারের প্রতিটি ছাত্র মানেই কিতাবুল্লাহর হাফেজ সেখানে তাদের সম্পর্কে অমুসলিম বলাটা কি তাদের বিবেককে একটুও নাড়া দেয় না? তারা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী শুনেনি “ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শুনে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাই বলে বেড়ায়” ? যেখানে একজন শিক্ষক ইলমের প্রচার-প্রসারে নিজেকে উৎসর্গ করে দেন, তাদের ব্যাপারে এমন মন্তব্যকারীরা অবশ্যই মিথ্যচারে গুনাহের ভাগিদার হবেন।

৪. আযহার নিয়ে অনেকে আরেকটি বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে যে আযহারে নাকি ছেলেমেয়ে এক সাথে ক্লাস করে, অথচ আযহার কখনোই সহশিক্ষায় বিশ্বাসী নয়। বরং মেয়েদের জন্য স্বতন্ত্র ক্যাম্পাস তৈরি করেছে, যাকে “জামিয়াতুল আযহার বানাত” নামে অভিহিত করা হয়। তেমনিভাবে তৃতীয় শ্রেণি থেকেই আযহার মেয়েদের জন্য আলাদা স্কুলের ব্যবস্থা করেছে। সেখানে তাদের নিরাপত্তার সাথে পড়াশোনার গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য যাবতীয় সকল সুব্যবস্থা রয়েছে যা ছেলেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান। তাপরও যারা সঠিক তথ্য না জেনে বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আযহার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন তাদেরকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম।

আল-আযহারে পড়াশোনার স্তর :

আযহারে মোট পড়াশোনার স্তর রয়েছে সাতটি : ১. ইবতেদায়ী বা প্রাথমিক ছয় বছর। ২. ই’দাদী বা মাধ্যমিক তিন বছর। ৩. সানাভিয়া বা উচ্চ মাধ্যমিক তিন বছর। ৪. কুল্লিয়া বা অনার্স চার বছর। ৫. দিরাসাত উলিয়া বা মাস্টার্স দুই বছর। ৬. এমফিল গবেষণা ৩ – ৫ বছর ৭. ডক্টরেট ৩ – ৫ বছর।

অর্থাৎ প্রথম থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়তে আঠার বছর এবং এমফিল ও ডক্টরেট গবেষণার জন্য প্রয়োজন আট -দশ বছর।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল- মিশরীয় একজন ছাত্রের জন্য আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্বেই পুরো কোরআন শরীফ হিফজ করা আবশ্যক, যা প্রাইমারী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমাপ্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরে পূনরায় পুরো কোরআন শরীফ মুরাজাআ করা হয়। এর অর্থ হচ্ছে- সকল মিশরীয় আযহারীই কোরআনের হাফেজ। তবে বিদেশী অনারব ছাত্রদের জন্য পুরো কোরআন শরীফ মুখস্ত করা আবশ্যক না হলেও প্রতিবছর এক পারা মুখস্ত করে লিখিত ও মৌখিক দু’ভাবেই পরীক্ষা দিতে হয়।

অনেকে ধারণা করেন- আযহারে শুধু ধর্মীয় বিষয়ে পড়ানো হয় বা আযহারে পড়লেই ধর্মীয় বিষয়ে বিজ্ঞ হয়ে যায়, ধারণাটা ঠিক নয়। কেননা সূচনালগ্নে আযহার বিশ্ববিদ্যালয় ৩টি ধর্মীয় অনুষদ তথা ধর্মতত্ত্ব অনুষদ, শরিয়া অনুষদ ও আরবি ভাষা অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৬১ সালে আল আযহার একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

ফলে বর্তমানে সর্বমোট ২৩ টি অনুষদে শতাধিক বিভাগ নিয়ে বিশ্ব সুন্নী মুসলিমদের জন্য জ্ঞানভান্ডারের মার্কাযে পরিনত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি৷ তম্মধ্যে ৬ টি অনুষদ ও ২১ টি বিভাগ ধর্ম সম্পর্কিত, বাকিগুলো জেনারেল বিভাগ ।

বলাবাহুল্য, আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্র যে অনুষদেই অধ্যয়ন করুক না কেন, যেহেতু তাদের অধীনে পরিচালিত প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোরআন শরীফ মুখস্ত ও ব্যক্তি পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমস্ত ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও কুরআন-হাদীস ও ধর্মীয় আবশ্যকীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত রয়েছে তাই প্রত্যেক আযহারীই ধর্মীয় বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান রাখেন।

ধর্মীয় ছয়টি অনুষদ হল : ১. faculty of Islamic jurisprudence and law. তথা শরিয়া ও আইন অনুষদ। ২. faculty of Islamic theology তথা (ধর্মতত্ত্ব অনুষদ)। ৩. faculty of Arabic language তথা আরবি ভাষা অনুষদ। ৪. faculty of Islamic studies and Arabic তখা ইসলামী শিক্ষা ও আরবী অনুষদ। ৫. Islamic Call College তথা ইসলামী দাওয়া অনুষদ। ৬. faculty of Islamic science তথা ইসলামী বিজ্ঞান অনুষদ।

বাংলাদেশী ছাত্ররা সাধারণত এই ছয়টি অনুষদে পড়ার আগ্রহেই সুদূর মিশরে পাড়ি জমান। এই ছয় অনুষদের ছাত্ররা তাদের বিভাগ অনুসারে কেউ অনার্স তৃতীয় বর্ষ বা কেউ মাস্টার্সে গিয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে তাখাসসুস করেন।

তবে প্রত্যক বিভাগেই বিশেষায়িত বিষয়াবলীর বাইরেও কিছু মৌলিক দীনি বিষয়াবলী রয়েছে যেমন: কোরআন শরিফ হিফজ, হাদীস, তাফসীর, নাহু-ছরফ, ফিকহ-উসুলুল ফিকহ, বালাগাহ ইত্যাদি।

একজন ছাত্র যখন শরিয়া অনুষদে পড়বে সে ফিকহ সম্পর্কিত সবকিছু খুটিনাটিসহ পড়বে এবং অন্য অনুষদের নাহু সরফ, বালাগাত, হাদীস ও তাফসীর আংশিক পড়বে। তেমনিভাবে যিনি ধর্মতত্ত্ব অনুষদের হাদীস বিভাগে পড়বেন তিনি হাদীস সম্পর্কিত সবকিছু খুটিনাটিসহ পড়বেন এবং অন্য অনুষদের নাহু -সফর, বালাগাহ, ফিকহ-উসুলুল ফিকহ আংশিক পড়বেন।

একটি কথা স্বরণ রাখতে হবে, যে যে বিষয়ে পড়বেন তিনি সেই বিষয়েই পারদর্শী হয়ে উঠবেন এবং সে বিষয়ে কথা বলার অনুমতি পাবেন। এক বিষয়ে পড়াশোনা করে অন্য বিষয়ে কথা বলার অনুমতি নেই।

আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বাংলাদেশীরা যা পড়ে :

প্রথমত বাংলাদেশ থেকে দু’ধরনের ছাত্র আযহারে পড়তে আসেন। ১. আলিয়া মাদরাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করে। ২. কওমী মাদরাসা থেকে দাওরা হাদীস সম্পন্ন করে।

বাংলাদেশের আলিয়া হোক বা কওমী হোক, তার সনদপত্র দিয়ে সরাসরি আযহারের অনার্সে ভর্তি হলেও প্রথমে তাকে ভাষা দক্ষতায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অথবা কেউ চাইলে মাধ্যমিক স্তর শেষ করেও অনার্সে ভর্তি হতে পারেন। উভয় ক্ষেত্রেই তাকে অনার্স পর্যন্ত পৌঁছতে এক বছর বা কারো ক্ষেত্রে এরচেয়েও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

অনার্স কোর্স চার বছর মেয়াদী। সাধারণত সব মিলিয়ে অনার্স কোর্স সম্পন্ন করতে পাঁচ-ছয় বছর প্রয়োজন হয়। অনার্স সম্পন্ন করার পর আবার বিপত্তি ঘটে মাস্টার্সে ভর্তির ক্ষেত্রে। কেননা আযহারে মাস্টার্স কোর্সে মাস্টার্স তামহিদী ও এমফিল গবেষণা একসাথে করতে হয়। শুধু দুই বছরের তামহিদী মাস্টার্স করলে কোনো সনদ পাবে না। বরং সেইসাথে এমফিলও করতে হবে।

মাস্টার্সে কৃতকার্য হওয়া অনার্স স্তর থেকেও বেশি কঠিন। এক্ষেত্রে কারো কারো দু বছরের তামহিদী ৩-৫ বছরও লেগে যায়। তারপর ৩-৫ বছর সময় নিয়ে এমফিল গবেষণা। সব মিলিয়ে মাস্টর্সেই এমফিলসহ ৫-৮ বছর সময় লেগে যায়। ফলে শতকর ৯০% ছাত্র এখানেই ঝরে যান বা অনার্সের পর অন্যত্র চলে যান।

এখানে একটা বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে যে, আযহারে কোনো বিষয়ে পারদর্শী হওয়া বা মুতাখাচ্ছিছ হওয়ার মূল পড়াশোনা শুরু হয় মাস্টার্স থেকে এবং এর জন্য প্রচুর পরিমাণ ধৈর্য্য ও সুদীর্ঘ অধ্যাবসায়ের প্রয়োজন ৷ এখন যিনি আযহারের প্রাতিষ্ঠানিক সিলেবাস ১৮ বছর এবং গবেষণার ৮-১০ বছর, মোট ২৬-২৮ বছর সিলেবাসের পূর্বাপর পড়েননি, মাঝখানে মাত্র ৪/৫ বছর পড়লেন, তারপক্ষে আযহারের মূল শিক্ষা গ্রহন করা বা কোন বিষয়ে পারদর্শী হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

এমনকি অনেকের পক্ষে আযহারের মানহাজ অনুধাবন করতে পারাই কষ্টসাধ্য হয়। ফলত অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আযহার থেকে অনার্স কোর্স সম্পন্ন করেও বিভিন্ন কারণে এর মানহাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যান। সেক্ষেত্রে কারো অল্পজ্ঞান বা পরিপূর্ণ শিক্ষা অর্জন না করার কারণে যদি কোনো ভুল মাসয়ালা বর্ণনা করেন; সে দায় আযহারের হবে না অবশ্যই। এমনকি মাঝখান থোকে তিন বছর পড়েই কেউ নিজেকে আযহারের সবকিছু প্রকাশ করাও অনুচিত।

কেউ যদি পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন না করেন বা সে যে বিষয়ের মুতাখাচ্ছিছ নন ও আযহার তাকে যে বিষয়ে কথা বলার অধিকার দেয়নি, সে বিষয়ে কথা বলেন, তার দায়ভার তার নিজেকেই নিতে হবে, আযহার কখনো নিবে না।

আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশীদের ছাত্র সংগঠন :

মিশরে অবস্থানরত বাংলাদেশী সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি ধরে রাখার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে তৎকালিন একঝাঁক মেধাবী তরুনদের আপ্রাণ চেষ্টায় দলমত-নির্বিশেষে “বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন” (ইত্তেহাদ) নামের একটি সংগঠনের যাত্রা শুরু করে। যার মূল মন্ত্রই হচ্ছে, আদর্শ, শিক্ষা, শৃঙ্খলা, ঐক্য, ত্যাগ আর সেবা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ লালন করা, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকরি ভূমিকা পালন, সুস্থ চিন্তাধারা লালন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশটিতে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে নতুন শিক্ষার্থী এলে তাদের ভর্তি, আবাসন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নবীন বরণ ও বিদায়ী ছাত্রদের সম্মাননাসহ নানা আয়োজনে বছরজুড়েই সক্রিয় থাকে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড।

তবে এই সংগঠনটি তিনটি অঙ্গসংগঠন নিয়ে গঠিত যা বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী মতাদর্শের চিন্তা ধারা লালন করে থাকে। এগুলো যথাক্রমেঃ

  • আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, এটি কওমী মতাদর্শের ছাত্রদের সংগঠন।
  • আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, এটি বাংলাদেশী সুন্নী ছাত্রভাইদের সংগঠন।
  • আযহার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

মিশর আসার পর একজন ছাত্র স্বাধীন। তখন তিনি তার ইচ্ছামত উক্ত তিন সংগঠনের যেকোনো একটির সদস্য হতে পারেন। যে যে সংগঠনের সদস্য হোক না কেন, সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সুসম্পর্ক বজায় থাকে। এমন দৃষ্টান্ত বাংলাদশে বিরল।

অন্যদিকে এমনও কেউ কেউ রয়েছেন, যারা কোন একটি সংগঠনের সদস্য না হয়েও স্বতন্ত্র ভাবে ইত্তেহাদের সদস্য হয়ে থাকেন। সবকিছু মিলেয়ে বলতে হয় আযহারে মধ্যপন্থার আলোকে দেশের সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলেই নিজেকে এক ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যেতে চান।

বাংলাদেশে আযহারী :

অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশে আযহারী নেই বা দু-একজন ৷ তাদের এ ধারণা সঠিক নয় বরং বাংলাদেশে বহু আযহারী স্কলার রয়েছেন। আযহার বিশ্ববিদ্যালয় এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মধ্যে শিক্ষার পদ্ধতিগত কিছু পার্থক্য থাকলেও মানহাজগতভাবে যেহেতু এ দুটি প্রতিষ্ঠান প্রায় কাছাকাছি; বিশেষ করে আকিদা, মাযহাবের আবশ্যকতা ও সুফীবাদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট রক্ষণশীল।

অপর দিকে দুটি প্রতিষ্ঠানের মানহাযই লা-মাযহাবী ও শিয়া মতবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাই আরব বিশ্বের ওলামায়ে কেরাম দারুল উলূম দেওবন্দকে আযহারুল হিন্দ বা ভারত বর্ষের আযহার বলে সম্ভোধন করেন।

এজন্যই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে আযহারী ও দেওবন্দীরা একসাথে মিলেমিশেই কাজ করেন। এখানে কেউ তেমন আলোচনা বা সমালোচনায় আসেন না। যেমনিভাবে মাদানীদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সে কারণেই অনেকে মনে করেন বাংলাদেশে আযহারী নেই বা দুই একজন আছেন।

বরং বর্তমানে আযহারে প্রায় তিনশতাধিক বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছেন এবং বহু কৃত আযহারীর বাংলাদশে আগমন ঘটেছে৷ এদের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদশে সর্বপ্রথম যার নাম আসে তিনি হলেন মরহুম আলাউদ্দিন আযহারী। যিনি এক সময় ঢাকা আলিয়ার শিক্ষক ছিলেন।

এ পর্যন্ত আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট গ্রহণ করেছেন যারা :

১. ডক্টর নুরুল আবসার (কওমী শিক্ষাধারার ছাত্র) : বর্তমানে হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক। আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরো ভারতবর্ষের এযাবৎকালীন সেরা গবেষকদের একজন। যার গবেষণাপত্রটি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ছাপানোর প্রস্তাবনা করা হয়েছে।

২. ডক্টর রফিকুল ইসলাম (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন) : বর্তমানে তিনি একটি মিশরী দাওয়া সংস্থায় কর্তব্যরত।

৩. ডক্টর মিসবাহ-উল-হক (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন)। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

৪. ডক্টর ইউসুফ আযহারী (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন))। বাড়ি চট্টগ্রাম। মিশরে রেডিও বাংলাতে কর্মরত ছিলেন। তিনি মিশরেই মৃত্যুবরণ করেন।

৫. ডক্টর আব্দুল মতিন (ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন)। বর্তমানে লন্ডনের এক প্রতিষ্ঠানে (ইসলামিক সেন্টার) কর্মরত।

৬. ডক্টর মকবুল আহমাদ (স্বতন্ত্র)। বর্তমানে আলজেরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যারয়ের অধ্যাপক।

৭. মরহুম ড. শাব্বীর আহমাদ (স্বতন্ত্র)। মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন।

বর্তমানে যারা আযহারে এমফিল শেষ করে পিএইচডি করছেন :

১. মাওঃ মোশাররফ হোসাইন (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন)। তিনি মরহুম হারুন ইসলামাবাদীর সুযোগ্য ছাত্র।

২. মাওঃ আরিফ মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন)। মরহুম আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর ছাত্র।

৩. মাওঃ আব্দুল হামিদ বিন শামসুল হক (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন)। মারকাযুদ দাওয়ার মুফতী আব্দুল মালেকের ছোট ভাই।

৪. মাওঃ মুহাম্মদ হাসিবুর রহমান (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন)। মুফতী আব্দুল মালেকের খাস ছাত্র।

৫. মাওঃ কামরুজ্জামান খিদির (ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট)।

৬. মাওঃ এমরানুল হক (কওমী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন)। মরহুম হারুন ইসলামাবাদীর সুযোগ্য শিষ্য।

৭ মাওঃ ইব্রাহীম খলিল (কওমী)। মরহুম আশরাফ আলী রহ. এর নাতি।

এ পর্যন্ত যারা শুধু এমফিল করেছেন আযহার থেকে :

১. মাওঃ শাহেদ হারুন (কওমী)। মরহুম হারুন ইসলামাবাদীর সুযোগ্য পুত্র। বর্তমানে আইআইইউসির প্রফেসর।

২. মাওঃ হাবীবুল গাফ্ফার (কওমী)। বর্তমান লন্ডনের বার্মিংহামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

৩. ড. মুঈন উদ্দীন, (ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন)। বর্তমানে আইআইইউসি চিটাগাং-এর অধ্যাপক।

৫. মো. আনোয়ার হুসাইন (কওমী)। বর্তমান তিনি নানুপুর মাদরাসার শিক্ষক ৷

৬. মাওঃ মোশাররফ নদভী (কওমী), বর্তমানে বাইতুশ শরফ আলিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস, চট্টগ্রাম।

৭. ইব্রাহিম খলিল (ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন)। ডক্টরেটের জন্য প্রসেসিং চলছে।

বর্তমানে যারা এমফিল গবেষনা করছেন :

১. মাওঃ মুহাম্মাদ লুতফে রাব্বী (কওমী)। ২. মাওঃ হাফেজ মুহাম্মাদ নুরুল আমিন (কওমী)। ৩. মাওঃ শুয়াইব হুসাইন (কওমী। ৪. মাওঃ মুস্তফা জামাল (কওমী)। ৫. মুহাম্মাদ বাহরুল্লাহ ( স্বতন্ত্র)। ৬. সালিমুর রহমান ( সুন্নী)। ৭. মাওঃ সানাউল্লাহ ( কওমী)। ৮. মুহাম্মাদ মুমিনুল ইসলাম (সুন্নী)। ৯. লুৎফর রহমান (স্বতন্ত্র)। ১০. মাওঃ ফখরুজ্জামান (কওমী)। ১১. মাওঃ মুহাম্মাদ ওয়াসিফুর রহমান (কওমী)। ১২. মাওঃ মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাল ( কওমী)। ১৩. মাওঃ মুহাহাম্মাদ ইকবাল হুসাইন (কওমী)। ১৪. মাওঃ আব্দুর রহিম (কওমী)। ১৫. মাওঃ আবু হানিফ সাদী (কওমী)। ১৬. মাওঃ মাজহারুল ইসলাম (কওমী)৷ ১৭. মাওঃ আক্তার কামাল (ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন)। ১৮. মাওঃ মুহাম্মাদ আবু জাবের (কওমী)। ১৯. মাওঃ মুহাম্মাদ আসেম বিল্লাহ (কওমী)। ২০. মাওঃ শরিফউদ্দিন (কওমী) । ২১. মুহাম্মাদ আরাফাত হাসান (ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন)। ২২. মাওঃ আব্দুল্লাহ তাহির ( সুন্নী) ।

বিঃদ্রঃ উপরোক্ত নামগুলো বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন মিশর এর বিভিন্ন বর্ষের স্বরণিকা এবং প্রাক্তন সিনিয়র বড় ভাইদের সাথে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়াও অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কোনো পিএইচডি বা এমফিল গবেষক ভাইয়ের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, তবে অনুগ্রহ করে জানালে যোগ করে নিবো এবং কৃতজ্ঞ থাকব ইনশাআল্লাহ।

এছাড়া আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করে বর্তমানে মাস্টার্স, এমফিল বা পিএইচডি করছেন বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে – তাদের সংখ্যাও অনেক। তাদের সকলের নাম উল্লেখ করাও এই স্বল্প পরিসরে সম্ভবপর নয়।

তেমনিভাবে বহু কৃতিমান আযহারী যারা অনার্স শেষ করে বর্তমানে দেশে ওয়াজ-নসিহত, তা’লিম তাদরিসসহ সমাজের নানাবিধ কার্যক্রম সুন্দরভাবে আন্জাম দিয়ে আসছেন৷

এখানে একটি লক্ষনীয় বিষয় হল, গোলাম মাওলা রনির মত কিছু সুবিধাবাদী হুজুগে লোক যারা সুযোগ পেলেই কওমী ওলামাদের ব্যাপারে বিরুপ মন্তব্য করেন। কাঠমোল্লা আর কম শিক্ষিত বলেন। আল-আযহার পড়ার উপদেশ দেন। তারা যেন চোখ মেলে দেখেন- কওমী আলেমরা শুধু দেওবন্দেই পড়েন না, আল-আযহারেও সর্বাধিক হারে পড়েন।

যা ইতিপূর্বে উল্লেখিত বাংলাদেশীদের আযহার পড়ার ইতিহাস দেখলে প্রমাণিত হয়। এপর্যন্ত কয়জন কওমীর সন্তান আযহার থেকে পিএইচডি করেছেন, এমফিল গবেষণা করেছেন এবং বর্তমানে কয়জন করছেন, আর কওমী ছাড়া অন্যরা কয়জন করছেন। অতএব অজ্ঞদেরকে বলব; আগে সঠিক তথ্য জানুন পরে কথা বলুন।

পরিশেষে দেশের আলেম-ওলামা ও আপামর জন-সাধারণের কাছে উদাত্ত আহবান থাকবে, আসুন আযহারের ইতিহাসটুকু ভালোভাবে জানার চেষ্টা করি। আযহারের মানহায কী? এর শিক্ষা কারিকুলাম কী? তখনই আপনি জানতে পারবেন প্রকৃত আযহারী কারা। আর আযহারের ট্যাগ লাগিয়ে নিজের বিকৃত মানসিকতার প্রসার ঘটাচ্ছে কারা।

অতএব, কোনো ব্যক্তির ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে ঢালাওভাবে আযহারকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং সকল আযহারী ভাইদের সমিপে বিনীত অনুরোধ থাকবে, আমরাও আযহারের মানহাযবিরোধী বিতর্কিত বিষয়গুলো পরিহার করি। ব্যক্তিস্বার্থের জন্য আযহারকে কুলষিত না করি৷ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন৷ সঠিক মত ও আদর্শের আলোকে জীবন পরিচালনার তৌফিক দিন৷ আমিন৷

লেখক : আবু হানিফ সাদী আল-আযহারী। ত্রৈধ মাস্টার্স, হাদিস, ফিকহ এবং আরবি সাহিত্য। বর্তমান এমফিল গবেষক আরবি সাহিত্য অনুষদ। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় মিশর ৷

তথ্যসূত্র:

  • 1. الأزهر جامعا وجامعة
  • 2. مطالعة الأزهر
  • 3. أهل السنة و الجماعة
  • 4. المناهج الأزهرية
  • 5. دليل معلمة المناهج الأزهرية
  • 6. كتب التوحيد التي يعتمد عليها الأزهر
  • 7. الكتب المقررة العقائدية للمعاهد الأزهرية وجامعاتها
  • 8. مجلات الشهرية الأزهرية
  • 9. من محاضرات فضيلة الإمام الأكبرشيخ الأزهر أحمد
  • الطيب حفظه الله و رعاه

এইচআর/সম্পাদনা/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন