এই আকাশ অচেনা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২০

‘আকাশ কত সুন্দর তাইনা?’। কী চমৎকারভাবে নীল আকাশে শুভ্র মেঘমালা সেজে বসে আছে। যেন শীতের সাজেকের কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়। সাদা মেঘ পাহাড়ের পরে নীলাভ অংশ ঠিক যেন কংলাকের চূড়ায় দাঁড়িয়ে নিকটবর্তী দূরের ভারতের মিজোরামের পাহাড়ের মতো।

কংলাকে দাঁড়িয়ে অবশ্য যেই দৃশ্য দেখা যায় তাতে মিজোরামের পাহাড় এরকম নীল দেখায় না। সেটা আরেকটু কালচে রঙের দেখায়।

লকডাউনের আকাশ, মিরপুর-১, ছবি: এমআই ৮ লাইট

তো যাই হোক, এই শহরের আকাশ এতোটা সুন্দর হয়তো কখনো দেখিনি। যতোটা দেখেছি আজকে ইফতারের আগে ছাদে গিয়ে। দেখবোই বা কী করে? এই শহর এতোটা নির্জীব কখনো হয়নি। অবশ্য একটা সময় ছিলো এই শহরের অলিতে-গলিতে পাখিদের কিচিরমিচির শোনা যেতো। কুকিলের কুহুতানে ঘুম ভাঙতো নগরের বাসিন্দাদের।

ঝিঁঝিঁদের গুঞ্জরণের আওয়াজে মন মাতোয়ারা হয়ে দিগন্তে ছুটোছুটি করতো। সেসব এখন শুধুই সাহিত্যের পাতায় থাকা রুপকথার গল্প। আর বড়জোড় দাদা-দাদির মুখের গল্প হতে পারে। আমি অন্তত জন্মের পর থেকে এই শহরের নির্জীব-নির্লিপ্ততা আর কখনো দেখিনি।

লকডাউনের আকাশ, মিরপুর-১, ছবি: এমআই ৮ লাইট

যা দেখেছি তা হলো, অপরিকল্পিত নগরের এবরো-থেবরো রাস্তায় জোড়াতালি দেওয়া গাড়ির অলিম্পিক রেস। বিকট আওয়াজ, কালো ধোঁয়া। অপরিচ্ছন্ন শহর। ধুলিমলিন মাখা চিরচেনা কিছু অসুখী মানুষ। যাদের জন্য প্রাণ কাঁদে অসমর্থতার অযোগ্যতার কারণে। আজকে ইফতারি আগ মূহুর্তে ছাদে উঠে সুন্দর-সুনির্মল আকাশ দেখে মনে পড়ছে অতিসম্প্রতি হওয়া অতীতের দিনগুলো। স্মৃতিতে ভাসছে এক ঝলক করে সেসব।

ইদানিং সেসবের কিছুই চোখে পড়ছে না। না কানে আসছে অসহনীয় বিকট আওয়াজ, না দেখছি ভিড় ঠেলে বাসে ওঠার হইহুল্লোড়। সেই চিরচেনা চিত্রগুলো চোখে না পড়ায় মিস করছি। যদিও সব সময় সেগুলোতে বিরক্ত হই আমরা। খুব ঝগড়াটে পিঠাপিঠি ভাইবোন কিংবা বন্ধু যখন দূরে সরে যায়,  দূরত্বের কারণে যখন ঝগড়া করা হয়ে ওঠে না তখন ওই ঝগড়াটাই মিস করে সবাই। আমিও তেমনই এই অচেনা শহরের পুরনো দিনগুলি মিস করছি। তবে নির্মল আকাশটা সুন্দর ছিলো………

আবিদা মুমতাহিনা
শিক্ষার্থী
৫.৫.২০, মঙ্গলবার, মিরপুর-১, ঢাকা

মন্তব্য করুন