নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের দুয়ারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন সারা হোসেন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২০

করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো অঙ্গরাজ্য। এ অবস্থায় গৃহবন্দি নিজ দেশের প্রবাসী নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের সারা হোসেন।

সারা হোসেন নিজের ফেসবুকে বাংলাদেশি নিউইয়র্কে বসবাসরত বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য চলমান তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিবরণ দেন।

তিনি জানান, ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশিরাও বাধ্য হয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে আছে। একরকম বন্দি অবস্থায় কর্মচঞ্চল মানুষগুলো ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছে। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে সম্প্রতি দেশ থেকে আসা নতুন অভিবাসীরা।

সারা হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসে এ মহামারী মোকাবেলা করতে হবে তা হয়ত একবারের জন্যও ভাবেননি তারা। যারা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে এসেছেন এসব পরিবারের সদস্যরাই বেশি আর্থিক কষ্টে আছেন। ওদের কাছে নেই বাড়িভাড়া ও সংসার চালানোর মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ ডলার, পাচ্ছেন না রাষ্ট্র ঘোষিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও। সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের কথা চিন্তা করে এগিয়ে এসেছেন তিনি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের এ ভয়াবহতায় বাংলাদেশি ভাই-বোনদেরকে সহযোগিতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের যাদের সমস্যা শুধু আমাকে কল দিয়ে ঠিকানা জানিয়ে দিন, অথবা ফেসবুক মেসেঞ্জারে ঠিকানা দিন। আমি আপনাদের বাসার সামনে পণ্যসামগ্রী রেখে আসবো।

এমনকি ফ্যামিলি প্যাকেজ হিসেবে শিশুদের দুগ্ধজাত পণ্য, জরুরি ওষুধ সামগ্রী, পিডিয়ালাইট, গ্লোভস ও মাস্কসহ একটি প্যাকেট মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন মানুষের প্রয়োজন ততদিনই আমি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস পৌঁছে দেব।

সারা হোসেন নিজ উদ্দ্যেগে নিউইয়র্কে বিপদগ্রস্থ বাংলাদেশির মানুষের কল্যানে এ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। এবং তিনি বর্তমানে করোনার এই পরিস্থিতিতে কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটি হস্পিটালে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান বিশেষ করে শিশুসন্তানদের নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। একটু জ্বর, কাশি ও সর্দি হলেই ভাবেন হয়তা কিছু একটা হয়ে গেছে। বিপদগ্রস্থ মানুষের জন্য আমি চব্বিশ ঘণ্টা টেলিমেডিসিন সেবা চালু রেখেছি।

/এসএস

মন্তব্য করুন