সাহরীতে যা যা খাবেন

প্রকাশিত: ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০

রমজান মাসের সাহরী হলো বরকতময় একটি খাবার। রাসূলুল্লাহ সা. সাহরি খেতে উৎসাহিত করেছেন। সাহরী খাওয়ার জন্য আলাদা সওয়াবও রয়েছে। সাধারণত রোজাদাররা সাহরী খেয়েই রোজা রাখেন।

সাহরিতে খাবারের প্রতি সতর্কতা জরুরী। নয়ত অবশ্যই সারাদিনের অভুক্ত থাকাটা কষ্টের হয়ে দাড়ায়। তৈলযুক্ত খাবারসহ অনেক কিছুই একটু সতর্কতার সাথে খেতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে সাহরীতে যা যা খাওয়া উচিত।

১. খেজুর- সাহরীর সময় অন্তত এক থেকে দুটি খেজুর খান। এ ছাড়া রোজা ভাঙার সময় অর্থাৎ ইফতারেও খেজুর খান। খেজুরের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ফ্রুকটোজ। এ ছাড়া এতে রয়েছে অনেক আঁশ। এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

২. প্রচুর আঁশসমৃদ্ধ খাবার- যেসব খাবার প্রচুর পরিমাণ আঁশসমৃদ্ধ সেগুলো শোষণ করে নিতে শরীর বেশি সময় নেয়। ফলশ্রুতিতে রোজা রাখা অবস্থায় অতিরিক্ত সময়ের জন্য শরীর থাকে শক্ত সামর্থ্য এবং ক্ষিদে পায় কম। কলা, আম, গাজর, আপেল, বাদাম, ডাল হতে পারে আঁশ সমৃদ্ধ খাবারের উদাহরণ।

৩. ফল ও সবজি- সাহরীর সময় ফল ও সবজি খান। ফল ও সবজির মধ্যে রয়েছে আঁশ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন। এগুলো শরীরের জন্য জরুরি।

৪. কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার- রোজা রাখা অবস্থায় আপনার দেহে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট এর জুড়ি নেই। এই উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সাহরীতে পরিমিত পরিমাণ ভাত, আলু, কর্ণ সূপ কিংবা দুধজাতীয় খাবার রাখুন।

৫. চর্বি ছাড়া মাংস- চর্বি ছাড়া মাংস সাহরীতে খাওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে মুরগির মাংস খেতে পারেন। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা অনেকটা পূরণ হবে।

৬. পর্যাপ্ত পরিমানে পানি- সাহরীতে উঠে কিছুক্ষন পর পর পানি পান করুন। রোজা রেখে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট গ্লাস পানি পান করা উচিৎ। এটা আপনার হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং এই পদ্ধতিতে আপনি পানিও খেতে পারবেন বেশি পরিমাণে। তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

৭. স্যুপ- সাহরীর সময় খাবার খাওয়া শুরু করুন স্যুপ দিয়ে। এমনকি ইফতারেও খেতে পারেন স্যুপ। এটি কেবল দেহকে আর্দ্র রাখবে না, শক্তি ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।

৮. ডিম- ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। যা খেলে মাংসপেশি থাকবে শক্তিশালী এবং আপনি পাবেন সারাদিন রোজা রাখার মত প্রয়োজনীয় শক্তি।

৯. পানি সমৃদ্ধ ফল এবং সবজি- যেসব ফলে প্রচুর পরিমাণ পানি রয়েছে সেগুলো খেলে পানি তৃষ্ণা কম পাবে। দেহের পানিশূন্যতা পূরণে সেহরি তে খেতে পারেন তরমুজ, আপেল, তাল কিংবা কমলা।

১০. কম ফ্যাট সমৃদ্ধ দুধ- কম ফ্যাট সমৃদ্ধ দুধ শরীরের জন্য উপকারি। সাহরীতে এক গ্লাস দুধ হতে পারে আপনার সারাদিনের চালিকা শক্তি। সাশ্রয়ী মূল্যে বিশুদ্ধ দুধ পেতে পারেন এখানে।

সাহরীতে যা যা খাবেন নাঃ

১. ক্যাফেইনড ড্রিংকসঃ বিরত থাকুন চা, কফি খাওয়া থেকে। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় আপনার তৃষ্ণা এবং শরীরের তাপমাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিবে।

২. ভারী এবং অধিক পরিমাণ খাবারঃ রোজা রাখা অবস্থায় যেনও ক্ষুধা না লাগে, এজন্য অনেকেই সাহরীতে অনেক ভারি খাবার খেয়ে থাকে, যা কখনোই করা উচিত নয়। এটা করলে আপনার পাকস্থলীর উপর পড়বে অতিরিক্ত চাপ, এমনকি হতে পারে হজমজনিত সমস্যা।

৩. পরিহার করুন মাত্রাতিরিক্ত পানি পানঃ আপনি জেনে অবাক হতে পারেন, সাহরীতে অনেক বেশি পানি পান ডেকে আনতে পারে হজমজনিত সমস্যা। তবে এটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কতটুকু গ্রহণ করে অভ্যস্ত তার উপর।

৪. লবণযুক্ত খাবারঃ পরিহার করুন অতিরিক্ত লবণ যুক্ত খাবার। কারন এ জাতীয় খাবার খেলে দেহে পানিশূন্যতা তৈরি হয়।

৫. বেভারেজ ড্রিংকঃ এনার্জি ড্রিংক, কার্বনেটেড ড্রিংক এবং সোডা জাতীয় পানীয়। এগুলো এসিডিটি বাড়িয়ে দেয়। সুগার ড্রিংক, চা ও কফি যতটা সম্ভব কম পান করতে হবে।

এছাড়াও সাহরির পাশাপাশি ইফতারিতেও আমাদের খাদ্য গ্রহণে সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন : যেমন ছিলো রসুল স. এর ইফতার : যা খাবেন ইফতারে

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন