আলোচিত গ্রাহাণুটি কাল পৃথিবী অতিক্রম করতে পারে

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

বেশ কয়েক মাস আগেই ‘অ্যাস্ট্রয়েড ৫২৭৬৮’ নামে আলোচিত একটি গ্রাহাণুর খবর দিয়েছিলো নাসা। এটিকে অনেকাংশেই উদ্বেগজনক ও বিপদসঙ্কুল হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো মাহাকাশ গবেষকরা। করোনাভাইরাসের মাঝে ‘ভয়ংকর’ এই গ্রহাণুর খবর নিয়ে তোলপাড় ছিলো বিজ্ঞানীদের মধ্যে।

নাসার হিসেব অনুসারে আগামীকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) একেবারে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ থেকে প্রবাহিত হয়ে যাবে এটি। এ গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর ধাক্কা লাগলে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। এমনকি সুনামী, ভূমিকম্প ও প্রবল ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে নাসা। খবর আর্থ স্কাইর।

এরই মধ্যে আজ থেকে ডেডলাইনে আছে বিজ্ঞানীরা। সময় যতই গড়াচ্ছে বিজ্ঞানী মহলে ততোটাই উদ্বেগ বাড়ছে। গতি বেড়ে ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৩১৯ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে বিশাল এই গ্রহাণুটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে কয়েকগুণ বড়। পৃথিবীর কোনো অংশে যদি এটি আঘাত হানে তাহলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে।

অনেকদিন ধরেই গ্রহাণুটির ওপর নজর রাখছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। তারা এর নাম দিয়েছেন ‘অ্যাস্ট্রয়েড ৫২৭৬৮’। নাসা জানিয়েছে, বিশাল এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর ৬৩ লাখ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসবে, যা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের প্রায় ১৬ গুণ। আর নাসার এই ঘোষণার পরই বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে এক ধরণের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গ্রহানুটি যদি পৃথিবীর এত দূর দিয়ে চলে যায়, তাহলে ভয় কীসের? এর জবাবে নাসা জানিয়েছে, মহাকাশ বিজ্ঞানে এই দূরত্বটিকে খুব বেশি বিবেচনা করা হয় না! শেষ মুহূর্তে যদি কোনো কারণে এর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়, সেজন্যই সম্ভাব্য ক্ষতিকর বলা হচ্ছে। এই সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

আনুমানিক ১.১ থেকে ২.৫ মাইল ব্যাস বিশিষ্ট এই গ্রহাণুটি ঘণ্টায় ২০ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ দিয়ে ধেয়ে যাবে বলে প্রথমে জানিয়েছিলো বিজ্ঞানীরা। যে গতি এখন প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার বেড়েছে।

তবে স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে এলেও এর প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করছেন। তাদের মতে কালই পৃথিবীর ‘ভাগ্য নির্ধারণ’। একই সঙ্গে পৃথিবীর কিছু জায়গা সাময়িক সময়ের জন্য সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে মনে করছেন কয়েকজন বিজ্ঞানী।

নাসাসহ পৃথিবীর অনেক বিজ্ঞানীদের দাবি, ৬.৬ কোটি বছর আগে মেক্সিকোর উত্তরে একটি বিশালাকায় গ্রহাণু এসে পড়েছিল। তাতেই বিশাল সংখ্যক ডাইনোসরের মৃত্যু হয়েছিল। আর যে ধুলোর ঝড় উঠেছিল, তাতে ঢেকে গিয়েছিল পুরো পৃথিবী। যার ফলে পরের দশ বছর প্রায় পৃথিবীতে সূর্যালোক সেভাবে পৌঁছায়নি।

উল্ল্যেখ্য : মহাকাশ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের সব সতর্কতা সব সময় সঠিক হয় না। প্রস্তুতিমূলক ব্যাবস্থার অংশ হিসেবে তারা এসব নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে থাকেন।

আর্থস্কাই অবলম্বনে।

মন্তব্য করুন