যেমন ছিলো রাসূল সা. এর ইফতার : যা খাবেন ইফতারে

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০
যা যা খাবেন ইফতারে। ছবি : পাবলিক ভয়েস।

রমযান মাস চলছে। ইফতারী রমযানের অন্যতম অনুসঙ্গ। সারাদিন অভূক্ত থেকে ইফতারীতে খাবারের বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে অধিক তেলযুক্ত খাবার ইফতারীতে এড়িয়ে চলা উচিত।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর ইফতারী কেমন ছিলো এ বিষয়ে কয়েকটি হাদীস বর্ণনার পর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যেসব খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন তা উল্লেখ করা হলো-

– রাসূল সা. খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করতেন। সালমান ইবনে আমীর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে যেন ইফতার করে, খেজুর না হলে পানি দিয়ে; নিশ্চয় পানি পবিত্র। (আহমাদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও দারেমি শরিফ; আলফিয়্যাতুল হাদিস : ৫৬২, পৃষ্ঠা : ১৩১-১৩২)।

– আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘নবী (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’ (সুনানে তিরমিজি; রোজা অধ্যায় : ৬৩২)

– অন্য হাদীসে ভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (সা.) (মাগরিবের) নামাজের আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর পাওয়া না যেত, তবে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আর যদি শুকনো খেজুর পাওয়া না যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করতেন। (আহমাদ, হাদীস নম্বর : ৩/১৬৪)

– অনতিবিলম্বে ইফতার করা মহানবী (সা.)-এর সুন্নত। রাসুল (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিস থেকে ও সাহাবিদের আমল থেকে এমনটাই প্রমাণ হয়। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যতদিন মানুষ অনতিবিলম্বে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮২১; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৩৮)

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইফতারীতে যেসব খাবার খাওয়া উচিত-

ইফতারে রাখতে হবে বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার। এটি সহজে পরিপাক হবে; হজম, বিপাক হয়ে শরীরের জন্য দ্রুত শক্তি দেবে। শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করবে, ক্লান্তি ভাব দূর করতে কাজ করবে।

১. খেজুর : ইফতারীর জন্য খেজুর হলো সবচেয়ে আদর্শ খাবার। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো – রাসুল স. খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে- খেজুর হলো ফ্রুকটোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে বলা হয় চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। আছে প্রচুর ভিটামিন বি, যা ভিটামিন বিসিক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

২. পানি : ইফতারীতে পানি পান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিমিতভাবে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করে পানি পানে। এই অভ্যাস মলাশয়কে ঠিকঠাক ও সচল রাখতে সাহায্য করে। পরিপাক ক্রিয়া থেকে সঠিকভাবে নানা পুষ্টি উপাদান গ্রহণে শরীরকে সাহায্য করে। ভালো হজমশক্তি নিজ থেকেই অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে আসে। ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকে। রক্ত থেকে টক্সিন ও বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান দূর করতে পানি সাহায্য করে। নতুন রক্তকোষ ও মাসল সেল জন্মানোর প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করে পানি।

৩. মৌসুমি ফল : যে কোন মৌসুমি ফল ইফতারীর জন্য উপকারী খাবার। কলা, আমসহ সব ধরনের মৌসুমি ফল খেতে পারেন ইফতারীতে।

৪. কাঁচা সবজি : ইফতারে কাঁচা সবজি, বিশেষ করে শসা, টমেটো, গাজর, ক্ষীরা, কাঁচা ছোলাও খেতে পারেন। এসব তাজা সবজিতে ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে। এগুলো পানির ঘাটতি দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৫. নিজস্ব তৈরি খাবার : ইফতারীতে বাহিরের খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। চিড়া, দই, কলা ইফতারের জন্য খুব ভালো। এটি শর্করা, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করে খাবার হজম, পরিপাক ও বিপাকে সাহায্য করে। ইফতারে ডিম হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। এ ছাড়া বাসায় বানানো মিষ্টিজাতীয় খাবার রাখতে পারেন।

ইফতারে যেসব খাবার খাবেন না –

ইফতারে বেশি তৈলাক্ত খাবার খাবেন না। ভাজাপোড়া পরিহার করুন। পোড়া তেলে রান্না করা প্রচলিত বেগুনি ও পেঁয়াজু সব সময় এড়িয়ে যাবেন। তেলে ভাজা এসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তেল বারবার গরম করলে ক্ষতিকর পলিনিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়। এর মধ্যে থাকে বেনজোপাইরিন। এটি ক্যানসার তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন।

এছাড়াও বেভারেজ বা এনার্জি ড্রিংকস জাতীয় কোন পানীয় খাবেন না। এগুলো পেটের অসুখ বৃদ্ধি করে এবং পরিপাকনালী ক্ষতিগ্রস্থ করে।

আরও পড়ুন : সেহরীতে যা খাবেন, যা খাবেন না

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন